বাংলাদেশি তারকাদের সঙ্গে কাজে আপত্তি টেকনিশিয়ানদের, বৈঠকে কী জবাব রুদ্রনীলের
প্রতিদিন | ২১ মে ২০২৬
বুধবার বিকেলে টেকনিশিয়ান্স স্টুডিওতে বৈঠক ডেকেছিলেন শিবপুরের বিধায়ক তথা অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ (Rudranil Ghosh)। নবর্নিবাচিত তারকা বিধায়কের ডাকে এদিন বৈঠকে হাজির হয়েছিলেন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, সৃজিত মুখোপাধ্যায়, ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত, অশোক ধানুকা, সৌরভ দাস, জয়দীপ মুখোপাধ্যায়, শ্রীজিৎ রায়-সহ আরও অনেকে। মূলত টলিউডের অন্দরের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে এদিন খোলাখুলি আলোচনা হয়। বৈঠকে বিভিন্ন টেকনিশিয়ান্স গিল্ডের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
টেকনিশিয়ানদের মনে এতদিনের যে ক্ষোভ পুঞ্জীভূত ছিল, রুদ্রনীলকে সামনে পেয়ে স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে সেসব ক্ষোভই উগরে দেন অনেকে। বিভিন্ন টেকনিশিয়ান উপস্থিত হয়ে তাঁদের উপর হওয়া অত্যাচারের বর্ণনা শোনান রুদ্রনীলকে। ঘরের ছেলেকে কাছে পেয়ে চোখের জলে দীর্ঘ ১৪ বছরের যন্ত্রণার কথা জানিয়েছেন ইন্ডাস্ট্রিতে দীর্ঘ দিন ‘ব্রাত্য’ থাকা শিল্পীরা। সেই সঙ্গে উঠে এসেছে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
এক জনৈক টকনিশিয়ানের অনুযোগ, বাংলাদেশে গিয়ে অপমানিত হয়েছেন অথচ ওপার বাংলার শিল্পীদের এখানে অবাধ যাতায়াত। এই বিষয়টা কোনওএভাবেই মেনে নিতে পারছেন না। তাঁর ভাবনাকে সম্মান জানিয়ে গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করেছেন রুদ্রনীল ঘোষ। সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটালকে অভিনেতা-বিধায়ক জানান, “আমাকে কয়েকজন জানিয়েছেন যখন তাঁরা বাংলাদেশে কাজ করতে গিয়েছিলেন তাঁরা অসম্মানিত হয়েছেন। যা ভারতীয় হিসেবে তাঁদের কাছে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। যখন তাঁরা তাঁদের যন্ত্রণার কথা জানিয়েছেন আমি সুযোগ পেলেই সেটা সরকারকে জানাব। পুরো বিষয়টাতো আমার হাতে নেই।”
এইরকম পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের শিল্পীরা ভারতে এসে কাজ করতে পারবেন? সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটালের তরফে এই প্রশ্নে বিধায়ক-অভিনেতা জানান, “সেটা সম্পূর্ণ সরকারের নির্ণয়। তবে বাংলাদেশের এমন অনেক মানুষ আছেন যাঁরা ভারতকে অন্তর থেকে ভালোবাসেন। আবার এমন কিছু উগ্র মৌলবাদী শক্তিরও নজির রয়েছে যাঁরা দীপু দাসের মতো মানুষকে জ্যান্ত জ্বালিয়ে দেয়। স্বল্প সংখ্যক মানুষ আর বিচ্ছিন্ন ঘটনা দিয়ে তো পুরো দেশকে বিচার করা উচিত নয়। তবে বিষয়টা গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে সেটুকু নিশ্চিত।”
ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের পর গৈরিক বঙ্গে রুদ্রনীলের সঙ্গে টেকনিশিয়ানদের এটাই ছিল প্রথম বৈঠক। যেখানে উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিকেরাও। বৈঠকে যেমন একাধিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে তেমনই রুদ্রনীলেক কথায় অশ্বস্তও হয়েছে টলিপাড়া সে কথা বললে অত্যুক্তি হবে না। বাংলাদেশের শিল্পীদের ভারতে কাজের ক্ষেত্রে কী সিদ্ধান্ত গৃহিত হয় সেই দিতে তাকিয়ে সিনেপাড়া।