• 'গরু, ছাগল, উট সব কুরবানি হবে, কেউ রুখতে পারবে না,' শুভেন্দুকে এবার খোলা চ্যালেঞ্জ হুমায়ুনের
    আজ তক | ২১ মে ২০২৬
  • বকরি ইদ যত এগিয়ে আসছে, পশ্চিমবঙ্গে পশুজবাই ঘিরে নানা বিতর্ক চলছে। এহেন পরিস্থিতিতে আম জনতা উন্নয়ন পার্টি (AJUP) নেতা হুমায়ুন কবীরের হুঙ্কার, যেকোনও মূল্যে ইদের দিন পশ্চিমবঙ্গে কুরবানি পালন হবে। 

    কুরবানি নিয়ে শুভেন্দু সরকারকে চ্যালেঞ্জ হুমায়ুনের

    শুভেন্দু অধিকারীর সরকারকে চ্যালেঞ্জ করে বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের বক্তব্য, 'কুরবানি কেউ আটকাতে পারবে না। যে কোনও মূল্যে কুরবানি হবে।' তাঁর কথায়, 'গরুর কুরবানি হবে, ছাগলেরও কুরবানি হবে, উটের কুরবানি হবে, যেসব পশু কুরবানির যোগ্য, সেই সব পশুর কুরবানি হবে, কেউ আটকাতে পারবে না। কুরবানি তো হবেই। কেউ বারণ করলে কান দেওয়া হবে না। ১৪০০ বছরের আগে থেকে কুরবানি পালন করা হচ্ছে। যতদিন এই দুনিয়া থাকবে,ততদিন কুরবানি চলবে।' 

    কী বলছে রাজ্যের নির্দেশিকা?

    ক্ষমতায় এসেই গবাদি পশু নিধন নিয়ে নির্দিষ্ট নির্দেশিকা জারি করেছে রাজ্যের বিজেপি সরকার ৷ ২০১৮ সালের অগস্টে কলকাতা হাইকোর্টের একটি রায়ের উপর ভিত্তি করে ২০২২ সালে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল তৎকালীন তৃণমূল সরকার ৷ সেই বিজ্ঞপ্তি এবং ১৯৫০ সালের পশ্চিমবঙ্গ পশু জবাই নিয়ন্ত্রণ আইন মেনে গত ১৩ মে একটি নির্দেশিকা জারি করেছে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার৷ প্রশাসন জানিয়েছে, ইচ্ছেমতো কোনও গবাদি পশুর জবাই বা হত্যা করা যাবে না । নির্দেশিকা অনুযায়ী, ষাঁড়, বলদ, গরু, বাছুর, পুরুষ ও স্ত্রী মোষ, মোষের বাচ্চা, এই ধরনের পশুগুলির ক্ষেত্রে বলি দেওয়ার জন্য প্রাণীটির বয়স অন্ততপক্ষে ১৪ বছরের বেশি হতে হবে । যদি বয়স ১৪ বছরের কম হয়, তবে সাধারণ পরিস্থিতিতে ওই পশুকে কোনওমতেই বলি দেওয়া যাবে না । 

    তবে এই নিয়মে কিছু বিশেষ ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে। যদি পশুটি বার্ধক্যজনিত কারণে অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়ে, কোনও গুরুতর আঘাত পায়, শারীরিক বিকৃতির শিকার হয় অথবা এমন কোনও দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ার ফলে অক্ষম হয়ে পড়েছে, তবেই তাকে হত্যার জন্য বিবেচনা করা যেতে পারে।

    নাখোদা মসজিদ থেকে ফুরফুরা শরিফ, আইন মানতে রাজি

    কুরবানি নিয়ে যাবতীয় বিতর্কের আবহে ফুরফুরা শরিফের পীরজাদা ত্বহা সিদ্দিকির বক্তব্য, 'নির্দেশিকা মেনে গরু কুরবানি দেওয়া একটি কঠিন প্রক্রিয়ায় পরিণত হতে পারে। তাই কোনও রকম বিতর্ক বা সমস্যায় না জড়িয়ে এবং কুরবানির দিন যাতে কোনও বাধা বা অশান্তি তৈরি না হয়, সেই লক্ষ্যেই মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে এ বছর গরু কুরবানি থেকে বিরত থাকার আবেদন জানাচ্ছি।' অন্যদিকে নাখোদা মসিজদের তরফে bangla.aajtak.in-কে জানানো হয়, রাজ্য সরকারের নির্দেশিকা মেনেই তাঁরা চলবেন। নাখোদা মসজিদের মুখপাত্র নাসির ইব্রাহিম বলেন, 'আমরা আইন মেনে চলা নাগরিক। কেন আমরা আইন অমান্য করব? রাজ্যের সরকার যখন বলে দিয়েছে, প্রকাশ্য প্রাণী জবাই করা যাবে না, তখন বকরি ইদের দিনও তা হবে না। আর এমনটা তো করা উচিতও নয়। অন্য ধর্মের মানুষ পাশে থাকেন, তাঁদের তো অস্বস্তিও হতে পারে।' 
  • Link to this news (আজ তক)