গাছের নীচে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন যুবক। আচমকা যুবককে শুঁড়ে পেঁচিয়ে নিয়ে যায় হাতি। ঘটনায় মৃত্যু হয় যুবকের। বৃহস্পতিবার সকালে ঝাড়গ্রামের কংসাবতী নদী তীরবর্তী সাতপাটি এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। মৃত যুবকের নাম মঙ্গল মুর্মু (৩৪)। বাড়ি ঝাড়গ্রাম থানার বাঁধগড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের এলিনা গ্রাম।
বুধবার রাতে মেদিনীপুর বনবিভাগের চাঁদড়া রেঞ্জ থেকে চারটি হাতি কংসাবতী নদী পেরিয়ে ঝাড়গ্রাম বন বিভাগের মানিকপাড়া রেঞ্জের সাতপাটি এলাকায় ঢুকে পড়ে। হাতির খবর চাউর হতেই ভিড় জমে যায় স্থানীয় বহু মানুষের। অভিযোগ, হাতিকে দেখার বাহানায় হাতিকে উত্ত্যক্ত করতে থাকেন অনেকেই। এই অবস্থায় একটি হাতির উত্তেজিত হয়ে তাড়া করলে সকলে পালিয়ে যায়। দিনমজুরের কাজে এসে গরমের কারণে গাছের নীচে বিশ্রাম নেওয়া মঙ্গল মুর্মুকে ধরে ফেলে হাতিটি। পরে তাঁকে উদ্ধার করে ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
মঙ্গলের স্ত্রী তাঁর সঙ্গে থাকেন না। মঙ্গলের পরিবারে রয়েছে তাঁর মেয়ে। মঙ্গলের এক আত্মীয় রামেশ্বর মুর্মু বলেন, ‘মঙ্গল সাতপাটিতে দিনমজুরির কাজে গিয়েছিল। গরমের কারণে গাছের তলায় বসে বিশ্রাম নিচ্ছিল সে। হঠাৎ করে হাতি তেড়ে আশায় সে কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাকে ধরে ফেলে। শুঁড়ে তুলে আছাড় মারার পরে জঙ্গলের দিকে নিয়ে যায়। ওর তো একটা ছোট্ট মেয়ে রয়েছে। তার ভবিষ্যতের জন্য ক্ষতিপূরণের দাবি জানাই'।
সাতপাটিতে হাতি দেখতে জমায়েত হওয়া মানুষের ভিড় সামাল দেওয়ার জন্য বন দপ্তরের পক্ষ থেকে পুলিশের সহায়তা নেওয়া হয়। হাতির থেকে দূরত্ব বজায় রাখার জন্য বারে বারে মাইকিংও করা হয় বন দপ্তরের পক্ষ থেকে। ঝাড়গ্রামের ডিএফও উমর ইমাম বলেন, 'এলাকার মানুষজনকে সচেতন করার পরেও তাঁদের অসাবধানতার কারণে হাতির হানায় মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। মানুষকে আরও সচেতন করার জন্য তথ্যচিত্রের মাধ্যমে হাতি ও মানুষের সংঘাত গ্রামে গ্রামে তুলে ধরা হবে। হাতি ও মানুষ কী ভাবে নিরাপদে সহাবস্থান করতে পারে তাও তুলে ধরা হবে।’