• পশ্চিম বর্ধমানে শিল্পের জোয়ার আনার আশ্বাস, দুর্গাপুরে কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী?
    এই সময় | ২২ মে ২০২৬
  • দুর্গাপুর থেকে শিল্প নিয়ে ভরসার বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পশ্চিম বর্ধমান জেলা প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকের পরে, বৃহস্পতিবার সাংবাদিক সম্মেলনে দুর্গাপুর অঞ্চলে শিল্প নিয়ে বার্তা দেন তিনি।

    পশ্চিম বর্ধমান রাজ্যের অন্যতম প্রাচীন শিল্পাঞ্চল। ভারী শিল্পের কেন্দ্র ছিল রাজ্যের এই এলাকা। স্বাধীনতার পর থেকে একাধিক ভারী ইস্পাত শিল্পের কেন্দ্র এই এলাকা। সেখানেই দীর্ঘদিন ধরে শিল্পের খরা দেখা গিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে বার বার। এ দিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও সেই একই কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ‘আসানসোল, চিত্তরঞ্জন, অন্ডাল থেকে দুর্গাপুর। খরা করে দিয়েছে।’

    এই পরিস্থিতিতে বদল আনার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। কেন্দ্র ও রাজ্য মিলে এই এলাকায় শিল্পে জোয়ার আনা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও করা হবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। এরই সঙ্গে তাঁর বার্তা, ‘দেউচা পঁচামির মতো প্রতারণা করব না। যা বলব ভেবে বলব। যেটা বলব সেটা করে দেখাব।’

    রাজ্যে পালাবদলের পরেই অভিযোগ উঠেছে, তৃণমূলের দখলে থাকা পঞ্চায়েত ও পুরসভায় দেখা মিলছে না জনপ্রতিনিধিদের। পরিষেবা না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ বাসিন্দারা। পুরসভা ও পঞ্চায়েতে যাতে কাজকর্ম ঠিকমতো চলে, তা নিয়েও এ দিন নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, অধিকাংশ পঞ্চায়েত, পুরসভার লোকজন পালিয়ে গিয়েছে। তাদের কেউ তাড়িয়ে দেয়নি। কেন এমন অবস্থা রয়েছে সেটাও জানিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর কটাক্ষ, ‘ওদের মধ্যে ২টো গ্লানি কাজ করছে। প্রথমত, ছাপ্পা মেরে জিতেছে। দ্বিতীয়ত, আবাস যোজনা, বাকি সব প্রকল্পে ঠিকাদারদের কাছ থেকে অগ্রিম নিয়ে রেখেছে। টাকা ফেরত দিতে হবে।’

    মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, পুরসভা ও পঞ্চায়েতগুলিতে কাজ চলবে। পঞ্চায়েতের সচিব কাজ করবেন, পঞ্চায়েত সমিতির এগজ়িকিউটিভ অফিসার বিডিও। তিনি কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। তার সঙ্গেই মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, সব কেন্দ্রীয় প্রকল্পে যুক্ত হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। তাই জুলাই থেকে রাজ্যের বাসিন্দারা সেই সুবিধা পান, তার কাজ শুরু করতে বলা হয়েছে। সরকারি রাজস্ব আসছে নাকি কোথাও চুরি যাচ্ছে, সেটাও দেখা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

    রাজ্যের একাধিক পুর-নির্বাচন বাকি রয়েছে। দুর্গাপুরেও গত ৪ বছর ধরে ভোট হয়নি। পুরভোট নিয়ে প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘ভোট কখন হবে, রাজ্য নির্বাচন কমিশন বলবে। যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচিত বোর্ডের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে চাই আমরা। দুর্গাপুজো বা কালীপুজোর পরে যে কোনও সময়ে নির্বাচন করার বিষয়ে রাজ্য সরকার রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা করবে।’

  • Link to this news (এই সময়)