• মানা হবে না অবৈধ নির্মাণ: অগ্নিমিত্রা
    দৈনিক স্টেটসম্যান | ২১ মে ২০২৬
  • কোনও অবৈধ নির্মাণ- তা সৌন্দর্যায়নের উদ্দেশ্যে হোক বা অন্য কোনও কারণে- মেনে নেবে না পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য নগর উন্নয়ন ও পৌর দপ্তর, বুধবার এমনটাই জানান মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।তিনি বলেন, ‘আমরা কোনও অবৈধ নির্মাণের পাশে দাঁড়াব না, কারণ তা অন্য মানুষের জীবনের জন্য বিপজ্জনক। আমরা মালিকদের সময় দিচ্ছি যাতে তাঁরা যে কোনও বৈধ নথি জমা দিতে পারেন। যদি তাঁরা তা করতে ব্যর্থ হন, তাহলে দেশের আইন অনুযায়ী সেই সব নির্মাণ ভেঙে ফেলা হবে।’ বিজেপি মন্ত্রীসভার মন্ত্রী হিসেবে তিনি এই কথা বলেন।

    বুধবার গড়িয়ায় একটি শৌচালয় কমপ্লেক্সের সামনে থাকা শিশুদের নগ্ন ভাস্কর্য ভেঙে ফেলা হয়। এই কমপ্লেক্সটি গড়িয়ার শ্মশানের সামনে একটি জমিতে তৈরি হয়েছিল।অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, ‘গড়িয়ার ওই শৌচালয় কমপ্লেক্সকে নাকি সুন্দর করার জন্য তৎকালীন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস জনসাধারণের কোষাগার থেকে কোটি কোটি টাকা খরচ করেছিলেন। এই ভাস্কর্যগুলি নাকি তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণায় তৈরি করা হয়েছিল। এগুলো সৌন্দর্যের উদাহরণ নয়, বরং বিকৃতির উদাহরণ। এই কমপ্লেক্স তৈরির সময় কোনও আইনি নিয়ম মানা হয়নি। সেই কারণেই এগুলো ভেঙে ফেলা হয়েছে এবং তা সঠিক সিদ্ধান্ত।’

    বিজেপি নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার গঠনের পর থেকেই স্লেজহ্যামার এবং হাইড্রলিক আর্থমুভার (জেসিবি) ব্যবহার করে একাধিক ভাঙচুর অভিযান চালানো হয়েছে। এর আগে এই মাসের শুরুতে কলকাতা পুরসভার একটি দল তিলজলায় দু’টি ভবনে ভাঙচুর অভিযান চালায়।এই দুই ভবনের একটিতে একটি চামড়াজাত পণ্য তৈরির ও জোড়া লাগানোর কারখানা চলত, যেখানে ১২ মে আগুন লেগে দু’জনের মৃত্যু হয় এবং তিনজন গুরুতর আহত হন।

    এই ঘটনার পর পুলিশ ওই কারখানার দুই মালিককে গ্রেপ্তার করে এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তদন্তের নির্দেশ দেন।

    তদন্তে জানা যায়, ওই কারখানাটি কোনও বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই চলছিল এবং কারখানা চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়েছিল। এরপরই ভাঙার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।গড়িয়ায় মিতালি সংঘ ক্লাবের কাছে একটি মাঠে তৈরি করা একটি ঘড়িঘরও ভেঙে ফেলা হয়েছে। শিয়ালদহ ও হাওড়া স্টেশন এবং তাদের সংলগ্ন রাস্তাগুলিতে গজিয়ে ওঠা অবৈধ দখল ও দোকান সরাতে উচ্ছেদ এবং ভাঙচুর অভিযান চালানো হয়েছে।এছাড়াও রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় একই ধরনের অভিযান চালানো হয়েছে।কলকাতা পুরসভা মঙ্গলবার ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ এবং তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যুক্ত সম্পত্তিতে অনিয়ম ও অবৈধ নির্মাণের অভিযোগে নোটিস পাঠিয়েছে।

    কলকাতা পৌর আইন, ১৯৮০-এর ৪০০(১) ধারায় পুরসভার বিল্ডিং দফতর এই নোটিস পাঠায়। নোটিস দুটি ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের ৭৩ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত ১২১, কালীঘাট রোড এবং ১৮৮এ, হরিশ মুখার্জি রোডের সম্পত্তি নিয়ে। একটি নোটিস পাঠানো হয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মা লতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে, এবং অন্যটি পাঠানো হয়েছে ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’ নামে একটি সংস্থাকে, যা ওই তৃণমূল নেতার সঙ্গে যুক্ত বলে পরিচিত। অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, ‘অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আইনের ঊর্ধ্বে নন। তাই তাঁকে নোটিস পাঠানো হয়েছে। তিনি নথিপত্র জমা দিন। যদি তা করতে না পারেন, তাহলে কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।’

    বুধবার কলকাতার মেয়র এবং তৃণমূল নেতা ফিরহাদ হাকিম এক সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, তিনি এই নোটিস সম্পর্কে কিছুই জানেন না। কলকাতা পুরসভার বরো ৯-এর চেয়ারপার্সন দেবলীনা বিশ্বাস মঙ্গলবার পদত্যাগপত্র দেন এবং জানান, নিজের দল থেকেই নোটিস পাঠানোর পর তাঁর  উপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল। অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, মেয়রের নোটিস সম্পর্কে না জানা ‘স্বাভাবিক’।

    তিনি বলেন, ‘এটা কি স্বাভাবিক নয় যে তিনি কিছু জানবেন না? তিনি সর্বত্র অবৈধ নির্মাণের দিকে চোখ বন্ধ করে রেখেছেন। কিন্তু এই সরকার ব্যক্তি বা ধর্ম নির্বিশেষে কাজ করবে। বাংলায় ভালো কাজ করার জন্য আমাদের ফিরহাদ হাকিমের মতো লোকের প্রয়োজন নেই। আমরা বোকাদের স্বর্গে থাকতে চাই না। তিনি (অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়) ততটা বিশেষ কেউ নন। অন্যদের মতো তাঁকেও নোটিস দেওয়া হয়েছে।’

    তিনি আরও বলেন, বিজেপি সরকার বুলডোজার ব্যবহার করে বিরোধীদের দমন করছে- এই ধারণা ভুল। নোটিস পাঠানোর উদ্দেশ্য হলো যাতে অবৈধ নির্মাণের মালিকরা বা ‘যাঁরা অনুমোদিত নকশা থেকে বিচ্যুত হয়েছেন, তাঁরা তা সংশোধন করতে পারেন।অগ্নিমিত্রা বলেন, ‘আমরা কাউকে নিজে থেকে বাড়ি ভাঙতে বলব না। কিন্তু যদি শেষ পর্যন্ত কেউ কোনও বৈধ কাগজ দেখাতে না পারেন, তাহলে সেটি ভাঙতেই হবে। এই ধরনের ভবন যে কোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে এবং মানুষের জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এমন ভবনে আগুন লাগলে আশপাশের মানুষের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে
  • Link to this news (দৈনিক স্টেটসম্যান)