• বোলপুরে পড়ে থাকা বিশ্ব ক্ষুদ্র বাজার ঘিরে আশার আলো
    বর্তমান | ২১ মে ২০২৬
  • সংবাদদাতা, বোলপুর: বহু প্রত্যাশা নিয়ে গড়ে ওঠা বোলপুরের শিবপুরে বিশ্ব ক্ষুদ্র বাজার দীর্ঘদিন ধরেই নিষ্ক্রিয় অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সরকার পরিবর্তনের পর এবার সেই পরিকাঠামোকে ঘিরে নতুন করে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন স্থানীয় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের সঙ্গে যুক্ত মানুষজন। তাঁদের মতে, উপযুক্ত পরিকল্পনা ও নিয়মিত বাজার চালু করা গেলে বহু শিল্পীর কর্মসংস্থান হতে পারে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বাম আমলে শিল্পায়নের উদ্দেশ্যে শিবপুর মৌজায় প্রায় তিনশো একর কৃষিজমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল। তবে সেই জমিতে বড় শিল্প না হওয়ায় রাজ্য সরকারের তরফে এলাকাটিকে বিকল্প উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আনা হয়। ২০১৫ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষণার পর ওই এলাকায় গীতবিতান আবাসন, বিশ্ববাংলা বিশ্ববিদ্যালয়, আইটি হাব এবং বিশ্ব ক্ষুদ্র বাজার তৈরির পরিকল্পনা হয়। পরবর্তীতে একে একে বিভিন্ন পরিকাঠামো গড়ে উঠলেও বিশ্ব ক্ষুদ্র বাজার কার্যকরভাবে চালু করা যায়নি বলে অভিযোগ।

    কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বাজার চত্বরটি মূলত স্থানীয় হস্তশিল্পী, ডোকরা শিল্প, চামড়া ও বেতশিল্পের কারিগরদের স্থায়ী বিপণন কেন্দ্র করার কথা ভাবা হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরেই তা অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। মাঝেমধ্যে হস্তশিল্প মেলা বা অস্থায়ী প্রদর্শনীর আয়োজন হলেও স্থায়ীভাবে বাজার চালুর উদ্যোগ দেখা যায়নি বলেই অভিযোগ শিল্পীদের একাংশের।

    গত বছর সোনাঝুরি হাটকে ওই এলাকায় স্থানান্তরের প্রস্তাব নিয়ে চর্চা হলেও তা শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে পর্যটন নির্ভর ব্যবসা ও ক্ষুদ্র শিল্পের সঙ্গে যুক্ত বহু মানুষ প্রত্যাশিত সুবিধা থেকে বঞ্চিতই থেকে গিয়েছেন। রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর শিল্পীদের একাংশ মনে করছেন, প্রশাসনিক সদিচ্ছা থাকলে বিশ্ব ক্ষুদ্র বাজারকে ঘিরে নতুন কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র তৈরি করাযেতে পারে। স্থানীয় শিল্পী চন্দন মণ্ডল ও কুন্তল দাস বলেন, এত বড় পরিকাঠামো তৈরি হওয়ার পরও বছরের বেশিরভাগ সময় জায়গাটা ফাঁকাই পড়ে থাকে। হাতে গোনা কয়েকটি মেলা ছাড়া শিল্পীদের নিয়মিত ব্যবসার সুযোগ নেই। নতুন সরকারের কাছে আমাদের আবেদন, এই বাজারটিকে স্থায়ীভাবে চালু করে স্থানীয় শিল্পীদের জন্য নির্দিষ্ট বিপণন ব্যবস্থা করা হোক। তাহলে বহু পরিবার উপকৃত হবে।

    এবিষয়ে বিজেপির বোলপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডল বলেন, নতুন সরকার সদ্য দায়িত্ব নিয়েছে। প্রশাসনিক কাজকর্ম পুরোপুরি গতি পেতে কিছুটা সময় লাগবে। তবে আমরা চাই শিল্পী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের স্বার্থ মাথায় রেখে বিশ্ব ক্ষুদ্র বাজারকে সক্রিয় করার উদ্যোগ দ্রুত নেওয়া হোক। এতে এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও বাড়বে।
  • Link to this news (বর্তমান)