আলিপুরদুয়ার ও ফালাকাটা: সরকার বদল হতেই পুরভবনে গরহাজির কাউন্সিলাররা, হোঁচট খাচ্ছে পরিষেবা
বর্তমান | ২১ মে ২০২৬
সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: রাজ্যে সরকার বদলের পর আলিপুরদুয়ার ও ফালাকাটা দুই পুরসভার অনেক কাউন্সিলারই এখন নিয়মিত পুর অফিসে আসছেন না। এর জেরে পুর এলাকায় পরিষেবাতেও তার প্রভাব পড়ছে। দুই পুর এলাকায় নিকাশি ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়েছে। নিয়মিত বর্জ্য পরিষ্কার না হওয়ায় শহরের নালাগুলি বুজে গিয়েছে। নর্দমার জমা জলে মশা, মাছির উপদ্রব বেড়েছে। সামনেই বর্ষা। এদিকে, বাড়ছে গরমও। এই অবস্থায় দ্রুত নিকাশি নালা সাফাই ও বর্জ্য পরিষ্কার না হলে দুই শহরে ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়ার প্রকোপ শুরু হতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। স্বাস্থ্যদপ্তরও এই আশঙ্কার কথা ব্যক্ত করেছে। দপ্তর জানিয়েছে,চলতি বছরে ইতিমধ্যেই জেলায় ডেঙ্গুতে সাত জন ও ম্যালেরিয়াতে ৬১ জন আক্রান্ত হয়েছেন। স্বাস্থ্যদপ্তর মনে করছে, দ্রুত নিকাশি নালা পরিষ্কার ও বর্জ্য সাফাই না হলে পুর এলাকায় মশাবাহিত রোগ বৃদ্ধি পাবে।
জেলার উপমুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সুপ্রিয় চৌধুরী বলেন, জেলার ছ’টি ব্লকে ইতিমধ্যেই ডেঙ্গুতে সাতজন এবং ম্যালেরিয়ায় ৬১ জন আক্রান্ত হয়েছেন। কোথাও যাতে জলে জমে না থাকে সেদিকে সকলকে খেয়াল রাখতে হবে। বাড়ির আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। নইলে ডেঙ্গু বা ম্যালেরিয়ার প্রকোপ বাড়বে।
এদিকে,আলিপুরদুয়ার পুরসভার ২০টি ওয়ার্ডের মধ্যে তৃণমূলেরই ১৯ জন কাউন্সিলার। একজন কংগ্রসের। অন্যদিকে, ফালাকাটা পুরসভার ১৮টি ওয়ার্ডের ১৮ জন কাউন্সিলারই তৃণমূলের। রাজ্যে সরকার বদল হওয়ায় ৪ মে’র পর দুই পুরসভা অফিসে অনেক কাউন্সিলারই এখন গরহাজির। শুধু তাই নয়,পিঠ বাঁচাতে ফালাকাটা পুরসভার কয়েকজন কাউন্সিলার আবার জনপ্রতিনিধির পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার কথাও নাকি ভাবছেন। নিয়মিত পুরভবনে না আসাই শুধু নয়, অনেকে তো বাড়ি থেকে বের হওয়াই বন্ধ করে দিয়েছেন। যার ফলে শহরে নাগরিক পরিষেবায় প্রভাব পড়েছে।
যদিও আলিপুরদুয়ার পুরসভার চেয়ারম্যান প্রসেনজিৎ কর বলেন, ভোটে হেরে যাওয়ার জন্য দলীয় কাউন্সিলাররা মানসিকভাবে একটু ভেঙে পড়েছেন। তবে তাঁদের অনেকেই তো নিয়মিত পুর অফিসে আসছেন। আমি নিজেও নিয়মিত অফিসে আসছি। কোনো সমস্যা নেই। নালা ও বর্জ্য সাফাইয়ের কাজ রুটিন মাফিক চলছে। • রাস্তার ধারে জমেছে আবর্জনা। আলিপুরদুয়ারে তোলা নিজস্ব চিত্র।