• সিজেপি ও এনপিএফ, অনলাইনে রাজনৈতিক লড়াই
    বর্তমান | ২১ মে ২০২৬
  • নয়াদিল্লি: জোট, ফ্রন্ট, গোষ্ঠী, বিদ্রোহী শিবির পেরিয়ে ভারত সম্ভবত ‘জৈবিক বৈচিত্র্যে’র রাজনীতির যুগে প্রবেশ করে ফেলেছে! নেপথ্যে জোড়া অনলাইন ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক সংগঠন। আরশোলা বা ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) এবং ন্যাশনাল প্যারাসাইটিক ফ্রন্ট (এনপিএফ)। অনলাইনে তাদের আগমন উল্কার গতিতে। একাধারে রয়েছে পুরোদস্তুর লোকসভা ভোটের প্রচারসুলভ সিরিয়াসনেস। মোদ্দা কথা, দু’টি সংগঠনই নিজেদের ব্যঙ্গ বা স্যাটায়ার হিসাবে তুলে ধরছে। কিন্তু নেপথ্যের দেওয়াল লিখন স্পষ্ট, সাধারণ জনতার চেপে রাখা হতাশা।

    সবকিছুর সূত্রপাত দেশের প্রধান বিচারপতির তথাকথিত একটি বিতর্কিত মন্তব্য। অভিযোগ, তিনি বেকার যুবকদের একটা অংশকে আরশোলার মতো পোকামাকড় ও পরজীবীর সঙ্গে তুলনা করেন। এর বিরুদ্ধে অনলাইনে তুমুল ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। আর সেই ক্ষোভ থেকেই সোশ্যাল মিডিয়া ইউজাররা ‘সংগঠিত’ হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তবে মাঠে-ময়দানে বা রাস্তাঘাটে নয়, বরং তা প্যারোডি-সংগঠন। ফলস্বরূপ, ভারতের প্রথম পুরোদস্তুর ‘সন্ধিপদ নেতৃত্বাধীন’ রাজনৈতিক বাস্তুতন্ত্রের জন্ম নেয়। আত্মপ্রকাশ করে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। আত্মবর্ণনায় তারা বলছে, ‘অলস ও বেকারদের কণ্ঠস্বর’। সদরদপ্তর কোথায়? যেখানে যেখানে ওয়াইফাই কাজ করে, সর্বত্রই। অফিসিয়াল ওয়েবসাইটটি রাজনৈতিক পোর্টাল কম বরং ইস্তাহারের ছদ্মবেশে জেন-জি স্টার্ট-আপ সুলভ। প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। তিনি বর্তমানে বস্টনে জনসংযোগ বিষয়ে স্নাতকোত্তরের পড়াশোনা করছেন। এই পলিটিকাল কমিউনিকেশন স্ট্র্যাটেজিস্ট গত ১৬ মে সিজেপি নামক এই অনলাইন ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক গ্রুপটি তৈরি করেন। মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর পার্টির ফলোয়ার সংখ্যা ১০ লক্ষ ছাড়িয়েছে। সেই দলে রয়েছে মহুয়া মৈত্র ও কীর্তি আজাদের মতো নামও। প্রধান বিচারপতির বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে অনলাইন রসিকতা দিয়ে যা শুরু হয়েছিল, তা শেষ পর্যন্ত ভাইরাল রাজনৈতিক আন্দোলনের রূপ নিয়েছে। অভিজিতের বক্তব্য, কখনও ভাবিনি এতটা সাড়া মিলবে।  এই সমর্থন ‘সম্পূর্ণ জৈবিক’। শুরুতে অভিজিৎ লিখেছিলেন, ‘সব আরশোলা জোটবদ্ধ হলে কী হবে?’ তাঁর এই সামান্য এক প্রশ্নই ইন্টারনেটে আন্দোলনের চেহারা নিয়ে নিয়েছে। সিজেপির ওয়েবসাইট খোলাখুলি স্বীকার করছে, এটি স্যাটায়ার প্রোজেক্ট। তবে তাদের ‘নকল ইস্তাহার’ সুকৌশলে বাস্তব রাজনৈতিক প্রত্যাশাগুলিকে তুলে ধরছে। কী সেগুলি? সিজেপি বলছে, কোনো বিচারপতি অবসরের পর রাজ্যসভার সদস্য হতে পারবেন না। বৈধ ভোটার বাদ গেলে কঠোর ব্যবস্থা। মহিলাদের জন্য ৫০ শতাংশ সংরক্ষণ এবং তা মন্ত্রিসভার জন্যও প্রযোজ্য। মিথ্যা তথ্য ছড়ালে মিডিয়ার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ। বিধায়ক বা সাংসদরা দলত্যাগ করলে তাঁর ভোটে লড়ার উপর দীর্ঘ নিষেধাজ্ঞা আরোপ।

    সিজেপির মতোই উল্কাগতিতে উত্থান ‘ন্যাশনাল প্যারাসাইটিক ফ্রন্ট’ বা এনপিএফ-এর। তাদের বার্তায় ‘পরজীবীদের’ ভেঙে পড়া ব্যবস্থার মধ্যে টিকে থাকা নাগরিক হিসাবে তুলে ধরা হয়েছে— যা অভিজাত রাজনৈতিক বাগাড়ম্বরের প্রতি শ্লেষাত্মক প্রত্যুত্তর। 
  • Link to this news (বর্তমান)