• অন্নপূর্ণা যোজনা প্রকল্পের টাকা ছাড়ার আগে কড়া যাচাই, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে ভুয়ো উপভোক্তা খুঁজতে তদন্ত শুরু
    বর্তমান | ২২ মে ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: অন্নপূর্ণা যোজনা চালুর আগে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের উপভোক্তাদের তালিকা যাচাই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে নদীয়া জেলায়। কারা নতুন প্রকল্পের সুবিধা পাবেন এবং কারা বাদ পড়বেন, তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক স্তরে তদন্ত শুরু হয়েছে। জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, রাজ্য সরকারের নির্ধারিত শর্ত মেনেই উপভোক্তাদের তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, সরকারি প্রকল্পের তালিকা স্বচ্ছ রাখা এবং প্রকৃত উপভোক্তাদের চিহ্নিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেই অনুযায়ী তদন্ত চলছে।

    তৃণমূল সরকারের আমলে নদীয়া জেলায় প্রায় ১৪ লক্ষ মহিলা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছিলেন। তবে সাম্প্রতিক এসআইআর প্রক্রিয়ার জেরে বহু মহিলার নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। তাঁদের মধ্যে অনেকেই লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের উপভোক্তা ছিলেন। ফলে নতুন অন্নপূর্ণা যোজনায় কারা সুবিধা পাবেন, সেই প্রশ্ন উঠছিল। বিশেষ করে মৃত, স্থানান্তরিত এবং অনুপস্থিত ভোটারদের নাম চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়েছে ব্লক ও মহকুমা স্তরে।

    রাজনৈতিক মহলের মতে, বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি মহিলাদের জন্য মাসিক তিন হাজার টাকা আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। ক্ষমতায় আসার পর সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করতেই ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ চালুর ঘোষণা করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই সরকারি নোটিফিকেশন প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে জানানো হয়েছে, বর্তমানে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সমস্ত উপভোক্তাকে অন্নপূর্ণা যোজনায় স্থানান্তর করা হবে। তবে তার আগে পুনরায় তালিকা যাচাই করা হবে। ভুয়ো বা অযোগ্য উপভোক্তাদের নাম বাদ দেওয়া হবে।

    সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সী মহিলারা এই প্রকল্পের আওতায় আসতে পারবেন। প্রতি মাসে তিন হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা সরাসরি আধার-সংযুক্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ডিবিটির মাধ্যমে পাঠানো হবে। আগামী ১ জুন, ২০২৬ থেকে এই প্রকল্প কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।

    তবে প্রকল্পে অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে একাধিক শর্ত আরোপ করেছে নতুন বিজেপি সরকার। সরকারি চাকরিজীবী, পেনশনভোগী, সরকারি সংস্থা, পঞ্চায়েত, পুরসভা বা সরকার-পোষিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীরা এই সুবিধা পাবেন না। একইসঙ্গে আয়করদাতারাও এই প্রকল্পের বাইরে থাকবেন। প্রশাসনের দাবি, প্রকৃত আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা মহিলাদের কাছে সুবিধা পৌঁছে দিতেই এই বাছাই প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে।

    সরকারি নোটিফিকেশনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, মৃত, স্থানান্তরিত, এসআইআর চলাকালীন অনুপস্থিত ভোটার হিসেবে চিহ্নিত কিংবা খসড়া তালিকা প্রকাশের পর বাদ পড়া উপভোক্তাদের নতুন প্রকল্পের আওতায় আনা হবে না। ট্রাইবুনালে বাদ পড়া এবং মৃত হিসেবে চিহ্নিতদেরও তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে।

    প্রশাসনিক সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, যেসব উপভোক্তা এসআইআর ট্রাইবুনালে আবেদন করেছেন অথবা নাগরিকত্ব আইনের অধীনে আবেদন জমা দিয়েছেন, তাঁদের আবেদন নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা স্থগিত রাখা হবে। ফলে উপভোক্তাদের তথ্য যাচাইয়ের ক্ষেত্রে ভোটার তালিকা, আধার তথ্য এবং প্রশাসনিক নথি মিলিয়ে দেখা হচ্ছে।

    ইতিমধ্যেই জেলা প্রশাসনের তরফে ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসার এবং শহরাঞ্চলের সাব-ডিভিশনাল অফিসারদের  বিশেষ নির্দেশ পাঠানো হয়েছে। গ্রামীণ ও শহরাঞ্চলে আবেদন যাচাই করে যোগ্য উপভোক্তাদের তালিকা তৈরি করা হবে এবং তা জেলাশাসকের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে।
  • Link to this news (বর্তমান)