মহার্ঘ জ্বালানিতে মূল্যবৃদ্ধির আগুন, খরচ না বাড়ালে বন্ধ হবে পণ্য সরবরাহ
বর্তমান | ২২ মে ২০২৬
সমৃদ্ধ দত্ত, নয়াদিল্লি: মূল্যবৃদ্ধির আগুন প্রবলভাবে লাগতে চলেছে আম জনতার সংসারে। পাঁচ রাজ্যের ভোট মিটতেই জ্বালানির দাম দু’দফায় বাড়িয়ে দিয়েছে কেন্দ্র। আর ডিজেলের সঙ্গেই পাল্লা দিয়ে বেড়ে গিয়েছে পরিবহণ সংক্রান্ত একঝাঁক উপকরণের দাম। ফল? একধাক্কায় পরিবহণ খরচ বৃদ্ধি। দেশের একাধিক পরিবহণ সংগঠন সাফ ঘোষণা করেছে, তাদের পক্ষে পরিবহণ বাবদ মাশুল বাড়ানো ছাড়া উপায় নেই। বৃহস্পতিবারই এই মাশুল ৪ শতাংশ বৃদ্ধির কথা জানানো হয়েছে। সরকার এবং শিল্প-বাণিজ্য মহল তথা বণিকসভাগুলির কাছে সর্বভারতীয় পরিবহণ সংগঠনগুলি চিঠি লিখে এই সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছে। তারা বলেছে, এই বৃদ্ধি কার্যকর করতে না দেওয়া হলে দেশজুড়ে পণ্য পরিবহণ স্তব্ধ করে দেওয়া ছাড়া উপায় নেই। আর যদি এই ঘোষণা কার্যকর হয়? একদিকে চরম মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা, অন্যদিকে স্থানীয় বাজারগুলিতে সংকট পাইকারি ও খুচরো পণ্যের। ২০ মে নতুন পণ্য পরিবহণ মাশুল কার্যকর করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে অল ইন্ডিয়া ট্রান্সপোর্টার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন। অর্থাৎ ২০ মে যে পণ্য বিভিন্ন বাহনে লোড করা হয়েছে, সেগুলি গন্তব্যে পৌঁছাবে নতুন মাশুল যোগ করে। তবে শুধুই যে এক দফায় মাশুল বৃদ্ধি হচ্ছে, এমনটা নয়। সংগঠনগুলির পক্ষ থেকে আরোপ করা হবে ভবিষ্যৎ পেট্রপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত মাশুল বদলের ব্যবস্থাও। অর্থাৎ, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের জেরে সরকার দফায় দফায় পেট্রল-ডিজেলের দাম যত বাড়াবে, সেই নিরিখে চাপবে ফুয়েল অ্যাডজাস্টমেন্ট ফ্যাক্টর। এমন ব্যবস্থা অগ্রিম করে রেখেছে পরিবহণ সংগঠন সেক্টর। আগামী দিনে পেট্রল-ডিজেলের প্রতি ১ টাকা দাম বৃদ্ধিতে মাশুল বাড়বে ৬৫ পয়সা। অর্থাৎ, পরিবহণ মাশুল এই ৪ শতাংশেই থেমে থাকবে না।
এই মুহূর্তে অবশ্য দু’ধাপে মাশুল বাড়াচ্ছে পরিহবণ সেক্টর—৩ এবং ৪ শতাংশ। ডিজেল বহির্ভূত কারণে যেসব পণ্যের দাম বেড়ে গিয়েছে, সেগুলি পরিবহণের ক্ষেত্রে ৩ শতাংশ মাশুল বৃদ্ধি কার্যকর হবে। আর ডিজেলের দাম বৃদ্ধির জেরে যে ব্যয় বাড়বে, সেক্ষেত্রে মাশুল চাপানো হবে ৪ শতাংশ। ইতিমধ্যেই টোল ট্যাক্স, টায়ার, ইঞ্জিন অয়েলের মতো নিত্যদিনের খরচ বেড়ে গিয়েছে। পরিবহণ সংগঠনের পক্ষ থেকে শিল্প-বাণিজ্য মহল এবং কেন্দ্রীয় সরকারকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, পণ্য যদি সময়ের মধ্যে না পৌঁছায়, তাহলেও দেরির জন্য জরিমানা ধার্য করা যাবে না। কারণ, আজকের পরিস্থিতিতে সড়কপথে সর্বদা ট্রাক, লরি, ম্যাটাডোর কর্মীদের পক্ষে ডিজেল পাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। দেশজুড়ে বহু স্থানেই অপেক্ষা করতে হচ্ছে পেট্রল পাম্পে। কারণ ডিজেল সাপ্লাই নেই। পথে অনেকটা সময় কাটাতে বাধ্য হওয়ায় পরিবহণ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের নিত্যদিনের খরচও বাড়ছে। এই গোটা ভার বইতে হচ্ছে সংস্থাগুলিকে। তাই দেরিতে পণ্য পৌঁছালে যদি জরিমানা করা হয়, তাহলে পণ্য পরিবহণ করা সম্ভব হবে না। আর তাই ট্রান্সপোর্ট সংগঠনের বক্তব্য, তাদের দাবি মানতে হবে এবং সরকারকে হস্তক্ষেপ করতে হবে।