পহেলগাম জঙ্গি হামলার ষড়যন্ত্র পাকিস্তানেই হয়েছিল। নিয়ন্ত্রিতও হয়েছিল সেখান থেকে। সম্প্রতি জম্মুর বিশেষ এনআইএ আদালতে চার্জশিট জমা দিয়ে এমনটাই অভিযোগ করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ।
২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল পহেলগামের বৈসরন উপত্যকায় জঙ্গিদের গুলিতে ২৬ জন নিহত হন। তাঁদের মধ্যে ২৫ জন পর্যটক, এক জন স্থানীয় বাসিন্দা। সেই ঘটনার পরেই জানা গিয়েছিল, এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে রয়েছে লস্কর-ই-তৈবার ছায়া সংগঠন দ্য রেজ়িস্ট্যান্স ফ্রন্ট (টিআরএফ)। সূত্রের খবর, এনআইএ তাদের চার্জশিটে জানিয়েছে, ঘটনার পরে প্রথম ‘কাশ্মীর ফাইট’ নামে এক সোশ্যাল মিডিয়ায় ওই হামলার কথা স্বীকার করা হয়। তদন্তে জানা যায়, ওই টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্ট পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া থেকে নিয়ন্ত্রিত হতো। তদন্তে ‘দ্য রেজ়িস্ট্যান্স ফ্রন্ট অফিশিয়াল’ নামে আরও একটি টেলিগ্রাম চ্যানেলের কথা উঠে আসে। সেটিও রাওয়ালপিন্ডি থেকে নিয়ন্ত্রিত হতো বলে দাবি করেছে এনআইএ।
তদন্তে আগেই উঠে এসেছিল পাক-জঙ্গি সইফুল্লা ওরফে সাজিদ জাট ওরফে ‘ল্যাংড়া’-র নাম। এনআইএ চার্জশিটে জানিয়েছে, সে লস্করের সঙ্গে যুক্ত এবং পহেলগাম গণহত্যার মূলচক্রী। ল্যাংড়া লাহোর থেকে সরাসরি হামলাকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিল। নির্দেশও দিয়েছিল তাদের। হামলার আগে ১৫ এবং ১৬ এপ্রিল তিন জঙ্গি বৈসরন উপত্যকায় এসে রেকি করে গিয়েছিল। এনআইএ জানিয়েছে, তাদের নাম ফয়জ়ল জাট ওরফে সুলেমান, হাবিব তাহির ওরফে ছোটু এবং হামজ়া আফগানি। হামলায় পারভেজ় এবং বশির আহমেদ নামে দু’জন পাক জঙ্গিকে তারা সাহায্যও করেছিল বলেও জানিয়েছে এনআইএ।
জঙ্গি হামলার পরে জম্মু-কাশ্মীরে জঙ্গিদের খোঁজে ‘অপারেশন মহাদেব’ শুরু করেছিল ভারতীয় সেনা। কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে, ওই অভিযানে পহেলগাম গণহত্যার সঙ্গে জড়িত তিন জঙ্গিকে হত্যা করা হয়। তাদের কাছ থেকে যে মোবাইলগুলি পাওয়া গিয়েছিল, তার অন্তত দু’টি পাকিস্তানের কোনও এক জায়গা থেকে কেনা হয়েছিল। চার্জশিট অনুযায়ী, ওই দু’টি মোবাইলের মধ্যে একটি কেনা হয়েছিল অনলাইনে। তার পরে তা পাঠানো হয়েছিল লাহোরের ‘কায়েদ-ই-আজ়ম ইন্ডাস্ট্রিয়াল এস্টেট’-এর একটি ঠিকানায়। অন্য মোবাইলটি কেনা হয়েছিল করাচির কোনও এক এলাকা থেকে।