আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন তৎকালীন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ। এ বার আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের বাড়ি নিয়ে বড় নির্দেশ দিল কলকাতা পুরসভা। তাঁর বেলেঘাটার বাড়িতে বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। ওই বাড়ির ছাদের একটি অংশ কোনও রকম অনুমতি ছাড়াই করা হয়েছিল। ওই বেআইনি নির্মাণ ৪৫ দিনের মধ্যে ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা পুরসভা।
এক তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ করে খুনের ঘটনা ঘটেছিল আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। অভয়া কাণ্ডের তদন্ত শুরু করে বড় দুর্নীতির হদিশ পেয়েছিল CBI। আর্থিক দুর্নীতির মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছিল সন্দীপ ঘোষকে। এখন ওই মামলায় জেলে আছেন তিনি। বৃহস্পতিবার, আরজি করের ধর্ষণ এবং খুনের মামলায় নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। অন্য দিকে, এ দিনই সন্দীপ ঘোষের বাড়ির বেআইনি অংশ ভাঙার নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা পুরসভা।
পুরসভা সূত্রে খবর, বেলেঘাটার বদন রায় লেনে সন্দীপ ঘোষের বাড়ির তিনটি অংশর অনুমোদন নেই। বদন রায় লেনের ৮৩ নম্বর বাড়িতে অনুমোদনহীন নির্মাণ নিয়ে অভিযোগ এসেছিল।
পুরসভার নথি অনুযায়ী, বাড়িটির ছাদে নতুন করে একটি অংশ বা ছোট পারগোলা তৈরি করা হয়েছিল। পাশাপাশি লিফটের মেশিন রুমে ওঠার জন্য একটি লোহার স্পাইরাল সিঁড়ি এবং দ্বিতীয় তলায় দরজার জায়গায় নতুন ইটের দেওয়াল নির্মাণের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ, এই নির্মাণগুলি বিল্ডিং রুলস ২০০৯-এর ১৩৩ ও ১৩৪ নম্বর বিধি লঙ্ঘন করেছে।
এই বেআইনি নির্মাণ নিয়ে অভিযোগ করেছিলেন অংশুমান সরকার। সন্দীপ ঘোষের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অনুমোদিত কমপ্লিশন প্ল্যানে এই সব কিছু ছিল না। সংস্কারের কাজ চলাকালীন সেটি সরিয়ে ফেলা হবে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি। এই নিয়ে কলকাতা পুরসভার তরফে নোটস পাঠানো হয়েছিল সন্দীপ ঘোষের বাড়িতে। আধিকারিকরা ওই বাড়িতে গিয়ে সেই বেআইনি নির্মাণ দেখেও এসেছিলেন। তার পরেও ওই বেআইনি অংশ ভাঙা হয়নি। এই জন্য শুনানি হয়।
পুরসভায় এই শুনানিতে হাজির ছিল অংশুমান সরকার এবং সন্দীপ ঘোষের বাড়ির উভয় পক্ষই । এর পরই পদক্ষেপ করেছে কলকাতা পুরসভা। আদেশের কপি পাওয়ার ৪৫ দিনের মধ্যে ছাদের ওই অংশ ভেঙে ফেলতে হবে বলে নির্দেশ দিয়েছেন বিশেষ বিল্ডিং অফিসার এস বরাল। পাশাপাশি এই নির্দেশের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মিউনিসিপ্যাল বিল্ডিং ট্রাইবুন্যালে আবেদন করা যেতে পারে বলেও জানানো হয়েছে।