• বুলডোজার চালিয়ে রেল মেমারিতে ভাঙল দোকান, রুজিহারা দেড়শো
    এই সময় | ২১ মে ২০২৬
  • এই সময়, মেমারি: হাওড়া, শিয়ালদহ, বর্ধমানের পরে এবারে মেমারি স্টেশন এলাকায় দোকান ভাঙা হলো। মঙ্গলবার রাতে জেসিবি মেশিন দিয়ে এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। দোকান ভাঙার সময়ে আরপিএফ-এর সঙ্গে ছিল বর্ধমান স্টেশনের জিআরপি, মেমারি থানার পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী। যাঁদের দোকান ভাঙা হয়, তাঁরা অনেকেই কান্নাকাটি করতে থাকেন। দু'টি বুলডোজার দিয়ে রাত ১১টা থেকে প্রায় আড়াইটে পর্যন্ত চলে এই উচ্ছেদ অভিযান। ভাঙা হয় ১৫০টির বেশি দোকান।

    রেলের জায়গায় এই সব দোকান তৈরি করেছিলেন স্থানীয় মানুষ। জবরদখলকারী বলে চিহ্নিত করে রেলের তরফে তাঁদের সরে যাওয়ার জন্য একাধিক বার নোটিস দেওয়া হয়েছিল। সর্বশেষ ৩০ এপ্রিল নোটিস দিয়ে ২ মে-র মধ্যে জায়গা খালি করতে বলেছিল রেল। এর পরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব-সহ নানা স্তরে আবেদন করেন দোকানদাররা। রেল তখন সরে যাওয়ার জন্য ১৮ মে পর্যন্ত সময় দেয়। সেই সময়সীমা শেষ হতেই মঙ্গলবার রাতে দোকানগুলি ভেঙে দেওয়া হলো। স্থানীয় দোকানদাররা জানান, কেউ না কেউ তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য এগিয়ে আসবেন বলে তাঁরা আশা করেছিলেন। কিন্তু কাউকে পাশে পাননি।

    তাঁদেরই একজন সুশান্ত বিশ্বাস বলেন, 'বিজেপি, তৃণমূল, সিপিএম-সমস্ত দলের নেতাদের কাছে গিয়েও কিছু লাভ হলো না। গরিবের জন্য কোনও রাজনৈতিক দলের মাথাব্যথা নেই। আমি ৪৮ বছর ধরে এখানে ব্যবসা করছি। আর রোজগারের উপায় রইল না। এখন কী ভাবে চলবে সংসার!'

    মালতি সাহা নামে আর এক দোকানদার কাঁদতে কাঁদতে বলেন, 'কোথায় যাব, কী করব, কী ভাবে চলবে সংসার? নতুন সরকারের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আমাদের কাতর আবেদন, আমাদের জন্য কিছু করুন তিনি।' এ বিষয়ে মেমারির সদ্য নিবার্চিত বিজেপি বিধায়ক মানব গুহর সঙ্গে টালিফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, 'দেখুন জায়গাটা রেলের। সেখানে আমাদের পক্ষে সরাসরি কিছু করা বা বলা সম্ভব নয়। মেমারি পুরসভার সঙ্গে কথা বলে এই সমস্ত দোকানদের জন্য একটা কিছু পরিকল্পনা করার বিষয়ে আমরা আলোচনায় বসব।'

  • Link to this news (এই সময়)