নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: এবার শিলিগুড়ি পুরসভার ‘ফাইল’ খুলতে চলেছে। আর সেই ফাইল খোলার জন্য খোদ রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালকে দায়িত্ব দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এমনটাই দাবি দার্জিলিংয়ের বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তার।
শিলিগুড়ি পুরসভায় তৃণমূল পরিচালিত বোর্ডের আমলে শহরে একের পর এক বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এনিয়ে বিজেপির পাশাপাশি সিপিএমও সরব হয়েছে বারবার। তাছাড়া বিভিন্ন ওয়ার্ডে শিলিগুড়ি পুরসভার কাজের মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে রাস্তা ও নিকাশি নালা তৈরির পর ছ’মাস না যেতেই তার কঙ্কাল বেরিয়ে পড়েছে। কাজের মান খারাপ হওয়ার পিছনে কাটমানি ও সিন্ডিকেটরাজের অভিযোগ তুলেছেন পুরসভার বিরোধীরা। এসব নিয়ে এবার তদন্ত শুরু করতে চাইছে রাজ্যের বিজেপি সরকার।
বুধবার উত্তরকন্যায় দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা বলেন, শিলিগুড়ি পুরসভার কাজে ব্যাপক দুর্নীতির হদিশ মিলেছে। বিষয়টি এদিনের প্রশাসনিক বৈঠকে উল্লেখ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এ ব্যাপারে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। বিষয়টি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে শীঘ্রই শিলিগুড়িতে আসবেন পুরমন্ত্রী। আমরা তাঁর হাতে প্রয়োজনীয় তথ্য তুলে দেব। এসজেডিএ’র দুর্নীতির ফাইলও খুলবে। কেউ পার পাবে না।
যে কোনো তদন্তের মুখোমুখি হতে তিনি রাজি বলে জানিয়েছেন শিলিগুড়ি পুরসভার মেয়র গৌতম দেব। তিনি বলেন, স্বচ্ছতার সঙ্গে পুরসভা চালাচ্ছি। কাজের মান নিয়ে কখনও আপস করিনি। রাজ্য সরকার তদন্ত করতেই পারে।
তবে মেয়র যাই বলুন না কেন, তৃণমূল পরিচালিত পুরবোর্ডের বিরুদ্ধে তোপ দেগে শিলিগুড়ির ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের সিপিএম কাউন্সিলার তথা এবারের বিধানসভা নির্বাচনে বামপ্রার্থী হিসাবে শিলিগুড়ি কেন্দ্রে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা শরদিন্দু চক্রবর্তী বলেন, শহরে বেআইনি নির্মাণ নিয়ে আমরা পুরসভার ভিতরে ও বাইরে লাগাতার বলেছি। তারপরও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাঁর প্রশ্ন, পুরসভার প্রত্যক্ষ মদত না থাকলে শিলিগুড়ি শহরে তৃণমূলের আমলে একের পর এক বেআইনি নির্মাণ হল কীভাবে? কেনই বা সেগুলির বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ করতে পারল না পুরসভা? এর পিছনে পুরসভার কী স্বার্থ রয়েছে? শরদিন্দুর দাবি, বহু ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে রাস্তা কিংবা ড্রেন তৈরির পর ছ’মাসের মধ্যে তার কঙ্কাল বেরিয়ে গিয়েছে। পুরসভার কাজের মান নিয়েও আমরাই প্রশ্ন তুলেছি। রাজ্যে ক্ষমতায় এসে এখন বিজেপি এসব নিয়ে বলছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে তদন্ত হলে ভালো। দেখি, বর্তমান সরকার কী করে।
এদিকে, তদন্তে আপত্তি নেই বলে জানিয়েছেন এসজেডিএ’র প্রাক্তন চেয়ারম্যান দিলীপ দুগার। যদিও এসজেডিএ’র ফাইল খুললে কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে কেউটে বেরিয়ে পড়তে পারে বলে মনে করছেন অনেকেই। কারণ বিভিন্ন সময়ে শিলিগুড়ি জলপাইগুড়ি ডেভেলপমেন্ট অথরিটিতে যেসব কেলেঙ্কারি সামনে এসেছে, তার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হলে অনেকেরই টান পড়তে পারে। মাটিগাড়া-নকশালবাড়ির বিজেপি বিধায়ক আনন্দময় বর্মনের অভিযোগ, এসজেডিএ’তে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে। ফুলেশ্বরী-জোড়াপানি নদী সংস্কার, শ্মশানে চুল্লি, ত্রিফলা বাতিস্তম্ভ, রাস্তা তৈরি থেকে আবাসনের ঘর বিলি, জমি হস্তান্তর— প্রতিটি ক্ষেত্রে দিনের পর দিন চলেছে অনিয়ম। যারা এসবের সঙ্গে যুক্ত, এবার কেউ রেহাই পাবে না।