জানুয়ারি থেকে আক্রান্ত ১৪১ জন, কয়েক পশলা বৃষ্টিতেই জেলায় ডেঙ্গুর প্রকোপ
বর্তমান | ২২ মে ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: ভ্যাপসা গরমের মধ্যে কয়েক পশলা বৃষ্টিতে স্বস্তি মিলছে। তবে এই বৃষ্টির জলেই কিন্তু জন্ম নিচ্ছে মশার লার্ভা। পরিণতিতে বাড়ছে ডেঙ্গু। যা নিয়ে যথেষ্ট উদ্বিগ্ন স্বাস্থ্য দপ্তর। ইতিমধ্যেই মুর্শিদাবাদ জেলায় ১৪১ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। জানুয়ারি থেকে এখনও পর্যন্ত আক্রান্তের পরিসংখ্যান জানিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর। যদিও অন্য বছরের তুলনায় এই পরিসংখ্যান যথেষ্ট আশাপ্রদ বলেই দাবি স্বাস্থ্য কর্তাদের। তবে প্রথম থেকেই সতর্ক থাকতে হবে। প্রতি বছর মুর্শিদাবাদ জেলায় হাজার খানেক মানুষ ডেঙ্গু আক্রান্ত হন। ধারাবাহিকভাবে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটে। বাড়ির আশপাশে যাতে জঞ্জাল না জমে এখন থেকেই সেদিকে সতর্ক থাকতে বলছে স্বাস্থ্য দপ্তর।
জেলার স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে খবর, চলতি বছরের ১৪১ দিনের বেশি অতিক্রান্ত । এখনও পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন জেলার মোট ১৪১ জন। অর্থাৎ দৈনিক গড় আক্রান্তের সংখ্যা একজনের কাছাকাছি। এই পরিসংখ্যানে নড়েচড়ে বসেছে স্বাস্থ্যদপ্তর।
প্রতিবছর বর্ষার মরশুমে এই রোগ মাথাচাড়া দেয়। গোটা রাজ্যের মধ্যে আক্রান্তের পরিসংখ্যানে মুর্শিদাবাদ জেলা প্রথম দিকেই থাকে। মশার প্রভাব কমাতেই শুরু হয় অভিযান। এখন থেকেই পুরসভাগুলিকে সতর্ক করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। ইতিমধ্যেই ডেঙ্গু প্রতিরোধে নানা পদক্ষেপ করতে শুরু করেছে জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দপ্তর। খুব তাড়াতাড়ি জলাশয়গুলিতে ছাড়া হবে গাপ্পি মাছ। বেশকিছু জায়গায় এখন থেকে আবার ছড়ানো হচ্ছে ব্লিচিং পাউডার।
মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালেই প্রতিবছর হাজার খানেক ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি হন। ইতিমধ্যে চিকিৎসকরা এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার আগেই সচেতনতার বার্তা দিচ্ছেন। হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের এক চিকিৎসক বলেন, ডেঙ্গু একটি ভাইরাসজনিত রোগ। এডিস ইজিপ্টাই মশার কামড়ে এই ভাইরাস ছড়ায়। সাধারণত মশার কামড়ের ৩ থেকে ১৪দিন পর উপসর্গ দেখা দেয়। ডেঙ্গুর সবচেয়ে সাধারণ লক্ষ্ণণ জ্বর। অন্য উপসর্গের মধ্যে রয়েছে বমিবমি ভাব, পেটে ব্যথা, শরীরে ব্যথা, নাক দিয়ে রক্ত পড়া প্রভৃতি। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের যতটা সম্ভব বিশ্রাম নেওয়া উচিত এবং প্রচুর জল খেতে হবে। জ্বর নিয়ন্ত্রণ ও ব্যথা উপশমের জন্য প্যারাসিটামল খেতে হবে। চিকিৎসকরা আরও বলছেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই শুরুতে ডেঙ্গুর কোনো লক্ষ্ণণই দেখা যায় না। ফলে অনেকের শরীরে মারাত্মক প্রভাব পড়ে। কিন্তু অন্যান্য ক্ষেত্রে, ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণগুলি মশার কামড়ের চার থেকে দশদিন পরে দেখা দিতে শুরু করে। যার কারণে রক্ত পরীক্ষা করাতে হয়। এতে শরীরে প্লেটলেট কমতে শুরু করে এবং রক্তপাতের আশঙ্কা থাকে। তাই আগেভাগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।