ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত শ্রীরামপুর এলাকা। পাড়ায় রাস্তা দিয়ে কিছুটা এগোলেই দেখা যায় প্রাসাদোপম বাড়ি। দোতলা বাড়ির বেশ কিছুটা অংশের নির্মাণ এখন সম্পূর্ণ হয়নি। দোতলার দেওয়ালে প্লাস্টার থাকলেও রং হয়নি। পড়েনি। একটা সময়ে গমগম করতো বাড়ির সামনের অংশ। বৃহস্পতিবার ফলতা বিধানসভার পুনর্নির্বাচন কিন্তু সকাল থেকে সেই বাড়ির সামনেই পরিস্থিতি শুনশান। ‘জাহাঙ্গির বাড়ি আছেন?’ হাঁকডাক করেও সাড়া মেলেনি। ফলতার প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা কোথায়? সঠিক জানেন না প্রতিবেশীরাও।
বাড়ির গলি থেকে বেরিয়ে দু’মিনিটের হাঁটা পথে জাহাঙ্গিরের দলীয় কার্যালয়। সকাল থেকেই সেই অফিসও তালা বন্ধ। সাধারণত ভোট চলাকালীন এই অফিস থেকেই পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়ার উপরে নজরে রাখতেন জাহাঙ্গির। কারা বুথে থাকবেন, কোন এজেন্ট বসবেন, সব ঠিক হতো এই অফিস থেকেই। তা-ও আজ জনমানবহীন।
মুখ খুলতে চাননি প্রতিবেশীরাও। কোথায় স্বঘোষিত ‘পুষ্পা’? জবাব দিতে নারাজ পাড়ার অনেকেই। এক প্রতিবেশী বলেন, ‘উনি হয়তো বাড়ির মধ্যেই আছেন। বাড়ি থেকে বেরিয়ে কোথাও গেলে, আমরা তো দেখতে পেতাম। তবে ভিতরে আছেন কি না সেটা নিশ্চিত নই।’
ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত শ্রীরামপুর পশ্চিম দুর্গাপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বুথের ভোটার তিনি। সেই বুথে এ দিন সকাল থেকে নির্বিঘ্নে চলছে ভোটগ্রহণ। মিশ্র প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন স্থানীয় ভোটাররা। এক ভোটার বলেন, ‘এখানে দীর্ঘদিন ভোট দেওয়া হতো না। ভোট দিতে আসলেই বলা হতো, আপনার ভোট হয়ে গিয়েছে। আমার মৃত মায়ের নামেও ভোট পড়ে যেত। কী আর বলব? তবে এ বার ভালো ভোট হচ্ছে।’ অন্য এক ভোটার বলেন, ‘আমাদের এই বুথে কোনওদিন গোলমাল হয়নি। অন্য কোথায় কী হয়, তা বলতে পারব না।’
রিপোর্টিং: শুভ্রজিৎ চক্রবর্তী