• "যাঁরা দলবদল করছে, তাঁদের শিড়দাঁড়া নেই! আমি কোনও দলে নেই, ফলে কাজ পেতে অসুবিধা হয়নি"! কাদের উদ্দেশ্যে বললেন ঋত্বিক চক্রবর্তী
    News18 বাংলা | ২১ মে ২০২৬
  • কলকাতা: বাংলায় পালাবদলের পর থেকে টলিউডের শিল্পীদের রংবদল খুব স্পষ্ট৷ একসময় যাঁরা তৃণমূল সরকারের পাশে ছিলেন, তাঁরাই এখন বিজেপি সরকারে ভূয়সী প্রশংসা করছেন৷ নিয়ে টলিউডে অন্দরে জোর চর্চা শুরু হয়েছে৷ বুধবার তারকা ও কালকুশলীদের সঙ্গে রুদ্রনীল ঘোষের বৈঠকে তৃণমূল সরকার এবং স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে মুখ খোলেন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়৷ এরপর থেকে তাঁকে নিয়ে প্রশ্ন ওঠে,যে তাহলে কি পরম সুবিধাবাদী? আগের সরকারের ঘনিষ্ট পরমকে রুদ্রনীল ঘোষের পাশে দেখা যাওয়া নিয়ে কী বলছেন তাঁর সহ অভিনেতা ঋত্বিক চক্রবর্তী? স্টুডিওপাড়ার অরাজকতার জন্য শুধুমাত্র স্বরূপ বিশ্বাস নন পূর্ববর্তী সরকার এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীও দায়ী ছিলেন, বিস্ফোরক ঋত্বিক৷

    নতুন সরকার নিয়ে আশাবাদী ঋত্বিক চক্রবর্তী। তিনি বলেন, "আশা করছি ভাল কাজ করবে এই সরকার। আগের সরকারের যে উদ্ভট ব্যাপার সেটাকেই সকলে নর্মাল ভাবতে শুরু করে দিয়েছিল। সেই অরাজকতার থেকে কোথাও একটা বেরিয়ে আসা দরকার ছিল। ইন্ডাস্ট্রিতে অনেক রকম দুর্নীতি ও বেনিয়ম চালু হয়েছিল। আশা করা যাচ্ছে যে, নতুন সরকার সেগুলোকে কাটিয়ে ইন্ডাস্ট্রিকে একটা নতুন রূপ দিতে পারবে। ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি সেক্ষেত্রে সরকারের সাহায্য পাবে।"

    শিল্পীদের দ্রুত রং বদল প্রসঙ্গে ঋত্বিক বলেন, "গত সরকারে শিল্পীর বা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির লোকেরা এত বেশি সংখ্যায় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েছিলেন যে অসুবিধার সূত্রপাত সেখান থেকেই। যারা প্রার্থী বা ভোটে দাঁড়িয়েছেন তাদের কথা আলাদা। কিন্তু যাঁদেরকে সরকারি মঞ্চ দেখা গিয়েছে তার মানে তাঁরা সেই দলের মতাদর্শে বিশ্বাসী। যাঁরা মত ও দলবদল করছেন তাঁদের শিরদাঁড়া নেই। আর এই ধরনের মেরুদণ্ডহীন মানুষজন তো আমরা প্রথম দেখলাম না। আগেও সরকার বদল ঘটেছে আগেও অনেক দেখেছি।"

    পরমব্রত প্রসঙ্গে ঋত্বিক বলেন যে, "পরমব্রত এবার প্রথম ভোটের প্রচারে যাননি। আগের সরকারের ভোটের প্রচারে অনেকবার তাঁকে দেখা গিছে। সরকার ঘনিষ্ঠ ছিলেন তিনি। হয়তো পরমের উপর রাজনৈতিক চাপ ছিল। আমার পক্ষে বলা কঠিন। তবে রুদ্রর সঙ্গে বসে ইন্ডাস্ট্রির ভালর জন্য যদি তাঁকে দেখা যায় সেটাতে মন্দ কিছু নয়। আসলে রাজনীতিকরণ হলে কোনও ইন্ডাস্ট্রির কোনও উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না।

    ঋত্বিক চক্রবর্তীর স্পষ্ট বার্তা, "এত পরিচালক এবং শিল্পীরা ব্যান হয়েছিলেন আগের সরকারের আমলে। সেক্ষেত্রে শুধু স্বরূপ বিশ্বাসকে দোষ দিলে হবে না। একটা প্রশাসন ছিল, একটা মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। তিনি মনে হয় কিছুই শুনতে পেতেন না। তাই শুধু স্বরূপ বিশ্বাসকে দোষ দিয়ে কোনও লাভ নেই। স্বরূপ বিশ্বাসের গা-জোয়ারি চলছিল কিন্তু প্রশাসন কখনও তার কোনও প্রতিবাদ করেনি।"

    ঋত্বিক চক্রবর্তীর সাফ জানান, "আমাকে প্লেন চালাতেও দেখা যাবে না! আমাকে রাজনীতির আঙ্গিনাতেও দেখা যাবে না। আমি আশপাশের লোকেদের দেখে কোনও কাজ করি না।"

    এই সময় দাঁড়িয়ে তিনি অভিনেতা অনির্বাণ চক্রবর্তীর ভূয়সী প্রসংশা করেন৷ অনির্বাণকে তৃণমূল জামানায় ব্যান করা হয়েছিল৷ সেই প্রসঙ্গে তিনি বলেন যে, অসুবিধার মধ্যেও তিনি মাথা উঁচু করেছিলেন৷ ঋত্বিক বলেন, পাশের লোককে দেখে ফ্যাশন নকল করা যায় কিন্তু তাঁর ব্যক্তিত্বকে নকল করা যায় না। তিনি যেমন রাজনীতিতে আসতে চান না, তেমনই তাঁক কাছে রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার প্রস্তাবও আসে না৷ তিনি কোনও দলাদলির মধ্যে নেই,তাই তাঁর কাজ পেতেও কোনও অসুবিধা হয়নি বলে মেনে নিয়েছেন মাছের ঝোলের নায়ক৷
  • Link to this news (News18 বাংলা)