• আশঙ্কাই সত্যি! গ্রেপ্তার প্রদীপ কর ও তরুণ মিশ্র, ঘটনায় মুখে কুলুপ তৃণমূল নেতাদের
    বর্তমান | ২২ মে ২০২৬
  • সংবাদদাতা, খড়্গপুর: রাজ্যে শাসন ক্ষমতার পালাবদলের পর থেকেই নানা অভিযোগে একের পর এক তৃণমূল নেতা ও জনপ্রতিনিধির গ্রেপ্তারি হয়েই চলেছে। পশ্চিম মেদিনীপুরেও কুমারেশ ভুঁইয়া, খলিল মল্লিকের মতো ডাকাবুকো নেতাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার পুলিশের জালে পড়ল ডেবরা ও সবংয়ের দুই ডাকাবুকো তৃণমূল নেতা ও জনপ্রতিনিধি। এদিন সকালে জনজাতি অত্যাচার প্রতিরোধ আইনে (পোয়া) গ্রেপ্তার করা হয়েছে ডেবরা ব্লক তৃণমূলের সভাপতি তথা পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি প্রদীপ করকে। এরপর দুপুর নাগাদ গ্রেপ্তার করা হয় সবং পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত ও পরিবহণ স্থায়ী সমিতির কর্মাধ্যক্ষ তথা তৃণমূলের যুব নেতা তরুণ মিশ্রকে। প্রদীপকে এদিনই খড়্গপুর মহকুমা আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। তরুণকে শুক্রবার আদালতে পেশ করা হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

    ক্ষমতায় আসার পরই বিজেপি সরকারের নির্দেশে খোলা হয়েছে একুশের ভোট পরবর্তী হিংসা মামলাগুলির ফাইল। বৃহস্পতিবার সেই রকম মামলাতেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে মানস ভুঁইয়া ঘনিষ্ঠ সবংয়ের যুব নেতা তথা পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত ও পরিবহণ কর্মাধ্যক্ষ তরুণ মিশ্রকে। সবংয়ের নির্বাচন শেষ হয়ে যাওয়ার পর তরুণবাবুকে কলকাতায় গিয়ে প্রচার করতেও দেখা গিয়েছিল। সবংয়ের বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ তথা ঘাটাল সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সহ সভাপতি অমূল্য মাইতি বলেন, ‘একুশের বিধানসভা নির্বাচনের পর আমাদের বিজেপি কর্মীদের উপর অকথ্য অত্যাচার, নির্যাতন করা হয়েছে। বহু কর্মী ঘরছাড়া ছিলেন। তৃণমূলের যাঁরা এসবের নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাঁদের তো গ্রেপ্তার হতেই হবে।’ সবং ব্লক তৃণমূলের সভাপতি আবু কালাম বক্স বলেন, ‘পুরানো মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানতে পেরেছি। আমরা আইনের উপরই ভরসা রাখছি।’

    অন্যদিকে, জনজাতি অত্যাচার প্রতিরোধ আইনে গ্রেপ্তার হয়েছেন ডেবরা ব্লক তৃণমূলের সভাপতি তথা পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি প্রদীপ কর। বুধবার বেশ রাতে তাঁকে বালিচকের বাড়ি থেকে আটক করা হয় বলে জানা গিয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে মেদিনীপুর আদালতে পেশ করা হয়। পুলিশ তাঁকে নিজেদের হেফাজতে চাইলেও আজ শুক্রবার ফের শুনানির দিন ধার্য করেন বিচারক। ফলে বৃহস্পতিবারও প্রদীপবাবুকে জেলেই রাত কাটাতে হবে বলে জানা গিয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই মামলাটিও এক বছর আগেকার। তফসিলি সম্প্রদায়ের এক যুবক প্রদীপের বিরুদ্ধে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। সেই মামলায় এতদিন পর গ্রেপ্তার করায় তৃণমূলের তরফে প্রতিহিংসার অভিযোগ আনা হচ্ছে। প্রদীপবাবু ঘনিষ্ঠ এক তৃণমূল কর্মী বলেন, ‘যে যুবক এই অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। প্রদীপদা একসময় তাঁর অনেক উপকার করেছিলেন। ডেবরায় তৃণমূলের অন্য এক গোষ্ঠীর মদতেই ওই যুবক প্রদীপদার নামে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন।’ বিজেপি নেতা তথা ডেবরা পঞ্চায়েত সমিতির বিরোধী দলনেতা রতন দে বলেন, ‘উনি (প্রদীপ কর) অনেক দুর্নীতি ও অন্যায় কাজের সঙ্গে যুক্ত। বহু বেআইনি সম্পত্তি করেছেন। এটা তো হওয়ারই ছিল।’ অন্যদিকে, এদিনই ডেবরায় পৌঁছে প্রদীপের ‘কাটা ঘায়ে নুনের ছিটে’ দিয়েছেন প্রাক্তন আইপিএস তথা ডেবরার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। তিনি বলেন, ‘আরও আগেই গ্রেপ্তার হওয়া উচিত ছিল। দুর্নীতি করে করে ডেবরায় তৃণমূলটাকে শেষ করে দিয়েছিলেন উনি।’  তরুণ মিশ্র (বাঁদিকে), প্রদীপ কর (ডানদিকে)। নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)