• ‘৪ তারিখে দিল্লির কোন বাবা বাঁচাবে’, শাহকে অভিষেকের ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ মন্তব্যে প্রবল ক্ষুব্ধ বিচারপতি 
    প্রতিদিন | ২১ মে ২০২৬
  • ২৭ এপ্রিল আরামবাগে ভোটপ্রচারে গিয়ে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নাম না করে অমিত শাহকে নজিরবিহীন আক্রমণ করেছিলেন। বলেছিলেন, “৪ তারিখে দেখব দিল্লির কোন বাবা বাঁচাবে।” সেই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে অভিষেকের বিরুদ্ধে দায়ের হয়েছিল এফআইআর। সেই মন্তব্য সংক্রান্ত মামলায় অভিষেকের উপর বেজায় ক্ষুব্ধ কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, “৪ তারিখ যদি ভোটের ফল অন্য হত, তাহলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যেতে পারত।” তবে বিরক্ত হলেও ৩০ জুলাই পর্যন্ত তাঁকে রক্ষাকবচ দেওয়া হয়েছে। তবে বেঁধে দেওয়া হয়েছে। আপাতত বিদেশে যেতে পারবেন না তিনি।

    ঘটনার সূত্রপাত ২৭ এপ্রিল। ওইদিন ভোটপ্রচারে আরামবাগ গিয়েছিলেন তিনি। সেখানে তিনি বলেছিলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উদার। আমি উদার নই। এবার বিষয়টা আমি দেখে নেব। ৪ মে ১২ টার পর দেখব দিল্লির কোন বাবা বাঁচায়।” তবে শুধু একবার নয়, ভোটপ্রচারে বারবার বেলাগাম হয়েছেন অভিষেক। ফলতায় প্রচারে গিয়ে বলেছিলেন, “জাহাঙ্গির বলেছে, একটা বৈদ্যুতিন চুল্লি বানিয়ে দিতে। ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর তো অনেকের হার্ট ফেল হবে।” তার ডিজে মন্তব্যও বিতর্ক তৈরি করেছিলেন। পালাবদল হতেই আরামবাগের মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিধাননগর কমিশনারেটের সাইবার ক্রাইম শাখায় দায়ের হয় এফআইআর। এরপরই মামলা খারিজের আর্জি ও রক্ষাকবচ চেয়ে হাই কোর্টে যান অভিষেক। বৃহস্পতিবার ছিল সেই মামলার শুনানি। সেখানেই বিচারপতি প্রশ্ন করেন, একজন ৩ বারের সাংসদ, উচ্চপদস্থ ব্যক্তি কীভাবে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য করেন। তাঁর এমন মন্তব্যের প্রয়োজনীয়তা কী সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। এরপরই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “শাহও তো অনেক কিছু বলেন।” এরপরই বিচারপতি বলেন, “৪ মে যদি ভোটের ফল অন্যরকম হত, তাহলে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে পারত।”

    এরপর বিচারপতি বলেন, মানুষ ভালোর কথা ভেবেই ২০১১ য় পরিবর্তন এনেছিল।  পালটা কল্যাণ বলেন, মানুষ ২০২৬ এও ভালোর কথাই ভেবেছে। এরপর বিচারপতি ভট্টাচার্য বলেন, “সেটা সময় বলবে।” মামলা চলাকালীন চূড়ান্ত বিরক্ত প্রকাশ করলেও অভিষেককে রক্ষাকবচ দিয়েছেন বিচারপতি। তবে বেঁধে দেওয়া হয়েছে একাধিক শর্ত। বলা হয়েছে, তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে এবং তা সশরীরে হাজিরা দিয়ে। যেতে পারবেন না বিদেশে। তবে ভারচুয়ালি হাজিরার অনুমতি চাইলেও আদালত তা মঞ্জুর করেনি। পাশাপাশি তাঁকে তলবের ক্ষেত্রে ৪৮ ঘণ্টা আগে নোটিস দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছে আদালত। এপ্রসঙ্গে বিধায়ক সজল ঘোষ বলেন, “আমরা তো কিছু করছি না। জনগন ওনাদের চোর বলছে, বাড়ি থেকে বেরচ্ছেন না কেন উনি।”
  • Link to this news (প্রতিদিন)