• সরকারি চাকরির আশার আলো দেখছেন তিনবিঘা আন্দোলনের শহিদ পরিবারের সদস্যরা
    বর্তমান | ২১ মে ২০২৬
  • সংবাদদাতা, মেখলিগঞ্জ: দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে তিনবিঘা আন্দোলনের শহিদ পরিবারগুলির জন্য সরকারি চাকরির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বুধবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠকের পর এমনই দাবি করলেন মেখলিগঞ্জের বিধায়ক দধিরাম রায়। তাঁর বক্তব্য, শুধুমাত্র আশ্বাস নয়, শহিদ পরিবারগুলির চাকরির বিষয়টি বাস্তবায়নের দিকেই এগোতে চাইছে সরকার।

    বুধবার উত্তরকন্যায় প্রশাসনিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই বৈঠকেই তিনবিঘা আন্দোলনের শহিদ পরিবারগুলির বর্তমান পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেন মেখলিগঞ্জের বিধায়ক। তিনি জানান, বহু বছর ধরে অবহেলিত এই পরিবারগুলির পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ করা হয় মুখ্যমন্ত্রীর কাছে। এরপর মুখ্যমন্ত্রী বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে শোনেন এবং সরকারি চাকরির বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেন। পাশাপাশি, জেলাশাসককে বিধায়কের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন দধিরাম রায়। 

    এদিকে, সরকারি চাকরির সম্ভাবনার খবর সামনে আসতেই শহিদ পরিবারগুলির মধ্যে খুশির হাওয়া। পরিবারগুলির অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বামফ্রন্ট এবং তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের সময় নানা প্রতিশ্রুতি মিললেও বাস্তবে কোনো কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়নি। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রথমবার সরকারি চাকরির বিষয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপের আশ্বাস পাওয়ায় তাঁরা আশাবাদী। শহিদ সুধীর রায়ের ছেলে ভূপেন রায় বলেন, আমরা সত্যিই খুব খুশি। এতদিন শুধু প্রতিশ্রুতি শুনেছি। এবার যদি সরকারি চাকরি হয়, তাহলে শহিদ পরিবারগুলির দীর্ঘদিনের কষ্ট কিছুটা লাঘব হবে। এজন্য এলাকার বিধায়ক এবং মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই। উল্লেখ্য, কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ ব্লকের তিনবিঘা করিডর হস্তান্তরের প্রতিবাদে আন্দোলন করতে গিয়ে প্রাণ হারান তিন গ্রামবাসী। ১৯৮১ সালে শহিদ হন সুধীর রায় এবং ১৯৯২ সালে শহিদ হন ক্ষীতেন অধিকারী ও জীতেন রায়। আন্দোলনের সময় আহতও হয়েছিলেন বহু মানুষ। অভিযোগ, আন্দোলনের এত বছর পরেও শহিদ পরিবারগুলির আর্থিক ও সামাজিক অবস্থার বিশেষ উন্নতি হয়নি। শহিদ সুধীর রায়ের ছেলে ভূপেন রায় এবং শহিদ ক্ষীতেন অধিকারীর ছেলে পুলক অধিকারী বর্তমানে কর্মহীন অবস্থায় রয়েছেন। 

    এদিকে, শহিদ সুধীর রায়ের স্ত্রী বাসন্তী রায়ের শারীরিক অবস্থাও ভালো নয়। পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তাঁর বার্ধক্যভাতা বন্ধ রয়েছে। প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে যোগাযোগ করেও কোনো সমাধান মেলেনি বলে অভিযোগ পরিবারের। ফলে সরকারি চাকরির সম্ভাবনার খবর তাঁদের কাছে নতুন আশার আলো হয়ে উঠেছে।
  • Link to this news (বর্তমান)