অনুপ্রবেশকারী ইস্যুতে ফের কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari)। এবার হাওড়া স্টেশনে কোনও অনুপ্রবেশকারী ধরা পড়লে আর আদালতে পেশ নয়। সরাসরি তুলে দেওয়া হবে বিএসএফের হাতে। বুধবারই রাজ্যে অনুপ্রবেশকারী ইস্যুতে নয়া বিধি কার্যকর হয়েছে। এরপরেই হাওড়া পুলিশ কমিশনারেটের কমিশনারকে এহেন নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
আজ, বৃহস্পতিবার হাওড়ায় সমস্ত আধিকারিক, প্রশাসনিক কর্তাদের নিয়ে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। এরপরেই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন তিনি। অনুপ্রবেশ ইস্যুতে কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। স্পষ্ট জানান, ”কমিশনারকে নির্দেশ দিয়েছি, এবার থেকে হাওড়া স্টেশনে কোনও অনুপ্রবেশকারী ধরা পড়লে আর আদালতে পেশ করা হবে না। খাইয়ে-দাইয়ে সোজা বনগাঁ দিয়ে বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হবে।”
বুধবারই কেন্দ্রের নির্দেশিকা মেনে বাংলায় ‘পুশব্যাক’ আইন কার্যকর করার ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। সাংবাদিক বৈঠকে তিনি জানান, এবার থেকে অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশিদের সরাসরি বিএসএফের হাতে তুলে দেবে পুলিশ। তারপর প্রটোকল মেনে বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর (বিজিবি) হাতে তুলে দেওয়া হবে অনুপ্রবেশকারীদের এহেন ঘোষণার পরেই মতুয়াদের মধ্যে তৈরি হয়েছে দেশছাড়ার শঙ্কা! যদিও স্পষ্ট ভাষায় মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, সিএএ-র আওতায় কোনও হিন্দু ধর্মাবলম্বী বা বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তান থেকে আগত নির্যাতিত সংখ্যালঘুদের বিতাড়িত করা হবে না। তাঁরা যথাযথ প্রক্রিয়ায় ভারতের নাগিরকত্ব পাবেন।
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, “সিএএ-র অন্তর্ভুক্ত ৭টি কমিউনিটি বা ধর্ম পালন করা লোকেরা তাঁরা সিএএ অনুযায়ী আওতায় আসবেন। যাঁরা ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে ভারত তথা বাংলায় এসেছেন তাঁদের পুলিশ কোনওভাবেই হেনস্তা বা আটক করতে পারবে না। সিএএ-র আত্ততায় যারা নেই তারা পুরোপুরি অবৈধ অনুপ্রবেশকারী। তাদের পুলিশ আটক করে বিএসএফের হাতে তুলে দেবে। বিএসএফ আইন অনুযায়ী, বিজিবি-র সঙ্গে কথা বলে তাদেরকে বিতাড়িত করবে।” এই আইন বুধবার থেকেই কার্যকর হয়েছে বাংলায়। এরপরেই পুলিশকে মুখ্যমন্ত্রীর এহেন নির্দেশ খুবই তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, অবৈধ বাংলাদেশি নিয়ে যে আর কোনও রেয়াত নয়, তা তাঁর কথাতেই স্পষ্ট।