আত্রেয়ীর বাঁধ নির্মাণে দুর্নীতির ফাইল খোলা হবে, দাবি বালুরঘাটের বিধায়কের
বর্তমান | ২১ মে ২০২৬
সংবাদদাতা, বালুরঘাট: আত্রেয়ী নদীর জল ধরে রাখার জন্য প্রায় ৩২ কোটি টাকা খরচ করে বালুরঘাট শহরে নির্মিত করা হয়েছিল স্বল্প উচ্চতার বাঁধ। একবছরের মধ্যে সেই বাঁধ ভেঙে পড়ায় দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম ধরা পড়তেই তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে বাঁধ নির্মাণে যুক্ত সেচদপ্তরের ছয় ইঞ্জিনিয়ারকে সাসপেন্ড করা হয়। বালুরঘাট থানায় এনিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়েরও হয়েছিল। কিন্তু গত একবছর ধরে ভাঙা অবস্থায় পড়ে রয়েছে বাঁধ। দুর্নীতির তদন্তের গতিও বাড়েনি। পালাবদলের পর এবার বাঁধ নির্মাণে দুর্নীতির ফাইল খুলতে চলেছে। এই উদ্যোগ নিয়েছেন বালুরঘাটের নবনির্বাচিত বিধায়ক বিদ্যুৎ রায়। আত্রেয়ী বাঁধের দুর্নীতি এবং সমস্যা নিয়ে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে লিখিতভাবে জানালেন বিজেপি বিধায়ক। গেরুয়া শিবিরের আশা, বাঁধ নির্মাণে যে দুর্নীতি হয়েছে, তার পর্দাফাঁস হবে। বালুরঘাটের বিধায়ক বলেন, অপরিকল্পিতভাবে বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছিল। যার ফলে নানা ধরনের সমস্যা হচ্ছে। ওই বাঁধ সংস্কার এবং অন্য কোথাও তৈরি করা যায় কিনা, তা পর্যালোচনা করে দেখার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। বিধায়কের সংযোজন, বাঁধ নির্মাণে নানা অনিয়ম হয়েছিল। সেই দুর্নীতির তদন্ত হয়নি। এই বিষয়টিও দেখার জন্য অনুরোধ করেছি। সেচদপ্তর সূত্রে খবর, ২০২১ সালের নভেম্বর মাসে বালুরঘাটে আত্রেয়ী নদীতে বাঁধের কাজ শুরু হয়। শেষ করতে ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাস লেগে যায়। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে আত্রেয়ীতে তেমন জল ছিল না। তাসত্ত্বেও বাঁধের একাংশ ভেঙে যায়। ২০২৫ সালের ২০ মে ফের ওই বাঁধের একেবারে কংক্রিট ও স্লুইস গেট ভেঙে পড়ে। এনিয়ে হইচই পড়ে গিয়েছিল বালুরঘাটে। সুর চড়িয়েছিলেন বালুরঘাটের সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। এরপরই তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তদন্তের নির্দেশ দেন। বাঁধ নির্মাণকাজে যুক্ত ইঞ্জিনিয়ারদের শোকজ করা হয়। জেলার দু’জন এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার,দু’জন অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার এবং দু’জন জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ারকে সাসপেন্ড করা হয়। জেলার এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ারের মাধ্যমে বালুরঘাট থানায় লিখিত অভিযোগও দায়ের করা হয়েছিল। বাঁধ খতিয়ে দেখতে রাজ্যের সেন্ট্রাল ডিজাইন অফিসের টিম এসেও পরিদর্শন করেছিল। নতুনভাবে ডিজাইন করে বাঁধ নির্মাণের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু গত একবছরে ভাঙা অবস্থাতে পড়ে রয়েছে বাঁধ। এদিকে, বর্ষার আগেই আতঙ্ক বাড়ছে আত্রেয়ী পাড়ে। কারণ, বাঁধের মেরামত না হওয়ায় আত্রেয়ীর দুই পাড় প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন স্থানীয়রা। এলাকার বাসিন্দা উৎপল হালদার বলেন, বাঁধ নির্মাণে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। সঠিক তদন্ত হলে দোষীদের চিহ্নিত করা যাবে।