সৌগত গঙ্গোপাধ্যায়, কলকাতা: অনুশীলন শেষে মাঠ প্রায় ফাঁকা। একাকী দাঁড়িয়ে দিমিত্রি পেত্রাতোস। তাঁর চোখ ফেন্সিংয়ের বাইরের কিছু সমর্থকের দিকে। যাঁরা এক নাগাড়ে ‘দিমি, দিমি’ গলা ফাটাচ্ছেন। অজি ফরোয়ার্ড এগিয়ে গেলেন। ঘামে ভেজা সবুজ-মেরুন জার্সি তুলে দিলেন এক সমর্থকের হাতে। এখানেই শেষ নয়। মাঠ থেকে বেরনোর সময় এক খুদে অনুরাগী পা জড়িয়ে ধরল ডিমিগডে’র। তখন দিমিরও চোখে জল। আসলে বৃহস্পতিবারই সম্ভবত সবুজ-মেরুন জার্সিতে পেত্রাতোসের শেষ ম্যাচ। তাই অনুরাগীদের একটাই আবদার— বিদায়ী মুহূর্তটা যেন রাঙিয়ে যান প্রাণভ্রমরা। দিল্লি এফসি’র বিরুদ্ধে ম্যাচ শেষে ট্রফিটা যেন মোহন বাগানের হাতেই ওঠে। যুবভারতীর গ্যালারিও গর্জে উঠবে শিরোপার আশায়।
এভরিথিং ইজ পসিবল! দিল্লি ম্যাচের আগে এটাই স্লোগান মোহন বাগানে। প্রতিপক্ষকে গোলের মালা পরাতে তৈরি রবসনরা। শুরুতেই জাল কাঁপাতে পারলে বাড়তি অক্সিজেন পাওয়া যাবে। একই সঙ্গে চোখ থাকবে কিশোর ভারতীর দিকেও। ইন্টার কাশীর বিরুদ্ধে ইস্ট বেঙ্গল লিড নিলে চাপ বাড়বে মোহন বাগানের উপর। গোল পার্থক্যে শীর্ষে থাকা অস্কারের দলের পক্ষে পাঁচ গোলের অ্যাডভান্টেজ। তবে দিমিত্রি প্রবল আশাবাদী। অতীতে আইএসএল হোক বা ডুরান্ড ফাইনাল— বড়ো মঞ্চে একাধিকবার জ্বলে উঠতে দেখা গিয়েছে অজি তারকাকে। বৃহস্পতিবারও অসাধ্য সাধনের আশায় তিনি।। বুধবার সাংবাদিক সম্মেলনে বললেন, ‘মোহন বাগানের জার্সিতে মাঠে নামার জন্য আলাদা মোটিভেশন লাগে না। দিল্লির বিরুদ্ধে জান লড়িয়ে দিতে তৈরি আমরা।’
অনুশীলনে ইঙ্গিত, চূড়াম্ত আক্রমণাত্মক ফর্মেশনেই দল সাজাবেন লোবেরা। গো ফর গোলস তাঁর নীতি। আপফ্রন্টে কি চার বিদেশিকে দেখা যাবে? চোট থাকায় কামিংস অনিশ্চিত। অবশ্য এদিন হালকা অনুশীলন করেন তিনি। তবে ম্যাকলারেন, দিমিত্রি ও রবসনকে প্রথম একাদশে দেখার প্রবল সম্ভাবনা। স্প্যানিশ কোচের জবাব, ‘বৃহস্পতিবার ট্রফি জিততে যা করার দরকার, সবই করব।’ এদিন অনুশীলনে সিচুয়েশন প্র্যাকটিসে সবাইকেই পরখ করে নিলেন কোচ লোবেরা। তবে কার্ড সমস্যায় আলবার্তো এবং চোটের কারণে আপুইয়া এই ম্যাচে নেই। পয়েন্ট টেবিলে ১১ নম্বরে রয়েছে দিল্লি। ভারতীয় ডিফেন্ডারদের নিয়েই দল সাজাচ্ছে তারা। তবু লড়তে তৈরি দিল্লির দলটি।