সংবাদদাতা, দেওয়ানহাট ও শীতলকুচি: আবাস যোজনায় ঘর দেওয়ার নামে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগে কোচবিহার জেলায় তৃণমূল নেতাদের বাড়ির সামনে গ্রামবাসীদের ক্ষোভ-বিক্ষোভ অব্যাহত। বুধবারও টাকা ফেরতের দাবিতে সিতাইয়ের চামটা গ্রাম পঞ্চায়েতের উত্তর সাতভাণ্ডারীর ৮৩ নম্বর বুথের তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য তাপস বর্মনের বাড়ির সামনে বিক্ষোভ দেখান একাংশ বাসিন্দা। একই অভিযোগে শীতলকুচি ব্লকের ছোট শালবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের নগর নেপড়া গ্রামে তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্য ও বুথ সভাপতির বাড়ির সামনে বিক্ষোভ দেখান এলাকাবাসী। এমন ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলিতে ছাড়াচ্ছে উত্তেজনা।
অভিযোগ, আবাস যোজনার ঘর দেওয়ার নাম করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তৃণমূলের গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য তাপস বর্মন। সেই টাকা ফেরতের দাবিতেই এদিন পঞ্চায়েত সদস্যের বাড়িতে এসে বিক্ষোভ দেখান বুথের বাসিন্দারা। যদিও বাড়িতে ছিলেন না অভিযুক্ত পঞ্চায়েত সদস্য। তাঁর স্ত্রী ঊষারানি বর্মন টাকা ফেরতের আশ্বাস দিলে গ্রামবাসীরা সেখান থেকে চলে যান।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, তাপস বর্মন বছর খানেক আগে এলাকার অন্তত শ’দেড়েক মানুষের কারো কাছ থেকে ১০ হাজার, কারো কাছ থেকে ১৫ হাজার আবার কারো থেকে ২০ হাজার পর্যন্ত টাকা তুলেছেন। বিধানসভা ভোটের ফলাফল প্রকাশের পরেই বিপদের গন্ধ পেয়ে তাপস বর্মন বাড়ি ছেড়ে গা ঢাকা দিয়েছেন। এদিন সকাল ১০টা নাগাদ শতাধিক গ্রামবাসী পঞ্চায়েত সদস্যের বাড়ির সামনে এসে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। খবর পেয়ে সিতাই থানার পুলিশ চলে আসে। তাপস বর্মনের স্ত্রী ঊষারানি বলেন, আমার বিষয়টি জানা নেই। যদি এরকম কিছু হয়ে থাকে, তাহলে টাকা ফিরিয়ে দেওয়া হবে। তাঁর দাবি, নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকে স্বামী বাড়িতে নেই। তিনি বেঙ্গালুরুতে রয়েছেন।
অন্যদিকে, সরকারি ঘরের জন্য টাকা নেওয়ার অভিযোগ তুলে শীতলকুচির ছোট শালবাড়ি পঞ্চায়েতের নগর নেপড়া গ্রামে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ২৭৩ নম্বর বুথের পঞ্চায়েত সদস্য মনোরঞ্জন বর্মন ও বুথ সভাপতি বীরেন বর্মন সরকারি ঘরের জন্য উপভোক্তাদের কাছ থেকে কাটমানি নিয়েছেন। টাকা না দিলে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা আটকে দেওয়ার পাশাপশি ভয় দেখানো হত বলে অভিযোগ। গৃহবধূ আদরী বর্মন জানান, আবাস যোজনার ঘরের নাম আসায় গ্রামের পঞ্চায়েত সদস্য দুই কিস্তিতে ১০ হাজার টাকা নিয়েছেন। ভয় দেখিয়েই ওই টাকা নিয়েছেন। এখন আমরা আমাদের টাকা ফেরত চাই। প্রয়োজনে আমরা আইনের আশ্রয় নেব।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিক্ষোভ তুলে দেয়। যদিও পঞ্চায়েত সদস্য ও বুথ সভাপতির বাড়িতে হাঁকডাক করলেও তাঁদের সাড়া পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বও মন্তব্য করতে নারাজ। শীতলকুচির বিধায়ক সাবিত্রী বর্মন জানান, তৃণমূল নেতারা কাটিমানি, দুর্নীতিতে ফুলেফেঁপে উঠেছেন। মানুষ ভয়ে এতদিন কিছু বলতে পারেনি। সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কাটমানি তুললে তারা বিক্ষোভ দেখাবে সেটাই স্বাভাবিক।