নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বন্ধ করে দেওয়া হল জন্ম ও মৃত্যু শংসাপত্রের পোর্টাল! রাজ্যের বিভিন্ন পুরসভা এবং পঞ্চায়েতের জন্য স্বাস্থ্যদপ্তরের এই একটি কেন্দ্রীয় পোর্টাল ২০২১ সালে চালু হয়েছিল। রাজ্যের সর্বত্র জন্ম এবং মৃত্যুর তথ্য এই পোর্টালে আপলোড করা হয়। এর মাধ্যমেই ডিজিটাল সার্টিফিকেট মেলে। কিন্তু, কোনো এক অজ্ঞাত কারণে বুধবার থেকে জন্ম এবং মৃত্যু শংসাপত্রের সেই পোর্টাল আংশিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শুধুমাত্র ‘রেগুলার’ কেসে অর্থাৎ নতুন যাঁরা জন্মাচ্ছেন বা মারা যাচ্ছেন, একমাত্র পোর্টালে তাঁদের ডেটা এন্ট্রি করা যাচ্ছে। তাঁরাই ডিজিটাল সার্টিফিকেট পাবেন। কিন্তু পুরানো সার্টিফিকেট ডিজিটাল করা কিংবা আগে জন্ম হয়েছে বা মারা গিয়েছেন, কিন্তু শংসাপত্র নেওয়া হয়নি, তাঁরা এখন আবেদন করলে আপাতত শংসাপত্র পাবেন না। হারিয়ে যাওয়া সার্টিফিকেটের ডুপ্লিকেট কপিও দেওয়া হবে না। পোর্টালে সেই অপশন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সূত্রের খবর, এসআইআর পর্বে যে জন্ম এবং মৃত্যু সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়েছিল, সেই সমস্ত সার্টিফিকেট রি-ভেরিফিকেশন বা ফের যাচাই করা হবে। সেই কারণেই ‘পুরানো’ এন্ট্রি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই বিপাকে বহু আবেদনকারী। অনেকেই বিভিন্ন ডুপ্লিকেট সার্টিফিকেট পেতে পুরসভায় এসে ফিরে গিয়েছেন।
বুধবার কলকাতা পুরসভার স্বাস্থ্য বিভাগের জন্ম এবং মৃত্যু শংসাপত্রের অফিসে ব্যাপক ভিড় দেখা যায়। শহর তো বটেই, শহরতলি থেকেও অনেকে এসেছিলেন সার্টিফিকেট নিতে। কিন্তু বলে দেওয়া হয়েছে পুরানো কেস থাকলে আবেদন নেওয়া হবে না। পোর্টাল সম্পূর্ণ বন্ধ। ফলে আবেদন জমা দিয়েও লাভ নেই। অফিস ঘরের বাইরে লম্বা লাইন। কেউ বসে পড়েছেন মেঝেয়। ধৈর্য ধরতে না পেরে নিরাপত্তারক্ষীর সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েছেন সার্টিফিকেট নিতে আসা নাগরিকরা। উল্টোডাঙার গৌরীবাড়ির বাসিন্দা প্রীতম বারিক বলেন, মাঝে ভোটের জন্য দু-মাস ভুগেছি। একাধিকবার এসেও সার্টিফিকেট পায়নি। তখন ভেবেছি, ভোটের কাজের চাপ থাকার কারণে সম্ভবত পাওয়া যাচ্ছে না। কিন্তু আজ এসে শুনলাম অনলাইন পোর্টাল বন্ধ। ডিজিটাল সার্টিফিকেট ইস্যু করা হবে না। কবে মিলবে শংসাপত্র, তার কোনো উত্তর নেই। একই পরিস্থিতি বাঘাযতীনের বাসিন্দা শম্ভু কর্মকারের। তিনিও ছেলের জন্ম শংসাপত্র হারিয়ে ফেলেছেন। ডুপ্লিকেট সার্টিফিকেটের আবেদন জানাতে এসেছিলেন। কিন্তু বলে দেওয়া হয়েছে সার্টিফিকেট আপাতত মিলবে না।
কিন্তু কেন এই পরিস্থিতি? পুরসভার স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রের খবর, সরকারি তরফে এই সংক্রান্ত কোনো লিখিত নির্দেশ বুধবার রাত পর্যন্ত আসেনি। যদিও সূত্রের খবর, এসআইআর-পর্বে যে জন্ম এবং মৃত্যু শংসাপত্র ইস্যু করা হয়েছিল, সেগুলি নতুন করে যাচাই করা হবে। ২০২৫ সালের ১৪ মে থেকে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত যত সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছে, তা রয়েছে সন্দেহের তালিকায়। প্রসঙ্গত, ২৮ ফেব্রুয়ারিই এরাজ্যে এসআইআরে ভোটার রোল ‘ফ্রিজ’ করা হয়েছিল। কলকাতা পুরসভার আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, এই সময়কালে সাড়ে চার হাজারের বেশি সার্টিফিকেটের আবেদন জমা পড়েছিল।