• ‘ভয়ানক কাজের চাপ কিন্তু ব্যাঙ্ক ব্যালান্স জ়িরো!’, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল জেন জ়ির পদত্যাগপত্র
    এই সময় | ২১ মে ২০২৬
  • লখনৌয়ের একটি প্রতিষ্ঠানে কনটেন্ট মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজিস্ট হিসেবে কাজ করতেন প্রতিষ্ঠা গুপ্তা। চাকরি ছাড়ার পরে তিনি তাঁর পদত্যাগপত্রে আর কোনও রাখঢাক রাখেননি। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় সেটি পোস্ট করেন। দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভ, টক্সিক কর্মপরিবেশ এবং কম বেতন- এই সব কিছুই ফুটে উঠেছে তার পদত্যাগপত্রে।২১ বছরের ওই তরুণীর পদত্যাগপত্রের স্ক্রিনশট এখন ইনস্টাগ্রামে রীতিমতো ভাইরাল।

    হিন্দুস্তান টাইমসকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে প্রতিষ্ঠা জানান, তিনি লখনৌয়ে দু’টি প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন। এই দু’টি প্রতিষ্ঠানের মালিকই ছিলেন একই পরিবারের দুই ব্যক্তি। প্রথমটি ছিল আইটি ও সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি। অন্যটি ছিল ওই ব্যক্তিরই স্ত্রীর পরিচালিত মিডিয়া ও মার্কেটিং এজেন্সি।

    প্রতিষ্ঠা প্রথমে মিডিয়া ও মার্কেটিং এজেন্সিতে ৬ মাসের জন্য ইন্টার্নশিপ করেছিলেন। এরপর তিনি ৮ মাস আইটি কোম্পানিতে কাজ করেন। আর দু’টোতেই টক্সিক কাজের পরিবেশ, কাজের চাপ নিয়ে অভিযোগ করেছেন তিনি। তাঁর কথায় সেই সংস্থাগুলি ছিল ‘বিষাক্ত’ ও ‘ চরম অপেশাদার’।

    প্রতিষ্ঠা অভিযোগ করেন, মিডিয়া প্রতিষ্ঠানের মালিকের স্ত্রী মার্কেটিং বা ডিজ়াইন সম্পর্কে খুব বেশি দক্ষ ছিলেন না। শুধু তাই নয়, প্রতিষ্ঠার অনুপস্থিতিতে তিনি তাঁকে নিয়ে সমালোচনা করতেন। ইমেইলে তিনি অত্যন্ত সোজাসাপটা ভাষায় লেখেন, ‘আমি জেন জ়ি হওয়ায় তিনি আমাকে অপছন্দ করতেন’। পাশাপাশি তিনি আরও অভিযোগ করেন, ইন্টার্নদের থেকে অপ্রত্যশিত আশা করা হত এবং যে পরিমাণ কাজ করানো হত, তার তুলনায় বেতন ছিল অত্যন্ত কম।

    অবশেষে চলতি মাসের ৯ মার্চ তিনি সেখানে ইমেলের মাধ্যমে একটি পদত্যাগপত্র জমা দেন। এই নিয়ে তিনি লেখেন, ‘আমি এই প্রতিষ্ঠান ছাড়ছি।আজ, ৯ মার্চ ২০২৬, আমার শেষ এখানে কাজের দিন’।

    ব্যঙ্গ করে তিনি আরও লেখেন, ‘এখন আর হিসাব মিলছে না। আমার মানসিক স্বাস্থ্য তলানিতে। একা পাঁচজনের কাজ করছি। আর তার বদলে যে ব্যাঙ্ক ব্যালান্স রয়েছে তা প্রায় শূন্য’।

    ভিডিও এডিটর থেকে কনটেন্ট স্ট্র্যাটেজিস্ট, এমনকি কখনও কখনও HR-এর কাজও করতে হতো। তাঁর আরও অভিযোগ, চাকরি ছাড়ার পরও HR বিভাগ থেকে তাঁকে বিভিন্ন ছোটখাট কাজের জন্য ফোন করা হত। যা চরম অপেশাদারিত্বের লক্ষণ।

    প্রতিষ্ঠার এই ভাইরাল হওয়া পদত্যাগপত্রে সোশ্যাল মিডিয়ায় নেটিজ়নদের মন্তব্যের ঝড় উঠেছে। অনেকেই লিখেছেন, ‘একদম সত্যি অভিজ্ঞতা’। অনেকে আবার সংস্থানটির নামও জানেত চেয়েছেন। তবে কর্মপরিবেশে টক্সিক কালচার, কাজের অস্বাভাবিক চাপ, অসম বেতন কাঠামো নিয়ে সাম্প্রতিক অতীতেও অনেক বার কর্মীদের অভিযোগ ভাইরাল হয়েছে।

  • Link to this news (এই সময়)