• বাংলো ছেড়ে আশ্রমে আশ্রয়, বানপ্রস্থে প্রশান্ত কিশোর নাকি নয়া কৌশল?
    এই সময় | ২১ মে ২০২৬
  • তাঁকে এক সময়ে ভারতীয় রাজনীতিতে চাণক্যের সঙ্গে তুলনা করা হতো। সরাসরি রাজনীতি না করেও, ভোটের ময়দানে কোন কৌশলে বিপক্ষের রাজনৈতিক দলকে মাত দেওয়া যায়, তার ছক তৈরি করতে সিদ্ধহস্ত ছিলেন কিনি। ভোটকুশলী নামে খ্যাত সেই প্রশান্ত কিশোর, বছর কয়েক আগে কেরিয়ার বদলে ফেলেছিলেন। কৌশলে আটকে না থেকে, সরাসরি ভোট-ময়দানে নেমেছিলেন তিনি, তৈরি করেছিলেন জন সুরাজ পার্টি। নিজের রাজ্য বিহারের বিধানসভা ভোটে তুমুল প্রচার করেও বিজেপি-জেডিইউ-এর ঢেউয়ে খালি হাতে ফিরতে হয়েছে তাঁকে। এ বার আরও এক বড় ঘোষণা করলেন প্রশান্ত কিশোর। আপাতত পাটনার কাছেই একটি আশ্রমে ঘাঁটি গাড়লেন তিনি। যার নাম বিহার নবনির্মাণ আশ্রম।

    বিহারের দ্বারভাঙায় সাংবাদিকদের তিনি বলেছেন, ‘আমি পাটনায় যেখানে ছিলাম, সেই জায়গা ছেড়ে দিয়েছি। IIT-পাটনার কাছেই রয়েছে বিহার নবনির্মাণ আশ্রম। সেখানেই আগামী বিধানসভা নির্বাচন পর্যন্ত আমি থাকব।’ তাঁর আশা, বিহারের আগামী বিধানসভায় প্রভাব ফেলতে পারবে জন সুরাজ পার্টি।

    তাহলে কি বানপ্রস্থে গেলেন প্রশান্ত কিশোর? রাজনীতির ময়দানে আর দেখা যাবে না তাঁকে? তেমনটা কিন্তু নয়। আপাতত ওই আশ্রম থেকে দলের কাজকর্ম পরিচালনা করবেন তিনি। প্রশান্ত কিশোর বুঝিয়ে দিয়েছেন, আগামী বিধানসভা নির্বাচন পর্যন্ত ওই আশ্রম থেকেই তিনি দলের কাজ দেখভাল করবেন।

    এরই মধ্যে নীতীশ কুমারকে নিশানা করেছেন প্রশান্ত কিশোর। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরে, সেই পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে রাজ্যসভায় যাওয়াকে কটাক্ষ করে কিশোরের দাবি, আর্থিক সমস্যার কারণে বিহারের বাসিন্দাদের রাজ্য ছেড়ে চলে যাওয়া আটকাতে না পেরে, তিনি নিজেই রাজ্য ছেড়ে চলে গেলেন। আপাতত পশ্চিম এশিয়ার জটিলতার কারণে পেট্রল-ডিজ়েলের দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। সারের সঙ্কটের ফলে কৃষিকাজেও ধাক্কা আসতে পারে বলে মনে করছেন তিনি।

    এতদিন বিহারের কাছেই শেখপুরা হাউস নামে একটি বাংলোয় থাকতেন তিনি। পাটনা বিমানবন্দরের কাছে থাকা ওই বাংলোটি জন সুরাজের জাতীয় সভাপতি এবং বিজেপি-র প্রাক্তন সাংসদ উদয় সিংয়ের পরিবারের। এই সিং পরিবারের বিহারের রাজনীতিতে পরিচিত। উদয় সিংয়ের দাদা এনকে সিং রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ এবং অর্থ কমিশনের সদস্য ছিলেন। তাঁদের মা, প্রয়াত মাধুরী সিং একাধিকবারের কংগ্রেস সাংসদ ছিলেন।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, বিহারের রাজনীতির ইতিহাস অনুকরণ করতেই প্রশান্ত কিশোর তাঁর রাজনীতির এপিসেন্টার করছেন এমন একটি জায়গাকে, যার নামের সঙ্গে আশ্রম রয়েছে। দলের মারাত্মক পরাজয়ের পরে নীতিগত অবস্থান শক্ত করে দলের ভিত্তি মজবুত করতেও এই পদক্ষেপ করা হয়ে থাকতে পারে। বিহারের রাজনৈতিক ইতিহাসে রয়েছে জয়প্রকাশ নারায়ণের আন্দোলন, মহাত্মা গান্ধীর নীতির ভিত্তিতে হওয়া আন্দোলন, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের ধারা। এছাড়াও সদাকত আশ্রমের ইতিহাসও মনে করাচ্ছেন কেউ কেউ। ১৯২১ সালে পাটনায় তৈরি হওয়া ওই আশ্রমের সঙ্গে গভীর যোগ ছিল ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের। তৎকালীন কংগ্রেসের প্রথমসারির একাধিক মুখও জুড়েছিলেন সদাকত আশ্রমের সঙ্গে।

    বিহার রাজনীতিতে সূদূরপ্রসারী ছাপ ফেলতে এবং আলাদা করে একটি নীতি-নির্ভর (ideological) জন-আন্দোলন গড়ে তোলার জন্যই কি প্রশান্ত কিশোরের ‘আশ্রম কৌশল’? উত্তর লুকিয়ে ভবিষ্যতের গর্ভে।

  • Link to this news (এই সময়)