• ২২ বছরের শাপমোচন, ISL চ্যাম্পিয়ন ইস্টবেঙ্গল
    এই সময় | ২১ মে ২০২৬
  • ২০০৩-০৪ মরশুমে শেষবার জাতীয় লিগ জিতেছিল ইস্টবেঙ্গল। তার পর থেকে ভাঁড়ার খালি। একাধিক ট্রফি জিতলেও জাতীয় লিগ জেতা হয়নি। যার ফলে পড়শি মোহনবাগানের থেকে একাধিকবার খোঁচা খেতে হয়েছে। আইলিগের পর ISL- ছবিটা বদলায়নি। কিন্তু এ বারের ISL টা যেন ইস্টবেঙ্গলের জন্যই লেখা ছিল। শেষ ম্যাচে ইন্টার কাশীকে ২-১ গোলে হারিয়ে ISL ঘরে তুলল লাল হলুদ।

    এই ট্রফিটা অনেক কটাক্ষের জবাব, এই ট্রফিটা অনেক প্রশ্নের উত্তর। ISL-এ নাম লেখানোর পর থেকে বিপক্ষ মোহনবাগান যখন একের পর এক ট্রফি জিতেছে, সেখানে লাল হলুদের ঝুলিতে ছিল শুধু সুপার কাপ। একের পর এক স্পনসর, কোচ বদল হলেও মিলছিল না কাঙ্খিত সাফল্য। প্রতিটা বছর পয়েন্ট টেবলের শেষই ছিল জায়গা। ৮, ৯, ১০ এই জায়গায় শেষ করতে হতো। তবে অস্কার ব্রুজ়ো আসার পর যেন নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন লাল হলুদ জনতা।

    অস্কারের আগে কার্লোস কুয়াদ্রাত দলকে সুপার কাপ জিতিয়েছিলেন। আর অস্কার এসে খেলাটাই বদলে দিলেন। এর আগে বাংলাদেশের বসুন্ধরা কিংসকে চ্যাম্পিয়ন করেছেন। নিজে প্রথম বছর ভাঙা বছরে দায়িত্ব নিয়ে জানিয়েছিলেন তাঁর পক্ষে কিছু করা সম্ভব নয়। তবে গোটা মরশুম পেয়েই জ্বলে উঠলেন। শুরু থেকে জয়, আর জয়গুলো এলে বড় ব্যবধানে। মরশুমের শুরুতে প্রাক্তন গোলকিপার কোচ সন্দীপ নন্দীর সঙ্গে ঝামেলার জেরে নিন্দার মুখে পড়তে হয়েছিল। সেটা ছিল সুপার কাপের আগে, সাফল্য আসেনি সুপার কাপে। কিন্তু তাঁর ফোকাস ছিল ISL।

    ইন্টার কাশীর ম্যাচে ইস্টবেঙ্গলের কাছে ছিল সহজ হিসাব। জিততে হবে। আর সেটা করতে গিয়ে শুরুটা কিছুটা ছন্নছাড়া ফুটবল খেলে লাল হলুদ। প্রথম থেকে বলের দখল নিজেদের কাছে রাখলেও বিপক্ষ বল পেলে কিছুটা হলেও খেই হারিয়ে ফেলছিল তারা। সেটা থেকে আসে গোল। এগিয়ে যায় ইন্টার কাশী। ১৪ মিনিটে বল পেয়ে সেটাকে গোলকিপারের মাথার উপর দিয়ে চিপ করে গোল করেন কাশীর আলফ্রেড। এক্ষেত্রে ইস্টবেঙ্গলের ডিফেন্ডাররা কেউ জায়গায় ছিলেন না। গোল খেলেও লাল হলুদ সে ভাবে ম্যাচে ফিরতে পারেনি, তবে চেষ্টা করে গিয়েছে তারা।

    প্রথমার্ধে ম্যাচের স্কোর ছিল ইন্টার কাশীর পক্ষে। প্রথমার্ধে লাল হলুদের ভুলগুলোর মধ্যে ছিল তারা বারবার উইং দিয়ে আক্রমণ শানাচ্ছিল। আর ছোট মাঠে উইং দিয়ে আক্রমণ করতে গেলে আখেরে লাভ হয় না। এখানেও সেটাই হয়েছে। দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ায় লাল হলুদ। ৫০ মিনিটে প্রথম গোল পায় ইস্টবেঙ্গল। মাঝমাঠ থেকে আনোয়ার বল বাড়ান ইউসেফ এজ়েজারিকে। তিনি গোলকিপারকে কাটিয়ে দুই ডিফেন্ডারকে সঙ্গে নিয়ে বাঁ পায়ে শট দেন। এক্ষেত্রে বিপক্ষের গোলকিপারের আউটটিংয়ে ভুল ছিল। যার ফল পায় লাল হলুদ। ৫৯ মিনিটে ইন্টার কাশী একটা আক্রমণ করলেও তা পর্যাপ্ত ছিল না, শটটা পোস্টের পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়।

    তবে ইস্টবেঙ্গল আক্রমণ চালিয়ে যায়। আর তার ফলও পায়। ৭৩ মিনিটে দ্বিতীয় ও জয়সূচক গোলটা আসে। ডান দিকের উইং থেকে বিপিন সিং বলের ক্রস বাড়ান। বলটা মহম্মদ রশিদ পেয়ে চলতি বলে চিপ করেন, এবং গোল। তবে এই দ্বিতীয় গোলের ক্ষেত্রে বুদ্ধি কাজে লাগান লাল হলুদ প্লেয়াররা। আন্তন সেই সময়ে অফসাইডে ছিলেন। সেটাকে দেখে শট নেন রশিদ। এর পর আর গোল হয়নি।ইস্টবেঙ্গল একের পর এক আক্রমণ শানালেও গোলের ব্যবধান আর বাড়েনি। তবে ততক্ষণে ম্যাচের ফল লেখা হয়ে গিয়েছে। ISL চ্যাম্পিয়ন ইস্টবেঙ্গল। ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার পর তাতে শিলমোহর পড়ল।

    মোহনবাগান ও এসসি দিল্লি ম্যাচ শেষ হয় মোহনবাগানের পক্ষে ২-১ গোলে। জামশেদপুর এফসি ও ওডিশা এফসির ম্যাচ শেষ হল গোলশূন্য ড্র করে। পাঞ্জাব এফসি ও মুম্বই সিটি এফসির ম্যাচ শেষ হয় মুম্বইয়ের পক্ষে ২-০ গোলে।
  • Link to this news (এই সময়)