সমরেশ বসুর মূল কাহিনি অবলম্বনে বাদল সরকারের নাটক ‘বিবর’। ‘বিবর’ নাটকটি কেন লিখেছিলেন বাদল সরকার? প্রশ্ন ছিল অনেকের মনেই। শুরু করা যাক, সেই সময়ে নাট্যকার বাদলবাবু এই নিয়ে ঠিক কী বলেছিলেন। ‘আমি সমরেশ বসুর ‘বিবর’ উপন্যাসটি পড়েছিলাম। অশ্লীল বলে তখন উপন্যাসটির খুব বদনাম ছিল কিন্তু লেখায় অন্তর্নিহিত বক্তব্যটি আমায় খুব নাড়িয়েছিল। সেই ঝোঁকে এই নাটক লিখে ফেলি। দেরি না করে সমরেশবাবুকেই আমার নাটকটি পড়ে শোনাই। তাঁর তো খুবই ভালো লেগেছিল। প্রশংসা করে আমায় বলেছিলেন এই নাটকের মূল বক্তব্যটাই আমি পাঠকদের বোঝাতে চেয়েছিলাম।’
স্পন্দন মুখোপাধ্যায়ের নির্দেশনায় কলিকথা নাট্যদলের প্রযোজনায় মঞ্চে উঠে এল বাদল সরকারের সেই ‘বিবর’ নাটকটি। ২০ মে, মধুসূদন মঞ্চে। যেখানে আধুনিক শহরে মধ্যবিত্ত মানুষের একাকিত্ব, হতাশা ও আত্মসংকটকে গভীর ভাবে তুলে ধরা হয়েছে। নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র প্রদ্যোৎ, যে কিনা সমাজের প্রচলিত নিয়ম, ভণ্ডামি এবং যান্ত্রিক জীবনের প্রতি বিরক্ত, বীতশ্রদ্ধ ও অসন্তুষ্ট।
এখানে বিবর বলতে প্রকৃত অর্থ দাঁড়ায় ‘গর্ত’। যেটা বাস্তবের কোনও জায়গা নয়। এটা মানুষের ভিতরের শূন্যতা, দমবন্ধ হওয়া মন, আর অস্তিত্ব টেকাবার প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। এখানে মুখ্য চরিত্র প্রদ্যোৎ আরও অনুভব করতে পারে যে, চারপাশের মানুষগুলো যেন সব কৃত্রিম। মূল্যহীন সম্পর্ক।
সামাজিক মুখোশ এবং প্রতিনিয়ত স্বার্থপরতার মধ্যেই সে বেঁচে আছে। তার ব্যক্তিগত জীবন, প্রেম, বন্ধুত্ব, পারিবারিক সম্পর্ক এবং কর্মজীবন, সব কিছুই ফাঁকা, নিরস এবং শূন্য। নীতা নামের মহিলার সঙ্গে তার সব সম্পর্কের পরেও কোনও মানসিক শান্তি খুঁজে পায় না প্রদ্যোৎ। কারণ এই সম্পর্কের ভিতরেও স্পষ্ট হয়ে ওঠে বিচ্ছিন্নতা ও অসাড়তা। এর পরিণামে বাড়তে থাকে মানসিক যন্ত্রণা।
এই নাটকের সফল নির্দেশক স্পন্দন মুখোপাধ্যায়ের দাবি, ‘নাটক শুধু লোকশিক্ষা বা বিপ্লবের মশাল ধরা নয়। মনোরঞ্জনেরও প্রয়োজন হয়। অতীতের শিক্ষা তাই বলে।’ নাটকে সাবলীল অভিনয় করেছেন গম্ভীরা ভট্টাচার্য, পৌলমী ভট্টাচার্য, বিশ্বজিৎ সরকার, মলয় মুখোপাধ্যায় ও অন্যান্যরা।