মমতার সরকার গরিবের পেটে লাথি মারেনি, মারছে বিজেপি: কুণাল ঘোষ
eTV Bharat | ২২ মে ২০২৬
কলকাতা, 21 মে: শিয়ালদা স্টেশনে সম্প্রতি হকার উচ্ছেদ করেছে রেল৷ সেই নিয়ে এবং বিজেপির বিরুদ্ধে বুলডোজার সংস্কৃতি আমদানি করার অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস৷ এই ইস্যুতে তৃণমূলের তরফে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয় বৃহস্পতিবার৷
সেই কর্মসূচি ঘিরে উত্তাল হয়ে ওঠে শিয়ালদা স্টেশন চত্বর ও সংলগ্ন এলাকা। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই কর্মসূচিতে অংশ নেন দলের নেতা-কর্মী, বিধায়ক এবং হকার সংগঠনের প্রতিনিধিরা। শিয়ালদহ স্টেশন চত্বর থেকে শুরু হওয়া এই প্রতিবাদে হকারদের পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ করা যাবে না, এই দাবিই তোলা হয় তৃণমূলের তরফে৷
কলকাতার ব্যস্ততম স্টেশনগুলির মধ্যে অন্যতম শিয়ালদা রেল স্টেশনে সাম্প্রতিক উচ্ছেদ অভিযানের জেরে বহু হকার তাঁদের জীবিকা হারিয়েছেন বলে অভিযোগ। যদিও রেলের দাবি, দীর্ঘদিনের অবৈধ দখল সরিয়ে ফেলার ফলে স্টেশন চত্বর ও আশপাশের রাস্তায় যানজট কমেছে এবং যাত্রীদের চলাচল অনেকটাই স্বস্তিদায়ক হয়েছে। কিন্তু এই উন্নয়নের বিপরীতে হকারদের দুর্দশার অভিযোগ সামনে এনে সরব হয়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব।
তৃণমূল কংগ্রেসের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে শুধু শিয়ালদা বা হাওড়া নয়, রাজ্য বিধানসভার ভেতরেও প্রতীকী ধরনা কর্মসূচি পালন করা হয়। আম্বেদকর মূর্তির পাদদেশে বসে বিধায়করা হকার উচ্ছেদ ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান। তৃণমূলের অভিযোগ, এই উচ্ছেদ অভিযানের মাধ্যমে সাধারণ ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে টার্গেট করা হচ্ছে।
এই ইস্যুতে তৃণমূলের অন্দরে আলোচনাও হয়েছে। কুণাল ঘোষ, সন্দীপন সাহা ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের মতো নেতারা প্রশ্ন তোলেন, হকারদের পাশে দাঁড়াতে দলের প্রতিক্রিয়া আরও দ্রুত হওয়া উচিত ছিল কি না!
এদিন কুণাল ঘোষ বলেন, ‘‘পুনর্বাসন ছাড়া কোনোভাবেই হকার উচ্ছেদ মেনে নেওয়া হবে না।’’ তাঁর অভিযোগ, রেলের আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা করা হলেও সঠিক সহযোগিতা মেলেনি৷ বরং শেষ মুহূর্তে কর্মসূচির অনুমতি না দেওয়ায় বাধ্য হয়ে রাস্তায় নামতে হয়েছে।’’
তিনি আরও দাবি করেন, তৃণমূল কংগ্রেস বরাবরই গরিব মানুষের পাশে থেকেছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। অতীতে সিপিএম সরকারের আমলে যেমন হকার উচ্ছেদ হয়েছে, তেমনই বর্তমান বিজেপি সরকারের আমলেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সব মিলিয়ে, হকার উচ্ছেদ ইস্যুতে রাজনৈতিক তরজা তীব্র হচ্ছে, আর তার মাঝেই জীবিকা হারানো মানুষদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে৷