কল্যাণী এইমসে অত্যাধুনিক সিওটু লেজার ইউনিটের উদ্বোধনের সঙ্গে সঙ্গে খুলে গেল চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত। আর সেই ইউনিটের উদ্বোধন করে বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya) জানান, “পশ্চিমবঙ্গে আরও একটি নতুন এইমস গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে উত্তরবঙ্গে। তবে একটি পূর্ণাঙ্গ এইমস তৈরি ও সম্পূর্ণ পরিষেবা চালু করতে সাধারণত ১০ থেকে ১২ বছর সময় লাগে।” বুধবার কল্যাণী এইমস-এ উদ্বোধন হল অত্যাধুনিক সিওটু লেজার ইউনিটের। উদ্বোধন করেন শমীক ভট্টাচার্য এবং এইমস কল্যাণীর ডিরেক্টর ড: অরবিন্দ সিনহা। জানা গিয়েছে, এয়ারপোর্ট অথরিটি অফ ইন্ডিয়া তাদের সিএসআর ফান্ড থেকে এই অত্যাধুনিক ইউনিট তৈরিতে সহযোগিতা করেছে। চিকিৎসকদের দাবি, এই লেজার প্রযুক্তির মাধ্যমে ত্বকের বিভিন্ন দাগ, ক্ষত, গ্রোথ, টিউমার এবং নাকের জটিল রিপেয়ার সার্জারির মতো কাজ আরও নিখুঁতভাবে করা সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠান শেষে সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya) বলেন, “নির্বাচনের আগে স্বাস্থ্যব্যবস্থা উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। এখনও সম্পূর্ণ মন্ত্রিসভা গঠন হয়নি। চিকিৎসকদের দীর্ঘদিন ধরে ‘পানিশমেন্ট পোস্টিং’ ও রাজনৈতিক চাপের মধ্যে কাজ করতে হয়েছে। তবে নতুনভাবে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর চেষ্টা চলছে।” কেন্দ্রীয় সরকার পশ্চিমবঙ্গের সামগ্রিক উন্নয়নে বদ্ধপরিকর বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর কথায়, “পশ্চিমবঙ্গ একসময় শিল্প ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে সারা বিশ্বের কাছে পরিচিত ছিল। এই রাজ্য পিছিয়ে পড়তে পারে না। প্রধানমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিতে চান।”
এদিন অনাবাসী ভারতীয়দেরও রাজ্যে বিনিয়োগ ও উন্নয়নের কাজে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান সাংসদ। পাশাপাশি পঞ্চায়েত স্তরে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নিয়েও কটাক্ষ করেন তিনি। তাঁর দাবি, “তৃণমূল প্রধানদের ইস্তফা দেওয়ার ঘটনায় বিজেপির কোনও ভূমিকা নেই। এগুলি তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের ফল।” বিরোধী রাজনীতির প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। বলেন, “গণতন্ত্রে শক্তিশালী বিরোধী থাকা জরুরি। বিরোধী না থাকলে উন্নয়নের সঠিক মূল্যায়ন সম্ভব নয়।”