• রামপুরহাটে অবৈধ নার্সিংহোম ও ল্যাবের ছড়াছড়ি
    বর্তমান | ২১ মে ২০২৬
  • সংবাদদাতা, রামপুরহাট: মানুষের স্বাস্থ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলা চলছে রামপুরহাটজুড়ে। ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা পরিকাঠামোহীন নার্সিংহোম ও অবৈধ ল্যাবরেটরি নিয়ে এবার সরব হল বিজেপি। পরিকাঠামো ও লা‌ই঩সেন্স না থাকার পরও কীভাবে বছরের পর বছর এসব প্রতিষ্ঠান চলছে তার তদন্তের দাবি করেছে গেরুয়া শিবির। 

    বীরভূম জেলায় খাতাকলমে ৭৮টি অনুমোদিত নার্সিংহোম এবং ৫২২টি ল্যাবরেটরি থাকলেও, বাস্তবে রামপুরহাটের অলিগলিতে তার চেয়ে অনেক বেশি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান গজিয়ে উঠেছে। দিন দিন সেই সংখ্যা বেড়েই চলেছে। যার হিসাব স্বাস্থ্যদপ্তরের কাছেও নেই। অভিযোগ, অধিকাংশ ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যদপ্তরের বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই চলছে সেইসব প্রতিষ্ঠান। আবার কিছুক্ষেত্রে লাইসেন্স থাকলেও যথেষ্ট পরিকাঠামো নেই। অভিযোগ, অধিকাংশেরই কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই। যাদের লাইসেন্স আছে, তাদেরও দমকল বা পরিবেশ দপ্তরের ছাড়পত্র কিংবা ন্যূনতম পরিকাঠামো নেই। ল্যাব এবং নার্সিংহোমগুলিতে প্রশিক্ষিত নার্স, প্যারা মেডিক্যাল কর্মী, গ্রুপ ডি স্টাফ বা স্থায়ী চিকিৎসক নেই। অভিজ্ঞ টেকনিশিয়ান না থাকায় ল্যাব রিপোর্ট নিয়ে চিকিৎসকরাও সন্দিহান। অভিযোগ, চিকিৎসকদের সই করা ফাঁকা প্যাড ল্যাবে রেখে দেওয়া হয় এবং সেখানে ইচ্ছামতো রিপোর্ট লিখে রোগীদের দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া পরীক্ষায় নিম্নমানের কিট ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ। সাধারণ মানুষের অজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এইসব প্রতিষ্ঠানে রোগী টানার জন্য সক্রিয় রয়েছে দালাল চক্র এবং রমরমিয়ে চলছে কমিশন ব্যবস্থা। এর ফলে রোগীরা সর্বস্বান্ত হচ্ছেন এবং অকালমৃত্যুও হচ্ছে। 

    স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, আগে এই নজরদারির দায়িত্বে ছিল বীরভূম সিএমওএইচ। বছর তিনেক আগে সেই দায়িত্ব রামপুরহাট স্বাস্থ্য জেলাকে দেওয়া হলেও পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি। স্বাস্থ্যকর্তাদের এই শীতঘুম নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে এবং বিজেপি ইতিমধ্যে সরব হয়েছে। তাদের মতে, রামপুরহাটে স্বাস্থ্য পরিষেবা এখন পুরোপুরি ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। এই চক্র ভাঙতে স্বাস্থ্যদপ্তরের কড়া অভিযান দরকার। রামপুরহাট বিধায়ক বিজেপির ধ্রুব সাহা বলেন, আমাদের কাছে অনেক অভিযোগ আসছে, লাইসেন্স বা প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র ছাড়াই চলছে বহু নার্সিংহোম ও ল্যাবরেটরি। সেইসব নার্সিংহোমে অপারেশন বা নানা অবৈধ কাজকর্ম চলছে। ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সিএমওএইচকে জানিয়েছি। মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা বন্ধ করতে হবে। প্রয়োজনীয় সরকারি ছাড়পত্রের একটিও না থাকলে নার্সিংহোম বা ল্যাব চলবে না। যারা এতদিন বেআইনি ভাবে নার্সিংহোম বা ডায়াগনস্টিক ল্যাবরেটারি চালিয়ে এসেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

    সেই সঙ্গে যাদের মদতে এই বেআইনি কাজ এতদিন ধরে হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি থাকবে। অনেকেরই অভিযোগ, এসব বন্ধে ও সঠিক স্বাস্থ্য পরিসেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন নিয়মিত অভিযান। যেটা অজানা কারণে এই স্বাস্থ্যজেলায় হয় না। 

    এদিকে বিধায়কের অভিযোগ স্বীকার করেছেন রামপুরহাট মহকুমা ল্যাব আসোসিয়েশনের সম্পাদক সৌমেন দত্ত। 

    তিনি বলেন, ওষুধের দোকানেও ল্যাব চলছে। তারা যাতে প্রয়োজনীয় লাইসেন্স নেয়, তার জন্য বার বার অনুরোধ করা হয়েছে। কিন্তু তারপরও বহু অবৈধ ল্যাব চলছে। বিধায়কের প্রচেষ্টার পাশে আমরা রয়েছি। নার্সিংহোম অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি তাহের শেখ বলেন, যারা লাইসেন্স নিয়ে চালাচ্ছে তারা আমাদের অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য। সে ক্ষেত্রে কোথাও পরিকাঠামোর খামতি থাকলে সেগুলি পূরণ করার চেষ্টা করব। এর বাইরে কোথায় অবৈধ নার্সিংহোম চলছে সেটা জানা নেই। 

    প্রতিক্রিয়া নিতে রামপুরহাট স্বাস্থ্যজেলার সিএমওএইচ শোভন দেকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, মিটিংয়ে ব্যস্ত রয়েছি। 

     
  • Link to this news (বর্তমান)