মধ্যপ্রদেশের ধারের বিতর্কিত ভোজশালা চত্বরকে হাইকোর্ট 'বাগদেবী' অর্থাৎ, ‘সরস্বতীর মন্দির' হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এর পরেই ওই চত্বর থেকে সমস্ত ‘অননুমোদিত ইসলামী প্রতীক’ অপসারণের দাবি জানাল হিন্দু পক্ষ। বুধবার (২০ মে) ASI এবং কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রকের কাছে এই মর্মে পৃথক আবেদন জমা পড়েছে। অন্যদিকে, হাইকোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হতে চলেছে মুসলিম পক্ষ।
আশিস গোয়েল নামে এক ব্যক্তি ASI-এর কাছে এই আবেদন করেছেন। আশিস ‘হিন্দু ফ্রন্ট ফর জাস্টিস’ নামে এক হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের সদস্য। তাঁর দাবি, যেহেতু ১৫ মে হাইকোর্ট এই স্থানটিকে মন্দির বলে নিশ্চিত ভাবে ঘোষণা করেছে, তাই প্রাঙ্গণে থাকা সমস্ত অননুমোদিত ইসলামিক চিহ্ন বা প্রতীক অবিলম্বে সরিয়ে ফেলতে হবে।
একই সঙ্গে, মন্দিরে প্রবেশের জন্য বর্তমানে যে ১ টাকা প্রবেশমূল্য দিতে হয়, তা বন্ধ করে ভক্তদের বিনামূল্যে প্রবেশাধিকার দেওয়ার দাবিও তুলেছেন তিনি। তাঁর দাবি, হাইকোর্টের রায়ের পরে এই প্রবেশমূল্য নেওয়া, কার্যত আদালত অবমাননার সামিল। পাশাপাশি, চত্বরের দক্ষিণ-পূর্ব অংশের একটি বন্ধ ঘর খোলার দাবিও জানিয়েছেন তিনি।
কুলদীপ তিওয়ারি নামে আরও এক হিন্দু আবেদনকারী দাবি করেছেন, ওই চত্বরে মাটির নীচে হনুমান-সহ একাধিক হিন্দু দেবদেবীর মূর্তি পোঁতা রয়েছে বলে স্থানীয় বিশ্বাস। সেই কারণে সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক উপায়ে খননকার্য চালিয়ে ওই মূর্তিগুলি উদ্ধার করে যাতে ধর্মীয় রীতি মেনে ফের সেগুলিকে ওই মন্দিরে প্রতিষ্ঠা করা হয়, তার আবেদন করেছেন তিনি।
২০০৩ সালে ASI নির্দেশ দিয়েছিল, শুক্রবার ওই চত্বরে মুসলিমরা নমাজ পড়বেন এবং মঙ্গলবার হিন্দুরা পূজা করবেন। তবে ১৫ মে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট এই নির্দেশ বাতিল করে স্পষ্ট জানায়, এই চত্বরটি বাগদেবীর মন্দির। মুসলিমদের মসজিদ নির্মাণের জন্য সরকারকে আলাদা জমির ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এই রায়কে সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ করতে চলেছে মুসলিম পক্ষ বলে জানিয়েছেন তাঁদের আইনজীবী আশহার ওয়ার্সি। তিনি অভিযোগ করেছেন, মুসলিম পক্ষের পেশ করা সরকারি নথিপত্রগুলো আদালত বিবেচনা করেনি। সমীক্ষা চালানোর সময়ে ASI-ও তাঁদের দাবিগুলিকে আমল দেয়নি। আশহার ওয়ার্সি বলেছেন, ‘আমরা আমাদের সমস্ত যুক্তি ও বক্তব্য সুপ্রিম কোর্টের সামনে তুলে ধরব। প্রাঙ্গণটি যে মুসলিম পক্ষের মালিকানাধীন, তার পক্ষে আমরা সমস্ত তথ্য-প্রমাণ সুপ্রিম কোর্টের সামনে পেশ করব।’