• দিল্লিকে উড়িয়েও স্বপ্নভঙ্গ মোহনবাগানের, ISL-এ দ্বিতীয় দিমি-জেমিরা
    এই সময় | ২১ মে ২০২৬
  • শেষ বাঁশি বাজার ঠিক আগে লিস্টনের ক্রস থেকে বক্সে বল পেলেন জেমি ম্যাকলারেন। গোলকিপারের নাগাল এড়িয়ে জালে বল জড়িয়ে দিয়েই দৌড়। কর্নার ফ্ল্যাগের কাছে গিয়ে জার্সি খুলে সেলিব্রেশন। গ্যালারিতে উপস্থিত ২৬ হাজার সমর্থকের চিৎকার। কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই যেন শুন্যতা গ্রাস করল যুবভারতী স্টেডিয়ামকে। কারণ এত আনন্দ, আয়োজন, আলো— সবই ব্যর্থ ট্রফি ছাড়া।

    কিশোরভারতী স্টেডিয়ামে ততক্ষণে ইন্টার কাশীকে হারিয়ে ISL চ্যাম্পিয়ন হয়ে গিয়েছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইস্টবেঙ্গল। তাই বৃহস্পতিবার লাস্ট ড্যান্স-এ জয় পেয়েও লাভ হলো না। স্পোর্টিং ক্লাব দিল্লিকে ২-১ গোলে উড়িয়েও ISL-এ দ্বিতীয় হলো মোহনবাগান।

    ইস্টবেঙ্গলের সমান পয়েন্টে পৌঁছলেও গোলপার্থক্যে পিছিয়ে থাকায় চ্যাম্পিয়ন হতে পারল না সবুজ-মেরুন ব্রিগেড। গোটা ম্যাচে ছন্নছাড়া ফুটবল, একাধিক সুযোগ নষ্টের খেসারত দিতে হলো কামিংস, সাহালদের।

    ম্যাচের শুরুতে চর্চা চলছিল ‘দুর্বল’ প্রতিপক্ষ স্পোর্টিং ক্লাব দিল্লির বিরুদ্ধে কত গোলের ব্যবধানে জিতবে মোহনবাগান। কারণ ISL জয়ের দৌড়ে টিকে থাকতে হলে অন্তত ছয় বা তার বেশি গোলে জিততে হতো ম্যাকলারেন-কামিংসদের। কিন্তু কোথায় কী! গোটা ম্যাচে একের পর এক সুযোগ নষ্টের প্রদর্শনীতে মেতেছিলেন সাহাল, মনবীর, দিমিত্রিরা।

    প্রথমার্ধে সুযোগ নষ্টের বন্যা মোহনবাগানের

    ম্যাচের শুরুতে মোহনবাগানকে চাপে রেখেছিল দিল্লি। সাত মিনিটের মধ্যেই দুটো কর্নার আদায় করে নিয়েছিল তারা। কিন্তু এর পরে ম্যাচের রাশ কিছুটা নিজেদের হাতে তুলে নেয় মোহনবাগান। তবে গোল ছাড়া সবকিছুই করেছে সবুজ-মেরুন ব্রিগেড। কারণ সুযোগ নষ্টের প্রদর্শনীতে নামেন মোহনবাগানের অ্যাটাকাররা। ১৬ মিনিটে দিমির লং বল ধরে বক্সে গোলের সুযোগ মিস করেন ম্যাকলারেন।

    এর পরে গোল মিসের লিস্টে নাম তোলেন সাহাল, মনবীররা। সুবর্ণ সুযোগ এসেছিল ৩৯ মিনিটে। বাঁ প্রান্ত থেকে শুভাশিসের বাড়ানো বল বক্সে সুবিধাজনক অবস্থায় পেয়েছিলেন মনবীর। তবে গোলকিপারকে একা পেয়েও গোল করতে পারেননি তিনি। দু’মিনিট পরেই অবিশ্বাস্য মিস করেন কামিংস। গোলের সামনে বল পেয়েও তাঁর শট যায় গ্যালারিতে।

    একা লড়েন শুভাশিস

    প্রথমার্ধে মোহনবাগানের হয়ে একমাত্র নজর কাড়েন শুভাশিস বসু। বক্সে তিনটি নিখুঁত ক্রস রাখেন। তবে গোল করতে পারেননি কেউই। ১২টা কর্নার পেয়েও কোনও কাজে লাগাতে পারেনি মোহনবাগান। ছন্নছাড়া ফুটবল খেলে গোলশূন্য ভাবে শেষ হয় প্রথমার্ধ।

    দ্বিতীয়ার্ধে গোল সুযোগসন্ধানী দিল্লির

    মোহনবাগানের খেলার গতিপ্রকৃতি পাল্টায়নি দ্বিতীয়ার্ধেও। তবে একাধিক গোল মিসের ফল ভুগতে হয় তাদের। ৬৩ মিনিটে ম্যাচে লিড নেয় দিল্লি। একটা সুযোগ পেয়ে সেটাই কাজে লাগাল দিল্লি। আশুতোষ মেহতার শর্ট থ্রো থেকে বল পেয়ে বক্সে ক্রস রাখেন হুদু। নিখুঁত হেডে গোল করে দিল্লিকে এগিয়ে দেন ক্ল্যারেন্স স্যাভিও ফের্নান্দেস।

    এর পরে মরিয়া হয়ে একসঙ্গে তিন পরিবর্তন করেন হেড কোচ সের্জিও লোবেরা। টম আলড্রেড, দিমিত্রি পেত্রাতোস ও সাহাল আব্দুল সামাদকে তুলে নেন তিনি। তাঁদের জায়গায় নামেন রবসন, অভিষেক সিং টেকচাম ও দীপক টাংরি। ৮০ মিনিটে ম্যাকলারেনের গোল বাতিল হয় অফসাইডের জন্য।

    মনবীর ও ম্যাকলারেনের গোলে জয়

    ম্যাচের মোড় ঘোরে ৮৯ মিনিটে। নির্ধারিত সময়ের ঠিক আগে মেলে গোলের দেখা। ডান প্রান্ত থেকে বক্সে ঢুকে নিজের মার্কারকে কাটিয়ে নেন লিস্টন। বাঁক খাওয়ানো বল ভাসান বক্সে। সেই বল থেকে হেডে গোল করেন মনবীর সিং। এর পরে ৮ মিনিট ইনজুরি টাইম দেন রেফারি। নাটক শেষ হয়নি সেখানেও।

    শেষ বাঁশি বাজার ঠিক আগে ফের একবার জ্বলে উঠলেন লিস্টন। বাঁ পায়ে বক্সে ক্রস রাখেন তিনি। সেই বল পেয়ে যান ম্যাকলারেন। গোটা ম্যাচে অসংখ্য মিসের পরে এ বারে গোল করতে ভুল করেননি তিনি। জার্সি খুলে সেলিব্রেশনও করলেন তিনি এবং মনবীর। শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলে জয় তুলে নিল মোহনবাগান।
  • Link to this news (এই সময়)