• উঃ দিনাজপুর জেলায় লক্ষ্মীর ভান্ডারে লক্ষাধিক ভুয়ো নাম!
    বর্তমান | ২২ মে ২০২৬
  • নির্মাল্য সেনগুপ্ত, রায়গঞ্জ: সরকারি ভাণ্ডারের টাকা হাতানোর ইঙ্গিত উত্তর দিনাজপুরে। রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয়েছে সেই লক্ষাধিক ভুয়ো লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রাপকের খোঁজ। জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, বিষয়টি টের পেতেই প্রাপক তালিকা খতিয়ে দেখার কাজ শুরু করা হয়েছে। অতিরিক্ত প্রাপকদের নাম বাদ দেওয়া হবে।

    সরকারি হিসাব বলছে, জেলায় ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সী মহিলা ভোটারের সংখ্যা ৬ লক্ষের বেশি। কিন্তু লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রাপকের সংখ্যা ৮ লক্ষ ছাড়িয়ে গিয়েছে। প্রশাসনের আধিকারিকদের বক্তব্য,প্রাথমিক সমীক্ষার পরই মনে হচ্ছে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে জেলায় ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। অতিরিক্ত কতজনকে প্রকল্পের সুবিধা দেওয়া হয়েছিল,  তার তথ্যতালাশ শুরু হয়ে গিয়েছে পুরোদমে। ২৫ মে’র পর পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট জমা পড়বে বলে মনে করছেন আধিকারিকরা। তখনই উঠে আসবে জেলায় প্রাপকের তালিকায় ঠিক কতটা জল মেশানো ছিল। একইসঙ্গে কীভাবে এই বাড়তি নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, সেটাও খতিয়ে দেখা হবে। সেক্ষেত্রে সরকারি কর্মী সহ কারচুপিতে জড়িত বাকিদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।  জেলাশাসক বিবেক কুমার এপ্রসঙ্গে বলেন, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার চালু করার আগে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রাপকদের তালিকা যাচাই চলছে।

    মন্ত্রিসভার বৈঠকে ১ জুন থেকেই প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার চালু করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। দেওয়া হবে মাসে তিন হাজার টাকা। তবে, তার আগে অন্যান্য জেলার মতো উত্তর দিনাজপুর প্রশাসনকেও প্রাপকদের তালিকা পুঙ্খানুপুঙ্খ খতিয়ে দেখার জন্য বলা হয়েছে। স্বাভাবিকভাবে, রাজ্যের নির্দেশে জেলার সংশ্লিষ্ট বিভাগের তরফে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রাপকদের তালিকা খতিয়ে দেখার কাজ শুরু হয়েছে জোরকদমে।

    দেখা হচ্ছে, আগের কোনো প্রাপকের নাম এসআইআরে বাদ পড়েছে কি না? তালিকায় অতিরিক্ত নাম ঢুকে আছে কি না? মৃতদের নাম এবং কেউ অন্য জেলায় চলে গিয়েছেন কি না, সেসব খুঁটিয়ে দেখা হচ্ছে। কিন্তু শুরুতেই ভুয়ো নামের তথ্য হাতে পেয়ে চক্ষু চড়কগাছ হওয়ার উপক্রম।

    পরিসংখ্যান অনুযায়ী, উত্তর দিনাজপুরে মহিলা ভোটারের সংখ্যা ৯ লক্ষের বেশি। এর মধ্যে ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সী ভোটার ৬ লক্ষ ৮২ হাজার। তাঁদেরই লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাওয়ার কথা। দেখা যাচ্ছে, নির্ধারিত এই বয়স সীমার ভোটারদের থেকেও বেশি মহিলা তালিকায় নথিভুক্ত আছেন। সরকারি সূত্র অনুযায়ী, নির্ধারিত বয়সের ভোটারদের তুলনায় ১ লাখ ২৪ হাজার জন অতিরিক্ত মহিলা, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের তালিকায় নথিভুক্ত আছেন। আর এখানেই প্রশ্ন, ভোটার তালিকার থেকেও প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের সংখ্যা বেড়ে গেল কী করে? 

    এসআইআরে অ্যাডজুডিকেশনে থাকা মহিলাদের মধ্যে যাঁরা ভোটার তালিকায় নাম তোলার আবেদন করেছেন, তাঁরা অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার পাবেন। না করে থাকলে প্রকল্পের সুবিধা আপাতত মিলবে না। এছাড়া এখনও যে সমস্ত যোগ্য মহিলা অতীতে আবেদন করেননি, তাঁদের জন্য পোর্টাল চালু করবে সরকার। সেখানেই তাঁরা নাম নথিভুক্ত করতে পারবেন। তথ্যগত অসংগতি না পাওয়া গেলে তাঁরাও ধাপে ধাপে অন্তর্ভুক্ত হবেন প্রকল্পে। 
  • Link to this news (বর্তমান)