• জট কাটতে চলেছে জলপ্রকল্পের, উপকৃত হবে ৭৮ হাজার পরিবার, আশ্বাস অগ্নিমিত্রার
    এই সময় | ২১ মে ২০২৬
  • এই সময়, আসানসোল: কেন্দ্রীয় অনুদান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গত দু'বছর ধরে থমকে থাকা কল্যাণেশ্বরী দ্বিতীয় জলপ্রকল্পের জট অবশেষে কাটতে চলেছে। রাজ্যে পট পরিবর্তনের পরেই সরকারি উদ্যোগে থমকে থাকা কেন্দ্রীয় অনুদান আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

    সম্প্রতি আসানসোলে এসে শিল্পাঞ্চলের পানীয় জলের সঙ্কট নিয়ে জেলাশাসকের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। বৈঠক শেষে মন্ত্রী আশ্বাস দিয়ে জানান, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই শিল্পাঞ্চলের জল সঙ্কট মেটানো হবে এবং থমকে থাকা কল্যাণেশ্বরী প্রকল্পের কাজ দ্রুত শুরু করা হবে।

    মন্ত্রীর সেই আশ্বাসের পরেই গতি এসেছে সরকারি স্তরে। জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তর (পিএইচই) সূত্রে জানা গিয়েছে, গত মঙ্গলবার এই বিষয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে রাজ্যের একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়েছে এবং মেমোরেন্ডাম অফ আন্ডারস্ট্যান্ডিং (মউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এ প্রসঙ্গে পিএইচই-র এগজ়িকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার রূপম ঘোষ বলেন, 'মঙ্গলবার কেন্দ্রের সঙ্গে রাজ্যের এ বিষয়ে মউ স্বাক্ষরিত হয়েছে। বন্ধ হয়ে যাওয়া আর্থিক অনুদান আসবে। নতুন করে টেন্ডার ডেকে বাকি কাজ শেষ করা হবে।'

    কেন্দ্রীয় সরকারের 'জল জীবন মিশন'-এর অন্তর্গত প্রায় ৪০০ কোটি টাকার এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছিল ২০২৩-এর ২২ অগস্ট। ২০২৫-এর মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও, ২০২৪-এ কেন্দ্রীয় অনুদান বন্ধ হওয়ায় কাজ থমকে যায়। পিএইচই-র এগজ়িকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার জানিয়েছেন, প্রকল্পের প্রায় ৭০ শতাংশ কাজ ইতিমধ্যেই শেষ। বাকি থাকা ৩০ শতাংশ কাজের মধ্যে রানিং পাইপ লাইন বসানো, পরিশোধনাগার তৈরি এবং মাইথনের হাই ডাইক থেকে জল তোলার প্রক্রিয়া বাকি রয়েছে। খুব দ্রুত এই কাজে হাত পড়বে বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।

    এই প্রকল্প রূপায়িত হলে পশ্চিম বর্ধমানের সালানপুর, বারাবনি, রানিগঞ্জ ও জামুড়িয়া- এই চার ব্লকের প্রায় ৭৮ হাজার পরিবার দৈনিক ৫৫ লিটার করে পানীয় জল পাবে। মাইথনের হাই ডাইক এলাকা থেকে জল তুলে কল্যাণেশ্বরীর ৯৮ মিলিয়ন লিটারের পরিশোধনাগারে শোধন করে তা সরবরাহ করা হবে। এর জন্য ২১টি উচ্চ জলাধার এবং আটটি বুস্টিং স্টেশন তৈরির কাজও চলছে। দীর্ঘদিন ধরে চরম জলকষ্টে থাকা এই চার ব্লকের বাসিন্দারা এখন দ্রুত কাজ শেষের আশায় বুক বাঁধছেন।

  • Link to this news (এই সময়)