হাওড়ায় পুরভোট কবে? বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর
আজকাল | ২১ মে ২০২৬
আজকাল ওয়েবডেস্ক: দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে থমকে থাকা হাওড়া পুরনিগমের অচলাবস্থা অবশেষে কাটতে চলেছে। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে জনগণের নির্বাচিত বোর্ডের হাতে ক্ষমতা তুলে দিতে বদ্ধপরিকর রাজ্য সরকার।
বৃহস্পতিবার হাওড়ার নাগরিক পরিষেবা, উন্নয়ন এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ে এক উচ্চপর্যায়ের মেগা বৈঠক শেষে খোদ মুখ্যমন্ত্রী এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন। এদিন মুখ্যমন্ত্রী জানান, পুরসভার ভোটের পাশাপাশি ওয়ার্ড ডিলিমিটেশনও হবে।
২০১৩ সালে শেষ ভোট হয়েছিল হাওড়া পুরসভায়। ২০১৮ সালে তার মেয়াদ শেষ হয়। তারপর থেকে পুরপ্রশাসক দিয়েই কাজ চলছিল এখানে। তবে এদিন মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করে দিলেন, ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন হবে হাওড়ায়।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, পুরসভায় দুর্নীতির ক্ষেত্রেও এবার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়ে অল-আউট আক্রমণে নামছে প্রশাসন। এদিনের বৈঠকে হাওড়া পুলিশ কমিশনারেট এলাকার চার বিধায়ক শিবপুরের রুদ্রনীল ঘোষ, জগৎবল্লভপুরের অনুপম ঘোষ, উত্তর হাওড়ার উমেশ রাই এবং বালির সঞ্জয় কুমার সিং উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া জেলাশাসক, সিভিল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, কেএমডিএ, আরপিএফ এবং রেলের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা অংশ নেন। নাগরিক পরিষেবা সচল করতে একটি বিশেষ কোঅর্ডিনেশন কমিটি গঠন করা হয়েছে, যার দায়িত্বে থাকবেন জেলাশাসক এবং নজরদারিতে থাকবেন পুরনগরোন্নয়ন দপ্তরের সচিব খলিল আহমেদ।
পরিশ্রুত পানীয় জল, নিকাশি, সাফাই ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভোলবদল করতে করতে চাইছে রাজ্য। সাংবাদিক সম্মেলনে ওয়ার্ড ডিলিমিটেশনের কাজ দ্রুত শেষ করে বছরের শেষেই গণতান্ত্রিক উপায়ে নির্বাচন করার স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, বিগত দিনে হওয়া সমস্ত অবৈধ নির্মাণ ও জলাশয় ভরাটের বিরুদ্ধে ‘ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিম’ তদন্ত করবে। পুরসভার ১,৭০০ জন চুক্তিভিত্তিক কর্মীর মধ্যে প্রায় ৫০০ জন রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কাজ না করেই বেতন তুলছেন। দলমত নির্বিশেষে এই কালচার বন্ধ করতে হবে, কাজ না করলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।