• বেআইনি বালি খাদান নিয়ে ক্ষোভ জোগান নিয়ে উদ্বেগ, দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা
    বর্তমান | ২২ মে ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: বেআইনি বালি খাদানের রমরমায় গত কয়েক বছর বাঁকুড়াবাসী তিতিবিরক্ত হয়েছেন। সরকার পরিবর্তন হতেই দিকে দিকে বেআইনি খাদানের বিরুদ্ধে জনরোষ আছড়ে পড়েছে। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে বৈধ খাদানগুলিও সাময়িক বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেন মালিকরা। জেলা ভূমিদপ্তরের তরফে বৈধ খাদান মালিকদের ‘ধীরে চলতে’ বলা হয়। ক্ষোভ-বিক্ষোভের আশঙ্কায় বৈধ খাদান মালিকরা বালি উত্তোলন করতে সাহস পাচ্ছেন না। কোথাও কোথাও সামান্য উত্তোলন হলেও তা চাহিদার তুলনায় অনেক কম। এই পরিস্থিতিতে জেলায় বালির দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা করা হচ্ছে। এমনিতেই বর্ষায় বালি ঘাট বন্ধ থাকে। তখন নতুন করে বালি তোলা সম্ভব নয়। ফলে গ্রীষ্মের মরশুমে বালি উত্তোলন বন্ধ থাকলে দামে প্রভাব পড়তে বাধ্য বলে ওয়াকিবহাল মহলের অভিমত। দামবৃদ্ধির পাশাপাশি বালি উত্তোলন কমে গেলে সরকারের রাজস্ব কমে যাবে। এই পরিস্থিতিতে কড়া নজরদারির আওতায় বালি তোলার ব্যাপারে ছাড়পত্র দেওয়ার দাবি খাদান মালিকরা জানিয়েছেন।  

    বাঁকুড়া জেলা ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, ভোট ঘোষণার পর থেকেই বালি উত্তোলনের পরিমাণ কমতে থাকে। ওই সময় একাধিক বালিঘাট সংলগ্ন এলাকায় নাকা চেকিং হয়। ফলে তাতে বিঘ্ন ঘটা আটকাতে বালি পরিবহণে রাশ টানা হয়। রাজ্যে পালা বদলের সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভের আশঙ্কা করা হয়। কিছু জায়গায় বিক্ষোভ দেখানো হয়। সেই কারণে আমরা খাদান থেকে বালি তোলায় সাময়িক নিয়ন্ত্রণ জারি করি। তবে এখন বালি উত্তোলনে কোনো বাধা নেই। বৈধভাবে খাদান মালিকরা তা করতে পারেন। কোনো অসুবিধা নেই।

    প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বালি খাদান সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা এমনিতেই গত কয়েকবছর ধরে নানা ভোগান্তি সহ্য করছেন। বালি ভরতি যানবাহনের চাপে এলাকার রাস্তাঘাট ভেঙেচুরে গিয়েছে। সরকার এলাকা থেকে রাজস্ব পেলেও রাস্তা সংস্কার করেনি বলে অভিযোগ। বালি বোঝাই ট্রাক, ডাম্পারের বেপরোয়া গতিতে অনেক জায়গায় দুর্ঘটনাও ঘটেছে। ছাত্রছাত্রী, শিশু ও বয়স্কদের চলাচলের ক্ষেত্রে বালি গাড়ি অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। বিভিন্ন কারণে এতদিন ধরে চুপ করে থাকা লোকজন এবার বালি খাদান মালিকদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিতে শুরু করেছেন। কেউ কেউ আবার ‘রফা’ করার জন্যও খাদান মালিকদের উপর চাপ সৃষ্টি করছে। ‘মওকা’ বুঝে এলাকার ক্লাব সদস্যরা খাদান মালিকদের কাছ থেকে কিছু আদায় করে নেওয়ার মতলব করেছে। বিভিন্ন জায়গায় নতুন নতুন মাতব্বর মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। তারাও খাদান মালিকদের আলাদাভাবে ‘বসার’ প্রস্তাব দিচ্ছে। তাদের খুশি করতে পারলে বালি উত্তোলনে কোনো সমস্যা হবে না বলে অভয় দেওয়া হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে পুলিশ ও প্রশাসনকে সক্রিয় হতে হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে। বাঁকুড়ায় বালি খাদান।-নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)