‘সংকটে দেশ, আর প্রধানমন্ত্রী বিদেশে গিয়ে টফি বিলোচ্ছেন’, মোদির ইতালি সফর নিয়ে তোপ রাহুল গান্ধীর
বর্তমান | ২১ মে ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: পেট্রল থেকে পাউরুটি। পশ্চিম-এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির ‘কুমিরছানা’ দেখিয়ে দেশে রোজ বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম। আর প্রধানমন্ত্রী ঘুরছেন বিদেশে। সমালোচনার ঝড় বইছে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সাধারণের আলোচনায়। দেশ ক্রমশ সংকটের দিকে যাচ্ছে বলেই বিরোধীদের দাবি। অথচ সেসব ভ্রুক্ষেপ না করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইতালি সহ নরওয়ে থেকে নেদারল্যান্ডস, পাঁচ দেশে ঘুরছেন। খোশমেজাজে ইতালির মহিলা প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিকে উপহার দিচ্ছেন টফি (চকোলেট)। আর সেই ছবি খোদ ভাইরাল করেছেন ম্যাডাম মেলোনি। তার জেরে মেলোনি ও মোদি, উভয়ের ইংরেজি নামের আদ্য ও শেষাক্ষর দিয়ে চকোলেটের নাম নিয়ে চলছে মস্করা থেকে মাতামাতি। তোপ দেগেছেন রাহুল গান্ধীও। কটাক্ষের সুরে বলেছেন, ‘অর্থনৈতিক ঝড়ের মুখে দেশ। আর প্রধানমন্ত্রী ইতালিতে টফি বিলি করছেন! একদিকে (মূল্যবৃদ্ধির মারে) কৃষক, যুবক, মহিলা, শ্রমিক আর ছোটো ব্যবসায়ীরা কাঁদছেন, আর অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী হেসে হেসে রিল বানাচ্ছেন। তা দেখে বিজেপি নেতারা আবার তালি বাজাচ্ছেন।’ রাহুলের মন্তব্য, ‘এটা নেতৃত্ব নয়, নিছক নাটক।’ উত্তরপ্রদেশের রায়বেরিলিতে সাংসদ হিসাবে ‘বহুজন স্বাভিমান সভা’ নামে এক অনুষ্ঠানে বুধবার রাহুল বলেছেন, ‘দেশকে বিক্রি করে দিচ্ছে মোদি, শাহ, বিজেপি এবং আরএসএস। ওরা গদ্দার।’ রাহুলের আক্রমণ, ‘সাধারণ মানুষকে সোনা কিনতে বারণ করছেন প্রধানমন্ত্রী। বৈদ্যুতিক গাড়ি ব্যবহার করতে, বিদেশ সফর কমাতে বলছেন। অথচ নিজে কোটি টাকার বিলাসবহুল বিমানে বিদেশ সফর করছেন। পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনের আগে সরকার বলেছিল, তেল-গ্যাসের কোনো ঘাটতি হবে না। দামও বাড়বে না। তাহলে এখন কী হচ্ছে? আসলে মোদি-শাহ, বিজেপি-আরএসএস সংবিধান বদলাতে চায়। দেশ বিক্রি করতে চায়।’
কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গেও হয়েছেন খড়্গহস্ত। সাংবাদিক সম্মেলন করে আক্রমণ চড়িয়েছেন মুখপাত্র পবন খেরা। খাড়্গে বলেছেন, ‘অর্থনৈতিক সংকটের মুহূর্তে দেশ যখন বিপদের দিকে এগচ্ছে, নরেন্দ্র মোদি তখন স্রেফ নিজের প্রচার চালাচ্ছেন।’ পবন খেরার তোপ, ‘গত ১২ বছরে কেন্দ্রীয় সরকার পেট্রলিয়াম পণ্যের উপর কর আর আবগারি শুল্ক থেকে ৪৩ লক্ষ কোটি টাকা আদায় করেছে। অথচ সাধারণ মানুষ কোনো স্বস্তি পায়নি। আর এখন প্রধানমন্ত্রী চকোলেট বিলি করছেন! এর চেয়ে নক্ক্যারজনক আর কী আছে?’
এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর ওই চকোলেট উপহারের জেরে শেয়ার বাজারে ঘটে গিয়েছে তাজ্জব ব্যাপার। চকোলেট কোম্পানির নামে শেয়ার বিক্রি বেড়ে গিয়েছে এক লাফে ৫ শতাংশ। অথচ মজার ব্যাপার হল, ওই চকোলেট কোম্পানি শেয়ার বাজারে রেজিস্টার্ডই নয়। অর্থাৎ তাদের কোনো শেয়ারই বিক্রি হয় না। আসলে একই নামের অন্য কোম্পানি মাঝখান থেকে ‘নেপো’র লাভ কুড়িয়ে নিয়েছে। রাজনৈতিক মহলের তাই কটাক্ষ, একেই কি বলে কাহানি মে টুইস্ট? নাকি, মোদি হ্যায় তো মুমকিন হ্যায়?