রাতে মহিলা ডাক্তার ও নার্সদের হস্টেল চত্বরেও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা, সরকারি হাসপাতালগুলিকে আশ্বাস লালবাজারের
বর্তমান | ২১ মে ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ৮ আগস্ট, ২০২৪। মধ্যরাতে আর জি কর হাসপাতালে মহিলা চিকিৎসককে ধর্ষণ করে খুন! সেই পৈশাচিক ঘটনার দু’বছরের মধ্যে রাজ্য সরকারে পালাবদল। তাই বাংলার মসনদে নতুন সরকার আসার পর কলকাতা পুলিশ সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে চাইছে হাসপাতালের সুরক্ষায়। রোগী থেকে চিকিৎসক, নার্স, হাসপাতালের কর্মীদের নিরাপত্তায় কোনো ফাঁক রাখতে চায় না লালবাজার। নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ সংক্রান্ত এসওপি (স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর) জারি করল কলকাতা পুলিশ। শহরের সরকারি হাসপাতালগুলিকে এই মর্মে চিঠিও দিয়েছে তারা। সরকারি হাসপাতালের মহিলা চিকিৎসক ও নার্সদের হস্টেলের সামনে রাতভর নিরাপত্তায় মোতায়েন করা হচ্ছে লালবাজারের বিশেষ বাহিনী। সেই সঙ্গে হাসপাতাল চত্বরে প্রবেশ ও বাহির পথে ২৪ ঘণ্টাই অতন্দ্র প্রহরায় থাকবেন উর্দিধারীরা।
অভয়া-কাণ্ডে একটা প্রশ্নই বারবার বড়ো হয়ে উঠেছে—হাসপাতালের নিরাপত্তা। সেই সঙ্গে মহিলা চিকিৎসক, নার্সদের সুরক্ষার ক্ষেত্রে প্রশাসনিক গাফিলতি নিয়ে সরগরম হয় আম জনতার ড্রয়িং রুম থেকে রাজ্য-রাজনীতি। সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সরকারি হাসপাতালের নিরাপত্তার স্বার্থে ১১ দফা এসওপি জারি করেছে লালবাজার। এসএসকেএম, আর জি কর, মেডিকেল কলেজ, এন আর এস, বাঙ্গুর সহ শহরের সবক’টি সরকারি হাসপাতালে বুধবারই এসওপির কপি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানান কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দা। ১১টি এসওপির মধ্যে রয়েছে হাসপাতালের প্রবেশ-বাহির পথে নিয়ন্ত্রণ, রাত্রিকালীন নিরাপত্তা, বেসরকারি নিরাপত্তাকর্মী ও অ্যাম্বুলেন্স চালকদের তথ্যভাণ্ডার, আপৎকালীন ব্যবস্থাপনা, সার্বিক পুলিশি নজরদারি, সিসি ক্যামেরার নজরদারির মতো বিষয়গুলি।
রাত্রিকালীন নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে মহিলা চিকিৎসক ও নার্সদের হস্টেলে পুলিশ মোতায়েন এবং নাইট পেট্রলিং শুরু করছে লালবাজার। হাসপাতাল চত্বরের নির্দিষ্ট কিছু অংশে রোগী দেখানোর সময় ছাড়া সাধারণের প্রবেশাধিকার রদ করা হচ্ছে। অন্ধকারাচ্ছন্ন এলাকায় আলো লাগানোর জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছে পুলিশ। রোগীর পরিবার ও অন্যান্য কাজে হাসপাতালে আসা ব্যক্তিদের প্রবেশও নিয়ন্ত্রণ করা হবে। তাছাড়া, গাড়ি, বাইক ঢোকা-বেরনোর ক্ষেত্রেও থাকবে নিয়ন্ত্রণ। দালাল চক্রকে হাসপাতাল থেকে দূরে রাখতে নজরদারি চালাবে আউটপোস্টের পুলিশ। শুধু তাই নয়, হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত বেসরকারি নিরাপত্তা কর্মী ও অ্যাম্বুলেন্স চালকদের ফোন নম্বর সহ একটি তথ্যভাণ্ডার তৈরি করতে হবে কর্তৃপক্ষকে। সেই তালিকা জমা দিতে হবে লালবাজারে। ১ মাসের মধ্যে এই কাজগুলি করে ফেলার আবেদন করেছেন সিপি। এখন থেকে হাসপাতাল আউটপোস্টের পুলিশের কাছেও থাকবে ওয়্যারলেস যন্ত্র। প্রয়োজন হলে তাঁরা যাতে দ্রুত স্থানীয় থানা ও লালবাজারে খবর দিতে পারে। প্রতিটি হাসপাতালের সুপার ও অধ্যক্ষের সঙ্গে স্থানীয় থানা, ডিভিশন ও লালবাজারের কন্ট্রোল রুমের যোগসাজশ রাখার কথাও বলা হয়েছে এসওপি-তে।