• ‘আমার ন্যায়বিচার চাই...’, কাটা হাত নিয়ে পুলিশ কমিশনারেটে ITBP জওয়ান, তার পরে...
    এই সময় | ২১ মে ২০২৬
  • প্লাস্টিকের প্যাকেট নিয়ে ইউনিফর্ম পরেই ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন এক ITBP জওয়ান। হঠাৎই পুলিশ কমিশনারেটের অফিসে ঢুকে ওই প্লাস্টিকের প্যাকেট থেকে একটা কাটা হাত বের করে কর্তব্যরত পুলিশ অফিসারের সামনে ধরলেন তিনি। আস্ত কাটা হাত দেখে আঁতকে ওঠেন পুলিশ আধিকারিকরা। এমনই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের কানপুরে।

    জানা গিয়েছে, ওই ITBP (Indo-Tibetan Border Police) জওয়ান অভিযোগ করেছেন, চিকিৎসকদের গাফিলতির কারণেই তাঁর মায়ের ডান হাত কেটে বাদ দিতে হয়েছে। হাসপাতাল ও চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে তিনি মায়ের কাটা হাত নিয়ে সরাসরি পুলিশ কমিশনারের অফিসে পৌঁছে যান। ঘটনাটি সামনে আসতেই রাজ্য জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায়।

    ওই জওয়ানের নাম বিকাশ সিং। তিনি ফতেপুর জেলার আলিমাউ গ্রামের বাসিন্দা এবং বর্তমানে Indo-Tibetan Border Police-এ কর্মরত। তাঁর দাবি, তাঁর ৫৬ বছর বয়সি মা নির্মলা দেবী শ্বাসকষ্ট, দুর্বলতা ও কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় ভুগছিলেন। প্রথমে তাঁকে মহারাজপুরের ITBP হাসপাতালে দেখানো হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য কানপুরের একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয়।

    বিকাশ সিংয়ের অভিযোগ, হাসপাতালে ভর্তি করার পরে তাঁর মাকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয় এবং সেখানে ভুল ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়। এর পর থেকেই তাঁর মায়ের হাত অস্বাভাবিক ভাবে ফুলতে শুরু করে ও কালো হয়ে যায়। পরিস্থিতি দ্রুত খারাপ হতে থাকায় তাঁকে অন্য একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা জানান, সংক্রমণ মারাত্মক আকার নিয়েছে এবং প্রাণ বাঁচাতে ডান হাত কেটে বাদ দেওয়া ছাড়া উপায় নেই। গত ১৭ মে অস্ত্রোপচার করে হাতটি বাদ দেওয়া হয়।

    ঘটনার পর থেকেই বিকাশ সিং বার বার হাসপাতালের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়েরের চেষ্টা করেন। তাঁর দাবি, তিনি রেল বাজার থানায় গিয়েও কোনও সাহায্য পাননি। কোনও এফআইআর নথিভুক্ত করা হয়নি। এর পরেই ক্ষোভে ও হতাশায় তিনি মায়ের সংরক্ষণ করা কাটা হাত নিয়ে পুলিশ কমিশনারের অফিসে হাজির হন। সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই ছবি এখন ভাইরাল। স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।

    ঘটনার জেরে কানপুর পুলিশ কমিশনার রঘুবীর লাল বিষয়টির তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক (CMO)-কে একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করে পুরো ঘটনার তদন্ত করতে বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দুই বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা নথি, চিকিৎসা পদ্ধতি এবং সংক্রমণের কারণ খতিয়ে দেখা হবে বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, ফরেন্সিক পরীক্ষার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। তদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতে আইনি পদক্ষেপ করা হবে বলে প্রশাসনের তরফে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

    এই ঘটনা শুধু চিকিৎসা ব্যবস্থার গাফিলতির অভিযোগ নয়, সাধারণ মানুষের অসহায়তার চিত্রও সামনে এনেছে। একজন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যও অভিযোগ জানাতে এমন চরম পদক্ষেপ করতে বাধ্য হওয়ায় প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন ।

  • Link to this news (এই সময়)