• আমচুর-গরম মশলা নিয়ে প্লেনে, ৫৭ দিনের জেল ব্যবসায়ীর! বিদেশি যন্ত্রের ভুলের খেসারত ১০ লক্ষ টাকা
    এই সময় | ২১ মে ২০২৬
  • মালয়েশিয়া যাচ্ছিলেন এক ব্যবসায়ী। ভোপাল বিমানবন্দরের স্ক্যানার মেশিনে তাঁর ব্যাগে ধরা পড়েছিল ‘হেরোইন’-এর মতো মাদক! পরে অবশ্য জানা যায় তাঁর ব্যাগ থেকে পাওয়া পাউডার মোটেই মাদক নয়। কিন্তু ততদিনে টানা ৫৭ দিন জেল খাটা হয়ে গিয়েছিল ওই ব্যবসায়ীর। এর পরে দীর্ঘ ১৫ বছর আইনি লড়াই। অবশেষে নজিরবিহীন রায় দিল মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট। বিনা দোষে জেল খাটার খেসারত হিসেবে ওই ব্যবসায়ীকে ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি দীপক খোট।

    ঘটনার সূত্রপাত ২০১১ সালে। ভোপাল বিমানবন্দর থেকে দিল্লি হয়ে মালয়েশিয়া যাওয়ার কথা ছিল ওই ব্যবসায়ীর। কিন্তু সুরক্ষাবলয় পার করার সময়ে বিমানবন্দরের অত্যাধুনিক ‘এক্সপ্লোসিভ ট্রেস ডিটেক্টর’ (ETD) মেশিনে ওই ব্যবসায়ীর ব্যাগে থাকা গরম মশলা ও আমচুর পাউডারের প্যাকেট আসতেই লাল আলো জ্বলে ওঠে।

    বিদেশি প্রযুক্তির ওই স্ক্যানার ওই দুই মশলার সুগন্ধকে ভুল করে ‘হেরোইন’ এবং ‘MDEA’ মাদক হিসেবে চিহ্নিত করেছিল। তৎক্ষণাৎ মাদক আইনের (NDPS Act) আওতায় গ্রেপ্তার করা হয় তাঁকে।

    গ্রেপ্তারের পরে স্থানীয় আঞ্চলিক ফরেনসিক ল্যাব জানায়, এই ধরনের মাদক পরীক্ষার আধুনিক পরিকাঠামোই তাদের কাছে নেই! ফলে নমুনা পাঠানো হয় হায়দরাবাদের কেন্দ্রীয় ল্যাবে। সেই রিপোর্ট আসতে আসতে কেটে যায় মূল্যবান ৫৭টি দিন। রিপোর্টে যখন প্রমাণিত হয় ওগুলি শুধুই রান্নার মশলা, ততদিনে ওই ব্যবসায়ী মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। ধুলোয় মিশে গিয়েছিল তাঁর সামাজিক সম্মান।

    পরে বিশেষ আদালত মামলাটি বন্ধ করে দিলেও সম্মান পুনরুদ্ধারের পাল্টা লড়াইয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি। আদালতে ব্যবসায়ীর আইনজীবী যুক্তি দেন, বিমানবন্দরে যে স্ক্যানার মেশিনটি ছিল সেটি কানাডায় তৈরি। সেটি ভারতীয় সুগন্ধি মশলার গন্ধ চেনার জন্য ‘ক্যালিব্রেটেড’ ছিল না। তারই খেসারত দিতে হয় ওই নির্দোষ ব্যবসায়ীকে।

    দীর্ঘ শুনানির পরে ২০২৬ সালের এপ্রিলে হাইকোর্ট স্পষ্ট জানায়, সরকারি কর্মচারীদের বা ব্যবস্থার এই ভুলের জন্য ‘স্টেট’ বা রাষ্ট্র ‘Vicariously Liable’ অর্থাৎ, এর দায় এড়াতে পারে না রাষ্ট্র। বিচারপতি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, উপযুক্ত প্রযুক্তি ও পরিকাঠামো থাকলে ওই ব্যক্তিকে অনেক আগেই ছেড়ে দেওয়া যেত। সাধারণ নাগরিকের বেঁচে থাকা ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার মৌলিক অধিকার খর্ব করার অপরাধে রাজ্য সরকারকে আগামী ৩ মাসের মধ্যে ১০ লক্ষ টাকা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

  • Link to this news (এই সময়)