কালনা সহ পাশ্ববর্তী নদীয়া ও হুগলি জেলা থেকে বহু রোগী কালনা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ডায়ালাসিস, সিটি স্ক্যান, মাইক্রো সার্জারি, এসএনসিইউ, এইচডিইউ সহ আরও অত্যাধুনিক চিকিৎসা পরিষেবা নিতে আসেন। আউটডোরে প্রতিদিন দেড় হাজারের বেশি ও ইনডোরে প্রায় পাঁচশো রোগী পরিষেবা পান। নতুন সরকার আসার পর প্রথম হাসপাতালে চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে বুধবার প্রশাসনিক বৈঠক করেন মহকুমা শাসক। বৈঠকে হাসপাতালের চিকিৎসা পরিষেবার মান কীভাবে আরও উন্নত ও মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তোলা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসকদের হাসপাতাল চত্বরেই থাকতে হবে। কোনো ভাবেই প্রাইভেট প্র্যকটিস বা নার্সিংহোমে যেতে পারবেন না এমন বিষয় আলোচিত হয়। হাসপাতাল চত্বরে এক ছাতার তলায় আউটডোর ও ফার্মাসিস্ট পরিষেবার উদ্যোগে নেওয়া হবে। কালনা হাসপাতাল চত্বরে অনেক ফাঁকা জায়গা পড়ে আছে। সেখানে মেডিক্যাল কলেজ গড়ে তোলা ও হাসপাতালে এমআরআইয়ের ব্যবস্থা চালু করার বিষয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হবে বলে আলোচনায় হয়। কয়েকটি বিভাগে কর্মী কম থাকার বিষয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তুলে ধরেন। বৈঠক শেষে ওয়ার্ড পরিদর্শন করেন বিধায়ক। কথা বলেন রোগী ও রোগীর বাড়ির লোকেদের সঙ্গে। পরিদর্শনের সময় এক রোগী ক্যাথিটার না পরানোর অভিযোগ তুললে বিধায়ক চিকিৎসককে তার ব্যবস্থা করতে বলেন। হাসপাতালের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা নিয়ে সুপারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন বিধায়ক।
মহকুমা শাসক অহিংসা জৈন বলেন, হাসপাতালের চিকিৎসা পরিষেবা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কিছু সমস্যার কথা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন। তা দেখা হচ্ছে।
বিধায়ক বলেন, আমরা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালকে সুপার পরিষেবা হিসাবেই দেখতে চাই। আরও কিছু উন্নয়ন দরকার। আমরা চাই না হাসপাতাল থেকে রোগী রেফার হোক। চিকিৎসকদের ডিউটির সময় হাসপাতালেই থাকতে হবে। শীঘ্রই হাসপাতালের উন্নয়নের অগ্রগতির বিষয়ে জেলাশাসক ও মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হবে।
হাসপাতাল সুপার বলেন, আউটডোর পরিষেবা এক ছাতার তলায় আনার প্রস্তাব রাখা ও কয়েকটি বিভাগে কর্মী অভাবের কথা জানানো হয়েছে। চিকিৎসা পরিষেবার উন্নতি, স্বাস্থ্যকর্মীদের রোগী ও পরিজনদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার ও পরিচ্ছন্নতার উপর জোর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।