• ভারতে বন্ধ ‘আরশোলা’ পার্টির এক্স হ্যান্ডল, নেপথ্যে কী কারণ?
    এই সময় | ২১ মে ২০২৬
  • ভারতে বন্ধ হয়ে গেল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা আরশোলা জনতা পার্টি (সিজেপি)-র এক্স হ্যান্ডলের অ্যাকাউন্ট। গত কয়েক দিন ধরে সমাজমাধ্যমে খুবই জনপ্রিয় হয়েছে সদ্য জন্ম নেওয়া এই ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক দলের অ্যাকাউন্টটি। ইনস্টাগ্রামেও সেটির অনুগামী (ফলোয়ার্স)-র সংখ্যা বিজেপিকে ছাড়িয়ে গিয়েছে। ঘটনাচক্রে, তার পরেই এক্স কর্তৃপক্ষ ভারতে অ্যাকাউন্টটি বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন।

    এক্স হ্যান্ডলের তরফে জানানো হয়েছে, একটি নির্দিষ্ট দেশের কোনও সরকারি সংস্থা বা আইনি ক্ষমতা রয়েছে, এমন প্রতিষ্ঠানের তরফে আনুষ্ঠানিক ভাবে কোনও নির্দেশ এলে, এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে অ্যাকাউন্টটি সম্পূর্ণ মুছে ফেলা হয় না। শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট দেশের ব্যবহারকারীরা যাতে অ্যাকাউন্টটির কনটেন্ট দেখতে না পান, তার ব্যবস্থা করা হয়। যাতে স্থানীয় আইন অমান্য না হয়, তা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন কর্তৃপক্ষ। তবে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মানুষ অ্যাকাউন্টটি দেখতে পাবেন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা বা ব্লক শুধুমাত্র সেই নির্দিষ্ট দেশ বা এলাকাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে, যেখানকার সরকার বা আইনি কর্তৃপক্ষ এই নির্দেশ দিয়েছেন অথবা যেখানে অ্যাকাউন্টটির কনটেন্ট স্থানীয় আইন ভেঙেছে।’

    বেকার তরুণ-তরুণীদের একাংশ ‘আরশোলা’-র মতো আচরণ করছেন বলে সম্প্রতি মন্তব্য করেছিলেন দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। প্রধান বিচারপতির সেই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়াস্বরূপ ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র যাত্রা শুরু হয় সমাজমাধ্যমে। জেন জ়ি-দের মধ্যেও বিপুল জনপ্রিয় হয় এই ভার্চুয়াল মঞ্চ। গত পাঁচ দিনে ইনস্টাগ্রামে এই মঞ্চের অনুগামীর সংখ্যা দাঁড়ায় ১৩.২ মিলিয়ন, যা বিজেপির চেয়ে প্রায় ৫০ লক্ষ বেশি।

    এই ব্যঙ্গাত্মক মঞ্চের নেপথ্যে রয়েছেন বছর তিরিশের এক যুবক অভিজিৎ দীপকে। তিনি বর্তমানে আমেরিকার বস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ে জনসংযোগ নিয়ে স্নাতকোত্তরের পড়াশোনা করছেন। মাঝে ২০২০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে আম আদমি পার্টির সমাজমাধ্যমের শাখার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন অভিজিৎ। তিনি জানান, দেশের যুবসমাজের ভাবনা, তাঁদের প্রতিবাদ তুলে ধরতেই নতুন প্ল্যাটফর্ম গড়ার ভাবনা মাথায় আসে তাঁর।

    বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অভিজিৎ বলেছেন, ‘সম্মানীয় প্রধান বিচারপতির মন্তব্যের বিরুদ্ধে অল্পবয়সি ছেলেমেয়েদের প্রতিবাদী স্বর তুলে ধরে আরশোলা জনতা পার্টি। প্রধান বিচারপতি সংবিধান, বাক স্বাধীনতার রক্ষক। তাঁর কাছ থেকে এমন মন্তব্য কাম্য নয়। অল্পবয়সি ছেলেমেয়েরা সমালোচনা করলে, এই ভাবে ছোট করা যায় না তাঁদের।’

    অভিজিৎ জানিয়েছেন, ‘আরশোলা জনতা পার্টি’ ধর্মনিরপেক্ষ, সমাজতান্ত্রিক, গণতান্ত্রিক এবং জাতিবিদ্বেষবর্জিত সংগঠন। এই সংগঠন মহাত্মা গান্ধী, বাবাসাহেব আম্বেডকর এবং জওহরলাল নেহরুর আদর্শ অনুসরণ করে চলবে। এই সংগঠনে যোগদানের জন্য চারটি শর্ত রেখেছেন অভিজিৎ। তিনি জানিয়েছেন, বেকার, অলস, অনলাইনে অনেক সময় ব্যয় করেন এবং যাঁরা ভালো সমালোচনা করতে পারেন, তাঁরা যোগ দিতে পারবেন এই সংগঠনে।

    অভিজিতেরা একটি ইস্তেহারও প্রকাশ করেছেন। সব মিলিয়ে পাঁচ দফা দাবি তাঁদের— ১) আসন সংখ্যা না বাড়িয়েই সংসদে মহিলাদের ৫০ শতাংশ সংরক্ষণের করতে হবে। ২) দলবদল করা বিধায়ক এবং সাংসদেরা ২০ বছর নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। ৩) অবসরের পরে রাজ্যসভায় জায়গা দেওয়া যাবে না বিচারপতিদের। ৪) বৈধ ভোটার বাদ পড়লে গ্রেপ্তার করতে হবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে। ৫) ‘গোদি মিডিয়া’র অ্যাঙ্করদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টকে তদন্তের আওতায় আনতে হবে।

  • Link to this news (এই সময়)