আরামবাগের উন্নয়ন নিয়ে বৈঠক, বিকল্প সেতুর প্রস্তাব বিধায়কদের
বর্তমান | ২১ মে ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: আরামবাগ মহকুমার উন্নয়নমূলক বিষয়ে হুগলি জেলা প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করলেন বিজেপি বিধায়করা। পুরশুড়ার বিধায়ক বিমান ঘোষ, খানাকুলের সুশান্ত ঘোষ, আরামবাগের হেমন্ত বাগ ও গোঘাটের প্রশান্ত দিগার উপস্থিত ছিলেন। ওই বৈঠকে হুগলির জেলাশাসক খুরশিদ আলি কাদেরি সহ মহকুমার বিডিওরাও বৈঠকে ছিলেন। সেচ ও পূর্তদপ্তরের কর্তারাও ছিলেন। বৈঠকে নজর দেওয়া হয় বন্যা নিয়ন্ত্রণ, একাধিক রাস্তা, সেতু সহ স্বাস্থ্য পরিকাঠামো নিয়ে। আজ, বৃহস্পতিবার ফের আরামবাগে মহকুমা শাসকের দপ্তরে বিধায়করা পরিস্থিতি পর্যালোচনা বৈঠক ডেকেছেন। সেখানেও বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।
বিধায়করা বলেন, এদিন বিকালে প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছে। মাস খানেকের মধ্যে মহকুমায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। তার আগে নদীবাঁধের জরুরি মেরামতের দিকে প্রশাসনকে নজর দিতে বলা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন জায়গায় রাস্তা বেহাল হয়ে রয়েছে। সেখানে প্রাথমিক সংস্কারের কাজ করতেও প্রশাসনকে আর্জি জানানো হয়। প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, নতুন সরকারের বিভিন্ন ধরনের প্রকল্প রূপায়ণ নিয়ে আলোচনা হয়। এছাড়া বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলা, রাস্তা ঘাট নিয়েও বিস্তারিত চর্চা হয়েছে। বৈঠকের সিদ্ধান্ত মতো পরবর্তী পদক্ষেপ হবে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিনের বৈঠকে আরামবাগে দ্বারকেশ্বর নদের উপর বেহাল রামকৃষ্ণ সেতুর বিকল্প একটি ব্রিজ তৈরির প্রস্তাব দেন বিধায়করা। তারসঙ্গে বন্যা পরিস্থিতি হলে প্রয়োজনীয় ত্রাণ, বোটের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখতে আলোচনা করা হয়। জল বাড়লে দুর্গতদের আগাম উদ্ধার করে পরিছন্ন জায়গায় আশ্রয় দেওয়ার ব্যাপারেও আলোচনা হয়। বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি রাস্তা অত্যন্ত বেহাল হয়ে রয়েছে। বর্ষার সময় সেগুলি আরও বেহাল হতে পারে। তাই তার আগে যাতে সেখানে প্রাথমিক সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করা যায়, তার আর্জি জানিয়েছেন বিধায়করা।
পুরশুড়ার বিধায়ক বলেন, বিগত দিনে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে তৃণমূল সরকার চরম অব্যবস্থা করে রেখেছিল। এবার ওই ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে আগাম পরিকল্পনা করার কথা জানানো হয়েছে। প্রশাসনও সেইভাবে এগিয়ে যাবে বলে আশ্বাস দিয়েছে। পুরশুড়ায় ভেজিটেবল স্টোর, রেল প্রকল্পগুলির জমি অধিগ্রহণের কাজ এগোনোর ব্যাপারেও প্রশাসনকে আমরা জানিয়েছি। এলাকার উন্নয়নমূলক কাজের পর্যালোচনা করতে প্রত্যেক সপ্তাহে ব্লকে আলোচনা করার প্রস্তাব দিয়েছি। মহকুমাস্তরে মাসে দু’বার এবং জেলাস্তরে এক বার করে বৈঠক আয়োজনের জন্যও আমরা বলেছি।
গোঘাটের বিধায়ক বলেন, এলাকার উন্নয়নে তহবিলের কোনো সমস্যা হবে না। সরকার মানুষের পরিষেবা দিতে পর্যাপ্ত তাহবিলের ব্যবস্থা করবে। প্রশাসনও সেই ব্যাপারে আশ্বস্ত করেছে। গোঘাট বিধানসভায় জরুরি ভিত্তিতে কোনো খাল সংস্কার করার প্রয়োজন হলে, তা করতে বলা হয়েছে। তারসঙ্গে একাধিক রাস্তার দিকেও নজর দিতে বলেছি। আরামবাগের রামকৃষ্ণ সেতু। -নিজস্ব চিত্র