• ত্বিষার মৃত্যুর পরেই কাদের ফোন শাশুড়ির? নজরে কল লিস্ট, পলাতক সমর্থের খোঁজে ৩ গুণ পুরস্কার মূল্য
    এই সময় | ২১ মে ২০২৬
  • প্রাক্তন মিস পুনে, মডেল-অভিনেত্রী ত্বিষা শর্মার মৃত্যুতে তদন্তকারীদের স্ক্যানারে এ বার শাশুড়ি গিরিবালা সিংহের ফোন কলের লিস্ট। ত্বিষার পরিবারের লোকজনের অভিযোগ, তাঁদের মেয়ের মৃত্যুর পরেই বিচারব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত একাধিক ব্যক্তিকে ফোন করেছিলেন শাশুড়ি গিরিবালা সিং। ত্বিষার পরিবারের দাবি, গিরিবালার বাড়িতে যে সংস্থা CCTV ক্যামেরা বসিয়েছিল, সেই সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন প্রাক্তন বিচারক গিরিবালা। তাঁদের দাবি, মৃত্যুর ঘটনাকে ধামাচাপা দিতেই একাধিক ফোন করা হয় বিভিন্ন লোকজন ও সংস্থায়। অন্যদিকে, এখনও অধরা এই মামলায় মূল অভিযুক্ত ত্বিষা শর্মার স্বামী সমর্থ সিং। তাঁর খোঁজ পেতে পুরস্কারের মূল্য তিনগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

    ৩৩ বছর বয়সি ত্বিষা শর্মার মৃত্যু খুন নয়, আত্মহত্যা বলেই প্রাথমিক তদন্তের পরে জানিয়েছে ভোপাল পুলিশ। কিন্তু ত্বিষার পরিবারের দাবি, পুলিশি তদন্তে একাধিক ফাঁক ও গাফিলতি রয়েছে। বিয়ের মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যেই ১২ মে ভোপালের কাটারা হিলস এলাকার শ্বশুরবাড়িতে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার হয় মডেল-অভিনেত্রী ত্বিষার দেহ। তাঁর পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই পণের দাবিতে মেয়েকে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করা হতো।

    মৃতা তরুণীর পরিবারের দাবি, অবিলম্বে ত্বিষার শাশুড়ির ডিটেলস কল রেকর্ড ও যোগাযোগের তথ্য খতিয়ে দেখা উচিত। তাঁদের সন্দেহ, তদন্তকে প্রভাবিত করার চেষ্টা হয়ে থাকতে পারে।

    পরিবারের অভিযোগ, মৃত্যুর আগে ত্বিষা ফোনে তাঁর আতঙ্কিত অবস্থায় কথা জানিয়েছিলেন। তাঁদের দাবি, স্বামী সমর্থ সিংহ ঘরে ঢোকার পরে আচমকাই ফোন কেটে যায়। পরে দেহে আঘাতের চিহ্নও দেখা যায় বলে পরিবারের অভিযোগ। তারা এটিকে পণ-নির্যাতন ও সম্ভাব্য খুনের মামলা হিসেবে তদন্তের দাবি তুলেছে।

    অন্যদিকে, গিরিবালা সিং সংবাদমাধ্যমে পাল্টা দাবি করেছেন, ত্বিষা মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন এবং তাঁর পরিবারই তাঁকে ‘গ্ল্যামার জগতে ঠেলে দিয়েছিল’। তিনি আরও দাবি করেন, ত্বিষার পরিবার ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁদের বিরুদ্ধে মিথ্যে কথা বলে জনমত গড়ে তুলছে।

    এই ঘটনায় ত্বিষার স্বামী সমর্থ সিংহ এবং শাশুড়ি গিরিবালা সিংয়ের বিরুদ্ধে পণপ্রথাজনিত মৃত্যু ও হেনস্থার মামলা দায়ের হয়েছে। গিরিবালা সিং জামিন পেলেও সমর্থ এখনও পলাতক। তাঁকে ধরতে একাধিক পুলিশ টিম গঠন করা হয়েছে। খোঁজ পেতে পুরস্কার মূল্য বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা করা হয়েছে। পুলিশ কমিশনার সঞ্জয় কুমারের নির্দেশে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    সমর্থ সিংহ পেশায় আইনজীবী এবং ২০১৮ সাল থেকে প্র্যাকটিস করছেন। তিনি বেঙ্গালুরুর ন্যাশনাল ল স্কুল অফ ইন্ডিয়া -এর প্রাক্তনী বলেও জানা গিয়েছে। ত্বিষার মৃত্যুর পর থেকেই তিনি নিখোঁজ। তাঁর বিরুদ্ধে লুকআউট নোটিস জারি হয়েছে এবং পাসপোর্ট বাতিলের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।

    এদিকে মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব ত্বিষার পরিবারের সঙ্গে দেখা করে CBI তদন্তের সুপারিশ করার আশ্বাস দিয়েছেন। পরিবারও শুরু থেকেই কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার হাতে তদন্তভার দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে।

    অন্যদিকে, ত্বিষা শর্মার পরিবারের দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের আবেদন খারিজ করেছে ভোপালের একটি আদালত। পরিবারের দাবি ছিল, AIIMS দিল্লিতে পুনরায় ময়নাতদন্ত করা হোক। বিচারক অনুদিত শর্মা জানান, রাজ্যের বাইরে দ্বিতীয় পোস্টমর্টেমের অনুমতি দেওয়ার ক্ষমতা ওই আদালতের নেই। যদিও আদালত নির্দেশ দিয়েছে, দেহ যাতে সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা হয় তা নিশ্চিত করতে হবে।

    আদালত পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, AIIMS ভোপালের মর্গে দেহ সাধারণত মাইনাস ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে চার-পাঁচ দিন রাখা সম্ভব। দীর্ঘমেয়াদে সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজন মাইনাস ৮০ ডিগ্রি তাপমাত্রা। এরপর টুইশার পরিবার হাইকোর্টে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

  • Link to this news (এই সময়)