প্রশাসনিক বৈঠকে জোড়া দাবি মাটিগাড়া-নকশালবাড়ির বিধায়কের
দৈনিক স্টেটসম্যান | ২১ মে ২০২৬
শিলিগুড়ির প্রশাসনিক কাঠামোয় বড় পরিবর্তনের লক্ষ্যে এবার আসরে নামলেন মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি কেন্দ্রের বিধায়ক আনন্দময় বর্মণ। বুধবার উত্তরবঙ্গের প্রশাসনিক সদর দপ্তর উত্তরকন্যায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে তিনি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হাতে দু’টি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবপত্র তুলে দেন। ওই প্রস্তাবে শিলিগুড়িকে আলাদা প্রশাসনিক জেলা হিসেবে ঘোষণার দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি নকশালবাড়ি, খড়িবাড়ি এবং ফাঁসিদেওয়া থানাকে শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের অন্তর্ভুক্ত করার আবেদনও জানান তিনি। বিধায়কের মতে, এই পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে প্রশাসনিক কাজকর্ম আরও গতিশীল ও কার্যকর হবে।
দীর্ঘদিন ধরেই শিলিগুড়ি শহরকে একটি পৃথক প্রশাসনিক জেলার দাবি জানিয়ে আসছেন সেখানকার বাসিন্দারা। বুধবারের বৈঠকে বিধায়ক বলেন, শিলিগুড়ির মানুষকে দার্জিলিং জেলা সদর বা জলপাইগুড়ির সদর অফিসে যেতে হয়। এরফলে সময়ের সঙ্গে অর্থেরও অপচয় হয়। পাহাড়ের দুর্গম পথ এবং দূরত্বের জন্য সাধারণ মানুষকে ভোগান্তির শিকার হতে হয়। বিধায়ক প্রস্তাব দেন, শিলিগুড়ি মহকুমার দার্জিলিং জেলার অংশ এবং জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জ ব্লকের কিছু অংশ (ডাবগ্রাম-১, ২ ও ফুলবাড়ি-১, ২ গ্রাম পঞ্চায়েত এবং শিলিগুড়ি পুরসভার ৩১-৪৪ নম্বর ওয়ার্ড) নিয়ে এই নতুন জেলা গঠিত হতে পারে।
এর ফলে শিলিগুড়ি, মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি, ফাঁসিদেওয়া এবং ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি এই চারটি বিধানসভা এলাকার প্রায় ২৫ লক্ষ মানুষ উপকৃত হবেন। বিধায়কের মতে, শিলিগুড়িতে ইতিমধ্যেই জেলা হাসপাতাল, মহকুমা পরিষদ ও কমিশনারেটের মতো পরিকাঠামো রয়েছে, ফলে নতুন জেলা গঠন প্রশাসনিক কাজের গতি বাড়াবে। ২০২২ সালে রাজ্য সরকার সাতটি নতুন জেলা গঠনের অনুমোদন দিয়েছিল, শিলিগুড়িকেও সেই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
জেলা গঠনের পাশাপাশি, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে নকশালবাড়ি, খড়িবাড়ি ও ফাঁসিদেওয়া থানাকে শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের অন্তর্ভুক্ত করার দাবিও তুলেছেন বিধায়ক। এই এলাকাগুলো বর্তমানে জেলা পুলিশের অধীনে থাকলেও, দ্রুত নগরায়ণ ও স্পর্শকাতর ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে কমিশনারেট ব্যবস্থার অধীনে নিয়ে আসা জরুরি বলে মনে করছেন তিনি।
নেপাল ও বাংলাদেশ সীমান্ত এবং কৌশলগত ‘চিকেনস নেক’ করিডোরের কাছাকাছি অবস্থিত হওয়ায় এখানে আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা প্রয়োজন। দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও বাণিজ্যিক প্রসারের ফলে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ এবং সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় কমিশনারেট ব্যবস্থার প্রযুক্তিগত পরিকাঠামো এই অঞ্চলের জন্য অপরিহার্য। প্রশাসনিকভাবে শিলিগুড়ির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হওয়ায়, এই তিনটি থানা কমিশনারেটের অধীনে আনা হলে পুলিশের কাছে সাধারণ মানুষের পৌঁছনো অনেক বেশি সহজ হবে।
মুখ্যমন্ত্রীর কাছে বিধায়কের এই দাবি প্রশাসনিক মহলে ও শিলিগুড়ির সচেতন নাগরিক সমাজে আলোড়ন ফেলে দিয়েছে। বিধায়ক আশা প্রকাশ করেছেন যে, এলাকার দীর্ঘদিনের এই দাবিগুলো পূরণ হলে উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার শিলিগুড়ির প্রশাসনিক কাঠামো আরও সুসংহত হবে। এখন দেখার বিষয়, রাজ্য সরকার এই প্রস্তাবগুলোর প্রেক্ষিতে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে। বিধায়ক আনন্দময় বর্মণ বলেন, ‘শিলিগুড়িবাসী দীর্ঘদিন ধরে যে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন, তা নিরসনে এই পদক্ষেপ অপরিহার্য। শিলিগুড়ি কেবল একটি শহর নয়, এটি উত্তরবঙ্গের অর্থনৈতিক কেন্দ্রবিন্দু।
অথচ এখানকার মানুষকে প্রশাসনিক কাজের জন্য দার্জিলিং কিংবা জলপাইগুড়ি সদরে যেতে ভোগান্তির শিকার হতে হয়। যা মেনে নেওয়া কঠিন। পাহাড়ের দুর্গম পথ এবং প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরত্ব পাড়ি দিতে সাধারণ মানুষের যে সময় ও অর্থের অপচয় হচ্ছে, তা শিলিগুড়িতে নিজস্ব প্রশাসনিক জেলা গড়ে তুললে বন্ধ হবে।‘ তিনি আরও যোগ করেন, ‘শিলিগুড়িতে জেলা হাসপাতাল, মহকুমা পরিষদ এবং পুলিশ কমিশনারেটের মতো সমস্ত প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো আগে থেকেই রয়েছে। ফলে নতুন করে বড় কোনও বিনিয়োগ ছাড়াই প্রশাসনিক জেলা হিসেবে শিলিগুড়ি পূর্ণমাত্রায় কাজ করতে সক্ষম।‘