নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ত্রিকোণ প্রেম নিয়ে বিবাদের জেরে বন্ধুর গলায় ছুরি চালিয়ে খুনের অভিযোগ উঠল যুবকের বিরুদ্ধে। মৃতের নাম দীপক গুপ্তা। বুধবার সকালে নিউ মার্কেট থানা থেকে ঢিলছোড়া দূরত্বে চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে। কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা প্রধান সোমা দাস মিত্র এই খবর জানিয়েছেন।
প্রাথমিক তদন্তে লালবাজারের গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, বন্ধুর গলায় ছুরি চালানোর পর সন্দেহভাজন আততায়ী নিজেই সাহায্যের জন্য চিৎকার করে লোকজন ডাকছিল। যাতে পুলিশি তদন্তে খুনের ঘটনাকে আত্মহত্যা বলে চালানো যায়। এমনকি তদন্তকারী গোয়েন্দাদের বিভ্রান্ত করতে, ছুরিকাহত বন্ধুকে হাসপাতালেও নিয়ে যেতে হাত লাগায় ওই সন্দেহভাজন! কিন্তু এত কিছুর পর শেষ রক্ষা হয়নি। হাসপাতাল যাওয়ার পথে আক্রান্ত যুবক বন্ধুর এই কীর্তির কথা কয়েকজনকে জানিয়ে দেন।
কলকাতা পুলিশের এক সূত্র জানাচ্ছে, ঘড়িতে তখন সকাল ৮টা বেজে ৩০ মিনিট। হঠাৎ ধারালো ছুরি হাতে ৮ নম্বর অমিয় হাজরা লেনে বন্ধু দীপক গুপ্তার মুদির দোকানে হাজির হয় শশী তেবর (২৫)। শশী দীপকের গলায় ছুরি চালাতে থাকে। চিৎকার শুনে আশপাশ থেকে ছুটে আসা লোকজন রক্তাক্ত অবস্থায় দীপককে প্রথমে তালতলার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে তাঁকে নীলরতন সরকার হাসপাতালে ভরতি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর ১২টা নাগাদ মৃত্যু হয় তার।
নিউ মার্কেট থানা অভিযুক্ত শশী তেবরকে আটক করে। প্রথমে আটক শশী পুলিশকে জানায়, প্রেমে ব্যর্থতার জেরে নিজের গলায় ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যা করেছে দীপক। কিন্তু দীপকের মৃত্যুকালীন জবানবন্দি হাতে আসার পর মামলার মোড় ঘুরে যায়। এরপর গ্রেপ্তার করা হয় শশীকে। পাশাপাশি, ঘটনাস্থল থেকে এই খুনে ব্যবহৃত ছুরিটিও উদ্ধার করা হয়েছে। ধৃতকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, এলাকার বাসিন্দা এক তরুণীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল দীপকের। ওই তরুণীকে চাইতেন শশীও। মঙ্গলবার তরুণীকে নিয়ে দীপক নিকো পার্কে গিয়েছিল। পরদিন এই খুনের ঘটনা।