সংবাদদাতা, বজবজ: দীর্ঘ একযুগ পর আজ, বৃহস্পতিবার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে ভোট উৎসব শুরু হচ্ছে। এজন্য হাসিমনগর, ফতেপুর, হরিণডাঙা, সরারহাট, জগন্নাথপুর, কলাতলাহাট, ভাদুরা, নৈনান, ফলতা বাজার, বুধা অঞ্চল, কেল্লাসহ প্রতিটি গ্রামে সাজো সাজো রব। অধিকাংশ বাড়ির মহিলারা নতুন শাড়ি এবং পুরুষরা পাঞ্জাবি ও পাজামা কিনেছেন। এই নতুন পোশাকে খুশি মনে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে পছন্দের প্রতীকে আঙুল ছোঁয়াবেন।
কোনো কোনো বুথের ভোটাররা ব্যান্ডপার্টি ভাড়া করেছেন। ব্যান্ড বাজাতে বাজাতেই ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার পরিকল্পনা তাঁদের। কোথাও মহিলারা ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার সময় শাঁখ ও উলুধ্বনি দিয়ে মঙ্গলময় পরিবেশ তৈরি করবেন। এর পাশাপাশি ভোট দিয়ে বাড়ি ফিরেই চলবে কবজি ডুবিয়ে ভূরিভোজ। তাতে কোথাও ভাত, মাছের মাথা দিয়ে ডাল, আলু ভাজা ও মাংস হচ্ছে। কোথাও রাতের বেলায় চাঁদা তুলে গোটা গ্রামে খিচুড়ি, সবজি ও কষা আলুর দম হচ্ছে। মাটিতে বসে শালপাতার থালায় গরম খিচুড়ি খাওয়ার সময় ভোট দেওয়ার আনন্দের অভিজ্ঞতা বিনিময় চলবে। কেউ কেউ ভোট দিয়ে বেরিয়ে আসার পর ভোটারদের মধ্যে মিষ্টি বিলোবেন, তাই তৈরি করেছেন লাড্ডু।
কার্যত ভোটকে ঘিরে জনমনে ভয়ংকর উৎসাহ উদ্দীপনা। গোটা ফলতায় রীতিমতো উৎসবের আবহ। ফলতা থানার গায়ে প্রয়াত আইনজীবী পার্শ্বনাথ ঘোষের বাড়ি। তাঁর ছেলে সমরকেতন ঘোষ, স্ত্রী রূপাঞ্জলি ঘোষ, ভাগ্নে সুভাষচন্দ্র মারিকের কথায়, উদ্দীপনার কারণ দীর্ঘদিন বাদে ভয়হীন ভোট দেওয়ার একটা মুক্তির স্বাদ পাব আমরা। দশবছরের বেশি হল ভোট দিতে পারিনি। প্রতিবাদ করায়, ২০১৮ সালে জাহাঙ্গিরের দলবল বোমাবাজি করে। দরজার গেট, গাড়ির কাচ এবং গোটা বাড়ির জানালার কাচ ভেঙে দিয়েছিল। সেইসময় শপথ করেছিলাম, ফলতাসহ গোটা রাজ্যে পদ্মফুল যখন ফুটবে তখন ভাঙা বাড়ির অংশ মেরামত করব। তাই আমাদের সকলে নতুন জামা কাপড় পরে ভোটকেন্দ্রে যাবে। ফল বেরোবার পর পূরণ করা হবে শপথ।
জয়দেব প্রামণিকের বাড়ি ও দোকান ভাঙচুর, লুটপাট করা হয়েছিল। তাঁরা বাড়িছাড়া ছিলেন অনেকদিন। তিনিও এতদিন বাদে ভোট দিতে যাচ্ছেন নতুন পোশাক পরে। পাশাপাশি গ্রামের একশো ভোটারকে সঙ্গে নিয়ে যাবেন। ভোট দিতে না-পারার দীর্ঘদিনের যন্ত্রণা পূরণ হতে চলেছে জগদীশ দাস, শ্রীরূপা দাস, অনাদি মিথিয়া, নিশির বিশ্বাস, নিতাই সর্দারসহ হাজার হাজার ফলতাবাসীর। ফলত, গোটা ফলতাই মেতেছে ভোট উৎসবে। নিজস্ব চিত্র