ইস্তফা দিতে পারেন ফিরহাদ! ‘অশনি সংকেত’ দেখে দলীয় কাউন্সিলদের বৈঠকে ডাকলেন মমতা
প্রতিদিন | ২১ মে ২০২৬
সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে তরী ডুবেছে তৃণমূল কংগ্রেসের। যে কলকাতা তাদের খাস গড় ছিল, সেখানেও ১১টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ৬টিই গিয়েছে বিজেপির দখলে। এর প্রভাব পড়ছে কলকাতা পুরসভাতেও। ১৪৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১০২টিতেই এগিয়ে বিজেপি প্রার্থীরা। কলকাতা পুরসভা এখনও খাতায়-কলমে তৃণমূল কংগ্রেসের দখলে থাকলেও এরপর একের পর এক ঘটনায় কার্যত খুঁটি নড়ে গিয়েছে, তা স্পষ্ট। মেয়র ফিরহাদ হাকিমের অজ্ঞাতসারে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে বিল্ডিং বিভাগের তরফে ভাঙার নোটিস, সপুত্র মালা রায়ের বিরুদ্ধে অস্ত্র মামলার মতো ঘটনা ঘটেছে। রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা, ফিরহাদ হাকিম মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিতে পারেন। তা নাকি তিনি দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জানিওয়েছেন। এতে ‘অশনি সংকেত’ টের পেয়েই দলকে আগলাতে দলীয় কাউন্সিলরদের তড়িঘড়ি বৈঠকে ডাকলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। জানা যাচ্ছে, শুক্রবার বিকেল ৪টেয় কালীঘাটের বাড়িতে বৈঠক করবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শুক্রবার দুপুর থেকে পুরসভায় অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানানো হয়েছে, ওই অধিবেশন আপাতত বাতিল। তারপর বিকেলে ওই বৈঠক ডাকা হয়েছে কালীঘাটে। সূত্রের খবর, দলীয় কাউন্সিলরদের ওই বৈঠকে থাকবেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এই মুহূর্তে পুরসভায় ১৩৭ জন তৃণমূল কাউন্সিলর রয়েছেন। কিন্তু এঁদের মধ্যে অনেকেই নিজেদের ওয়ার্ডে ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটে পিছিয়ে। বিজেপি রাজ্যের ক্ষমতায় আসতেই তাঁরা আরও কোণঠাসা। এই অবস্থায় ফিরহাদ হাকিমের ইস্তফা-জল্পনায় আরও ডামাডোল তৈরি হয়েছে।
আগামী ডিসেম্বরে কলকাতা পুরসভার ভোট হওয়ার কথা। তবে নিয়ম অনুযায়ী, রাজ্য সরকার চাইলে এই ভোট এগিয়ে নিয়ে আসতে পারে। সূত্রের খবর, মেয়র পদে থাকা ফিরহাদ হাকিম সত্যিই যদি ইস্তফা দেন, তাহলে হয়ত প্রশাসক না বসিয়ে আগেই নির্বাচনের পথে হাঁটতে পারে রাজ্যের নতুন সরকার।